একদিকে পুতিন অন্যদিকে বিশ্ব!

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৩৬
রাশিয়ায় সরকার, পার্লামেন্ট, কমিশন, কমিটি, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল সবই আছে। কিন্তু দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন মাত্র এক ব্যক্তি। তিনিই ক্ষমতার শীর্ষে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন রাশিয়া কোন পথে যাবে? সেজন্য মস্কোয় আসলে কী হচ্ছে এবং কী ঘটতে পারে সেই বিষয়ে বোঝা বড় মুশকিল। কারণ বুঝতে হলে ভ্লাদিমির পুতিনের মন বুঝতে হবে। তাই ইউক্রেন নিয়ে পুতিনের পরিকল্পনা তার পররাষ্ট্রনীতি এবং তার উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। ভ্লাদিমির পুতিন মনে করছেন, তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। ২০১১ সালে লিবিয়ার দিকে তাকালে দেখা যায়, মস্কো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে লিবিয়ার ওপর ‘নো ফ্লাই জোন’-এর বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু ন্যাটো বাহিনী দেশটিতে হামলা করে এবং সরকারের পরিবর্তন ঘটিয়ে এবং প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃত্যু হয়। রাশিয়া যা আশা করেছিল সেটি হয়নি। আর তাই দ্রুত দেশটি সিরিয়ায় অবরোধ আরোপের ক্ষেত্রে ভেটো প্রয়োগ করে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যে ৫টি দেশ ভেটো প্রয়োগ করতে পারে তার মধ্যে রাশিয়া একটি। পুতিন মনে করেন, ইউক্রেনের ক্ষেত্রেও তার সঙ্গে চাতুরি করা হয়েছে। গতমাসে পুতিন ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ এবং বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতার জন্য প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন। এর উদ্যোক্তা ছিলেন জার্মানি, ফ্রান্স এবং পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সেখানে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যাতে ছিল আগাম নির্বাচন, সংবিধান সংশোধন এবং একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন। ক্রেমলিনের প্রতিনিধি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি। তবুও রাশিয়া এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে এটা মেনে নেয়। কিন্তু ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ইয়ানুকোভিচ পার্লামেন্ট কর্তৃক অপসারিত হন এবং পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। আর এটা বিস্মিত করে মস্কোকে। পুতিন মনে করেন, পশ্চিমারা রাশিয়াকে অস্থিতিশীল এবং ব্যক্তিগতভাবে তাকে হেয় করতে রাত-দিন ষড়যন্ত্র করছেন। পুতিন ২০০৩ সালে জর্জিয়ায় ‘গোলাপ বিপ্লব’ এবং ২০০৪ সালে ইউক্রেনে ‘কমলা বিপ্লব’ এর কথা স্মরণ করেন। তিনি সন্দেহ করেছিলেন, পশ্চিমা শক্তি সেরকম একটা কিছু করতে যাচ্ছে। সমপ্রতি ক্রেমলিন অভিযোগ আনে পশ্চিমারা মস্কোতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অর্থায়ন করছে। কয়েক মাস ধরে রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে যে, তারা ভূরাজনৈতিক দিক থেকে সাফল্য নিতে ইউক্রেনে হস্তক্ষেপ করছে। তিনি মঙ্গলবার বলেছিলেন, গতবছর ইয়ানুকোভিচ ইইউ-এর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেনি। এটা ছিল কেবলই অজুহাত। কারণ তিনি চেয়েছিলেন বিরোধীরা ক্ষমতার লড়াই থেকে সরে যাবেন। আমাদের পশ্চিমা প্রতিবেশী এটাই প্রথম করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।