ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) টুর্নামেন্ট থেকে পাওয়া লভ্যাংশের দাবীতে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে নতুন চুক্তিপত্রে সাক্ষর করতে আবারো অস্বীকৃতি জানিয়েছেন শ্রীলংকার ক্রিকেটাররা। তবে শ্রীলংকা ক্রিকেটের (এসএলসি) সচিব নিশান্ত রানাতুঙ্গা খেলোয়াড়দের এই দাবীকে অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এদিকে এশিয়া কাপের ফাইনাল উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবারই ঢাকায় এসে পৌছেছেন নিশান্ত, অরবিন্দ ডি সিলভা এবং প্রধান নির্বাচক সনাত্ জয়াসুরিয়া। ধারণা করা হচ্ছে গত বছরের মতো এবারও জয়াসুরিয়া এই বোর্ড-খেলোয়াড়দের মধ্যকার অচলাবস্থা নিরসনে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন।
গত বছরের মার্চের শেষ নাগাদও বোর্ডের কাছ থেকে আইসিসি ইভেন্টগুলোর শতকরা ২৫ ভাগ পেতেন লঙ্কান খেলোয়াড়রা। তবে নতুন চুক্তিতে বাদ দেয়া হয় এই অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি। ফলে চুক্তি সাক্ষরে বেঁকে বসেন খেলোয়াড়রাও। তবে জয়াসুরিয়ার মধ্যস্থতায় মাত্র এক দিন পর চুক্তি সাক্ষরে রাজি হলেও তারা জানিয়ে দেন পরবর্তী বছর থেকে তারা আবারো পুরনো নিয়মানুযায়ী আইসিসি ইভেন্টের লভ্যাংশ চান। গত সপ্তাহে পুরনো চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার পরে তাই স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়রা আবারো উচ্চকিত হয়েছেন তাদের পুরনো দাবীতে। এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা দলটির খেলোয়াড়রা বোর্ডের নতুন চুক্তিপত্রেও সাক্ষর করেননি।
নিজে খেলোয়াড় থাকাকালীন সময়েও বোর্ডের লভ্যাংশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভাগ করার দাবীতে সরব ছিলেন জয়াসুরিয়া। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই জয়াসুরিয়ার সমর্থন খেলোয়াড়দের পক্ষেই। আগেরবার সমস্যা সমাধানে জয়াসুরিয়ার দ্বারস্থ হওয়া ক্রিকেটাররা এবারও এই সাবেক তারকার কাছে ঢাকার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগেই নিজেদের দাবীর কথা লিখিতভাবে জানিয়ে এসেছেন। জয়াসুরিয়া জানালেন বিষয়টি ইতোমধ্যেই বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন তিনি, ‘আমি চিঠিটি বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করতে পারি না। তবে এটির বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বোর্ডের সব সদস্যকেই আমি জানিয়েছি।’
এদিকে খেলোয়াড়দের এই দাবীকে রীতিমতো অযৌক্তিক হিসাবে ঘোষনা করেছেন এসএলসি সচিব রানাতুঙ্গা। তিনি বলেন, ‘বোর্ডের তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে যারা প্রথম শ্রেনীতে আছেন তারা কেবল চুক্তি এবং ম্যাচ ফি বাবদই বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি রূপী ( প্রায় সোয়া চার লাখ মার্কিন ডলার) আয় করবেন। যদি এই টাকাও যথেষ্ট না হয়, তাহলে আমার ধারণা তাদের ক্রিকেট না খেলে অন্য কিছু করা উচিত্। আর এর বাইরেও তাদের জন্য পারফরম্যান্স বোনাস এবং প্রাইজমানি তো থাকছেই।’
রানাতুঙ্গা আরো বলেন, ‘আমরা তাদের বীমা খরচ দিচ্ছি। তাদের অনুশীলন সুবিধা, প্রশিক্ষন এবং অবকাঠামোগত সুবিধার জন্য প্রশিক্ষক, ফিজিও কিংবা কোচের খরচও আমরাই বহন করছি। তাছাড়া নতুন চুক্তিতে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বোনাসের পরিমান আমরা ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি।’
