সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষ নিজেকে দাবি করলেও হত্যার মতো পশু প্রবৃত্তি থেকে আজও সে মুক্ত হতে পারেনি। বরং সভ্যতার অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকান্ডের ধরন-ধারণে নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে। অতি তুচ্ছ কারণে অথবা কোন কারণ ছাড়াই একজন মানুষ অন্য একজনকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করছে। শুধু পূর্ণবয়স্করাই নয়, হত্যার মতো জঘন্যতম এই অপরাধ প্রবণতা থেকে মুক্ত নয় শিশুরাও। এমনই কয়েকজন শিশু ও তাদের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরবো আজ।
‘গুডি-গুডি’ বলায় সহপাঠিকে খুন!
২০০৪ সালের ১ জুন জাপানের একটি স্কুলে ঘটে যায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ক্লাসের ভালো ছাত্রীটি (১১) খুন করে বসে তার এক সহপাঠিকে। সাতোমি মিতাজারি (১২) নামে সেই মেয়েটির অপরাধ ছিল সে ঐ ভালো ছাত্রীকে ইন্টারনেটে মেসেজ পাঠিয়েছিল এই বলে- তুমি একটা মোটাসোটা ‘গুডি-গুডি’ মেয়ে। এ জন্য সেই ‘গুডি-গুডি’ মেয়েটি লাঞ্চব্রেকে সাতোমিকে ধরে বসে এবং দু’জনের মধ্যে বেধে যায় ঝগড়া। এক পর্যায়ে সে সঙ্গে আনা ছুরি দিয়ে গলা কেটে সাতোমিকে হত্যা করে। ভয়ংকর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে স্কুলেরই একটি খালি ক্লাসে। সাতোমিকে খুন করে রক্তমাখা কাপড়েই মেয়েটি তার ক্লাসে গিয়ে হাজির হয়। আর শিক্ষক তাকে তুলে দেন পুলিশের হাতে।
বয়ফ্রেন্ডকে মেনে না নেয়ায় বাবা-মা,
ছোট ভাইকে খুন!
মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল কানাডার আলবের্টা রাজ্যের মেডিসিন হ্যাট শহরে। বাবা-মার সামনে বয়ফ্রেন্ড জেরেমি স্টিঙ্ককে (২৩) এনে হাজির করে ১২ বছর বয়সী জেসমিন রিচার্ডস। জেরেমিকে দেখে পছন্দ হয় না জেসমিনের বাবা-মা’র এবং তারা সেটা জানিয়েও দেন। এতে ক্ষোভে-অপমানে ফেটে পড়ে জেরেমি। জেসমিনও বাবা-মা’র এতদিনের স্নেহ-ভালবাসা ভুলে বয়ফেন্ডের পক্ষই বেছে নেয়। ২০০৬ সালের ২২ এপ্রিল জেরেমি বাসায় ঢুকে খুন করে জেসমিনের বাবা-মাকে। আর জেসমিনকে হুকুম দেয় ছোট ভাইকেও খুন করতে। বয়ফ্রেন্ডের কথামত ছোট ভাইয়ের গায়েও ছুরি চালাতে দ্বিধা করে না জেসমিন। কিন্তু তাতেও মন ভরে না জেরেমি’র। জেসমিনের হাত থেকে ছুরি নিয়ে সে চালিয়ে দেয় ছেলেটির গলায়। জঘন্য এই অপরাধ করে অবশ্য পার পায়নি কেউই। দু’জনেই ধরা পড়ে যায় পুলিশের হাতে। বিচারে জেরেমিকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জেসমিনের হয় ১০ বছরের জেল। সেই সঙ্গে জেসমিনকে ৪ বছর মানসিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিত্সার নির্দেশও দেন বিচারক।
শাস্তির ভয়ে বাবাকে খুন!
২০০১ সালের ১ জুন। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসাকোলার ১০ মাইল দূরবর্তী ক্যান্টমেন্ট নামক এলাকার ঘটনা। বাড়ি থেকে না বলে চলে গিয়েছিল দুই ভাই অ্যালেক্স (১২) ও ডেরেক (১৩)। কয়েকদিন পর ফিরে এসে বাবার মুখোমুখি হতে হয় তাদেরকে। বাবা কোন কথা না বলে তাদের সামনে বসিয়ে দীর্ঘক্ষণ কড়াচোখে তাদের দিকে চেয়ে থাকেন। এতে দু’জনেরই মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং এক পর্যায়ে কঠিন শাস্তির ভয়ে তারা বাবাকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাতে বাবা ঘুমিয়ে পড়লে দুই ভাই বেসবল ব্যাট দিয়ে জন্মদাতাকে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। আর হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। তবে ভাগ্য ভালো দমকল বাহিনী সময়মতো এসে পড়ায় পুড়ে যাওয়ার আগেই মৃত ব্যক্তিকে অবিকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং ময়না তদন্তে বেরিয়ে আসে দু’ভাইয়ের জঘন্য অপকীর্তির কথা।
বাবার অন্তঃসত্ত্বা বাগদত্তাকে খুন
২০০৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার ওয়ামপুমে জর্দান ব্রাউন নামে ১১ বছরের একটি ছেলে গুলি করে মারে তার বাবার অন্তঃসত্ত্বা বাগদত্তাকে। ব্রাউনের ভয় ছিল বাবার নতুন সন্তান এসে তার জায়গা দখল করে নেবে। হিংসায় উন্মত্ত ব্রাউন শটগান দিয়ে গুলি করে মারে বিছানায় ঘুমন্ত কেনজি মারিকে। সেই সঙ্গে মারা যায় কেনজির গর্ভের শিশুটিও। নিষ্ঠুর মানুষ পৃথিবীর বুকে আসতে দিল না তাকে।
