বার্বাডোজে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার ক্রিস গেইল নিজেকে শতকরা ‘৯৯ ভাগ ফিট’ ঘোষণা করেছেন। ছোট দৈর্ঘ্যের খেলায় ক্যারিবীয় দলকে দারুণ প্রতিভাবান মানলেও আগামী ১৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরো উন্নতি করতে হবে বলেও স্বীকার করেন আক্রমণাত্মক এই ব্যাটসম্যান।
বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলা আর চোট সমস্যার কারণে গত নভেম্বরে ভারতের বিরুদ্ধে শচিন টেন্ডুলকারের বিদায়ী সিরিজের পর থেকেই মাঠের বাইরে থাকা গেইল কথা বলেছেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে তার সম্ভাবনা বিষয়েও। লম্বা এক বিরতি শেষে সমর্থকরা সেই পুরনো-বিধ্বংসী এই গেইলকেই দেখতে পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী এই ৩৪ বছর বয়সী। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে গেলে বেশকিছু দিন যাবত্ আমি ক্রিকেটের মধ্যে নেই— এমনকি খেলা দেখছি না। তবে বেশকিছু দিন যাবত্ আমি শারীরিকভাবে বেশ ভালো বোধ করছি এবং মাঠে নামার জন্য আমার তর সইছে না। আমি জনগণকে বড় রান উপহার দিতে চাই এবং আমি মনে করছি নিজ মাঠে দর্শকদের সমর্থন পেয়ে এখানেই ভালো করার সময়।’
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে এগিয়ে গেলেও পরের দুটি ম্যাচ হেরে সিরিজ হারে স্বাগতিকরা। তবে খেলার দৈর্ঘ্য যত ছোট হবে ক্যারিবীয়দের শক্তিমত্তা ততই বাড়বে বলে মনে করছেন গেইল। টি-টোয়েন্টি শিরোপাধারী ক্যারিবীয় দলের এই সদস্য বলেন, ‘সীমিত ওভারের গত কয়েকটি ম্যাচে আমাদের ফল খুব বেশি ভালো হয়নি। তবে উভয় (ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ) দলকেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যদিয়ে সময় পার করতে হচ্ছে। কিছুদিন বিশ্রাম পাওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই ভালো বোধ করছি।’
গেইল বলেন, এন্টিগায় ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ ম্যাচে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন-আপে উন্নতি করা দরকার। বাংলাদেশে যাওয়ার আগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফতুল্লায় ১৮ মার্চের ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে ক্যারিবীয়দের শিরোপা ধরে রাখার লড়াই।
তিনি বলেন, ‘সমপ্রতি আমাদের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। আমি মনে করি, উইকেটে আমাদের আরো বেশি সময় টিকে থাকা দরকার এবং আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জয়। শেষ দিকে বোলিং করার মতো সুনিল নারাইন ও রবি রামপলের মতো সুশৃংখল বোলারও আমাদের রয়েছে।’
গেইলের হিটিং পাওয়ারের সঙ্গে মারলন স্যামুয়েলসের ফেরাটা কাইরন পোলার্ডের শূন্যস্থান পূরণে সহায়ক হবে। পোলার্ডকে হারানোটা ‘দলের জন্য বড় ক্ষতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন গেইল। ২০১২ সালে শ্রীলংকায় শিরোপা জয়ের অন্যতম রূপকার এবার না থাকায় কিছুুটা অসন্তুষ্ট তিনি।
গেইল বলেন, ‘মারলন দলে ফিরেছে। কিন্তু আমরা সবাই জানি পলি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে এবং তার মতো একজন খেলোয়াড় দলে না থাকলে আপনার খারাপ লাগবেই। তবে আমাদের দলে বেশকিছু মেধাবী খেলোয়াড় যেহেতু আছে আমরা সেখানে যাবো এবং জয়ের জন্য দলগতভাবেই খেলবো। আমাদের দলে এক অথবা দু’জন নতুন মুখও আছে।’
ইংল্যান্ড দল থেকে জোর করে কেভিন পিটারসেনকে বাদ দেয়ার অবধারিত প্রশ্নের জবাবও এড়িয়ে যাননি গেইল। তিনি বলেন, পিটারসেনকে ছাড়া অবশ্যই ইংলিশ দলটি দুর্বল হয়ে গেছে এবং পিটারসেনের প্রতি ইংল্যান্ডের ব্যবহারকে ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে অভিহিত করেন।
‘কেপি সেরাদের একজন। যেকোন দলই তাকে রাখতে চাইবে। তার সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘অসম্মানজনক’ বলে আমি মনে করি এবং যেভাবে সে বেড়িয়ে গেছে তাতে পর্দার আড়ালে কি ঘটেছে তা কেউ জানে না। তাকে মাঠে মোকাবিলা করতে না হওয়ায় আমি খুশি। তিনি একটি বড় সম্পদ এবং আমি আশা করছি, তিনি আবারো ইংল্যান্ড দলে ফিরবেন।’
পিটারসেন এবং জো রুটকে হারানোটা ইংল্যান্ড টি-২০ দলের জন্য বড় ক্ষতি বলে উল্লে¬খ করেন তিনি। তবে তার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সমস্যা যেমন শেষ হয়েছে— ঠিক তেমনভাবেই একদিন পিটারসেন আবার দলে ফিরবেন বলে মনে করছেন তিনি। বাসস/এএফপি।
