আদালত অবমাননার অভিযোগে দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, পত্রিকাটির প্রকাশক একে আজাদ, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহীউদ্দিন, পত্রিকাটির প্রকাশক শামসুল হুদা, রিপোর্টারদের শীর্ষ সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বরিশাল বিভাগ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। ঐ বিবৃতি প্রকাশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না এই মর্মে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। তবে শাহেদ চৌধুরী এবং ইলিয়াস খান ছাড়া অন্যদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়নি। এই দু’জনকে বুধবার সাড়ে ১০টায় হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেয়। বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানিতে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদের দেয়া বক্তব্যের কিছু অংশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিবৃতি দেয় কয়েকটি সাংবাদিক সংগঠন। সমকাল এবং নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ঐ বিবৃতি প্রকাশের বিষয়টি গতকাল আদালতের নজরে আনেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। এ বিবৃতি আদালত অবমাননাকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমি বেশিরভাগ আদালত অবমাননার মামলায় সাংবাদিকদের পক্ষে ছিলাম। গত সপ্তাহেও আপিল বিভাগে সংবাদপত্রের পক্ষে শুনানি করেছি। মানবজমিন কেসেও মানবজমিনের পক্ষে ছিলাম। শুনানি শেষে আদালত এ নিয়ে রুল জারি করে।
এদিকে, গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের ওপর শুনানি হয়। বেলা ২টা ৪০ মিনিটে শুরু হয়ে ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এ শুনানি চলে। ২টা ২০ মিনিট থেকে শুনানি শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরোটা সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান খান। আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকের অনুরোধে বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে তাকে কাঠগড়ায় একটি চেয়ারে বসতে দেয়া হয়। গতকালও আদালত অবমাননার অভিযোগের পক্ষে এবং প্রথম আলোর বিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এডভোকেট আহসানুল করিম, এডভোকেট সালাহউদ্দিন দোলন প্রমুখ।
আহসানুল করিম শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, মিজানুর রহমান খান স্বভাবগতভাবেই একজন আদালত অবমাননাকারী। এরআগেও তিনি বিচারপতিদের বিরুদ্ধে লিখেছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি আদালত অবমাননার রুল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। দীর্ঘ দিনেও এসব রুলের শুনানি হয়নি। এমনকি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধেও লিখেছেন। তিনি বলেন, এ বেঞ্চের দুই বিচারপতিকে নিয়ে মন্তব্য প্রতিবেদন লেখায় এ বেঞ্চের এখতিয়ার রয়েছে এ নিয়ে আদালত অবমাননার রুলের শুনানি গ্রহণ করার। মাহমুদুর রহমান আপিল বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে লিখেছিলেন। ঐ আদালতই তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার শুনানি গ্রহণ করেছিল।
এডভোকেট সালাহউদ্দিন দোলন বলেন, বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্যই এ প্রতিবেদন লেখা হয়েছে। পরে আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়। মিজানুর রহমান খানকে আজও শুনানিতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।
