নির্বাচনের আগে ফেঁসে গেলেন আনোয়ার ইব্রাহীম

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৩৫
সামনে সিলাঙ্গানা প্রদেশের নির্বাচন। সব কিছু ঠিকঠাক। মালয়েশিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহীমের প্রচার প্রচারণার সময়-সূচি পাকাপোক্ত, গোছালো। জনসমর্থন ও আগাম জরিপ সবই তাঁর পক্ষে। কিন্তু প্রচারণার শেষ মুহূর্তে সব কিছু যেন উলোটপালোট করে দিলো আদালতের এক রায়। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো হঠাত্ করেই পুরোনো মামলা চাঙ্গা। সমকামিতার অভিযোগে আনোয়ার ইব্রাহীমকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয় আদালত, যদিও সর্বোচ্চ আদালত এর আগে একই মামলায় তাকে অব্যাহতি দিয়েছিল। বহু চড়াই উত্রাই পেরিয়ে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম ২০১৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে সবচেয়ে ভাল ফলাফলের দেখা পান, যা গত ৫৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সুবিধাভোগীদের জন্য বেশ ভয়ের কারণ। ক্ষমতাসীন দলের প্রধান চ্যালেঞ্জার যে এখন আনোয়ার ইব্রাহীম, তা আর বুঝতে কারো বাকি নেই। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৩ সালের নির্বাচনে বেশ ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করেন আনোয়ার। ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাশনাল কোয়ালিশন পার্লামেন্টের ২২২টি আসনের মধ্যে পায় ১৩৩টি। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করায় সরকার গঠন করে এই জোট। কিন্তু দেখা যায়, ২০১৩ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট এ যাবত্কালের সবচেয়ে খারাপ ফল লাভ করে। জয়ী হলেও ঐ নির্বাচন আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বেশ জোরেশোরে। সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনের কারচুপি ও জাল ভোটের অভিযোগ এনে রাস্তায় বের হয় বিরোধী জোটের হাজার হাজার সমর্থক। আনোয়ার ইব্রাহীম নিজেও একজন বারিসান ন্যাশনাল জোটের সদস্য ছিলেন। কিন্তু শীর্ষ নেতাদের সাথে ঐকমত্য না হওয়ার কারণে ১৯৯৮ সালে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরই ২০০০ সালে তাকে তার স্ত্রীর গাড়ি চালকের সাথে সমকামিতার অভিযোগ আনা হয়। ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য তাকে ছয় বছরের জেল দেয়া হয়। সেদিনও আনোয়ার ইব্রাহীমের পক্ষে রাজপথে দাঁড়ায় তার অগণিত সমর্থক। ২০০৪ এর শেষ নাগাদ মালয়েশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতার অভিযোগ থেকে আনোয়ার ইব্রাহীমকে মুক্তি দেয়। এরপর তিনি বিরোধী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ ও ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি বেশ ভাল করেন। আদালতের রায়ে চলতি মাসেই অন্যতম প্রধান সেলাঙ্গানার নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আনোয়ার ইব্রাহীমের জয় মানেই তিনি সেলাঙ্গানা মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। আর তা হতে পারলে রাজনীতিতে তার প্রভাব আরো বাড়বে। এদিকে, মুসলমান সংখ্যাধিক্য মালয়েশিয়ায় সমকামিতা বেআইনী হলেও খুব কম ব্যক্তির বিরুদ্ধেই এই ধরনের মামলা রয়েছে। তবে শুরু থেকেই আনোয়ার ইব্রাহীম বলে আসছেন, ২০০৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার অপপ্রচার। তবে আদালত জানিয়েছে, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে জামিনে মুক্ত থাকবেন ইব্রাহীম। ইব্রাহীম জানান, পনেরো বছর পরও প্রতিপক্ষরা তাকে কারাগারে দেখতে চায়। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ সবের জন্য প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক অচিরেই জনগণের রোষাণলে পড়বে। তবে সরকার বলছে, সমকামিতার অভিযোগ দু’জন ব্যক্তির সাথে জড়িত। যা আদালতের বিষয়, সরকারের নয়।