টি-টুয়েন্টি নিয়ে সংগীত জগতে নতুন উন্মাদনা

অফিসিয়াল থিম সং ১টি, আনঅফিসিয়াল থিম সং দেড় শত ছাড়িয়ে গেছে!

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৪, ২০:২৩
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে এখন চলছে সারাদেশে উন্মাদনার ঝড়। তবে ঝড়ের রেশটা মিউজিক আর্টিস্টদের ক্ষেত্রে খানিকটা অন্যরকম। একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে আসা মিউজিক সিডির এই বাজারে এখন অধিকাংশ উঠতি শিল্পীরাই সামিল হচ্ছেন বিশ্বকাপের এই থিম সংয়ের খবরে। ভালোবাসার দাবি নিয়ে যে যার মেধায় স্বাগতিক বাংলাদেশকে নিয়ে বাঁধছেন যার যার মতো গান। কেউ অ্যালবাম করছেন পুরো বিশ্বকাপ নিয়ে। কেউ আবার একাধিক শিল্পী সমন্বয় করে নতুন মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করছেন। ফলে অন্য স্বপ্রণোধিত থিম সংয়ের ভিড়ে সাধারণ দর্শক হয়তো বিভ্রান্ত হচ্ছেন অফিসিয়াল থিম সং কোনটি? প্রত্যেকেই নিজেদের থিম সংয়ের শিল্পী হিসেবে প্রচারণায় ব্যস্ত। মূলত টি-টুয়েন্টির লোগো সম্বলিত যেকোনো গানের ক্ষেত্রে বিসিবির অনুমতির প্রয়োজন বা নীতিমালা থাকলেও সেদিকে তোয়াক্কা করছেন না কেউ। কারণ সকলেই দেশ আর খেলাকে ভালোবেসেই নিজেদের উজাড় করে নিজ নিজ গানের প্রচার করছেন। এখানে নীতি প্রয়োগের চেয়ে ক্রিকেটের প্রতি শিল্পীদের উন্মাদনাটাও মূল বিষয়। এদিকে ফুয়াদের তৈরি অফিসিয়াল থিম সংয়ে হিন্দি সুরের নকলের অভিযোগে ফেসবুকসহ একাধিক সামাজিক ওয়েবসাইট ও ব্লগে সমালোচনা হচ্ছে। এর বাইরে সকলেই থিম সংয়ের নামেই মূলত দেশ ও ক্রিকেটকে ভালোবেসে আবারও নতুন জোয়ারে ক্রিকেট নিয়ে অ্যালবাম বের করছেন। এরই ভেতরে বেশ কিছু এক্সক্লুসিভ ভিডিও তৈরি হয়েছে। বাপ্পা মজুমদারের কম্পোজিশনে একাধিক শিল্পীর সাথে ভক্তদের সমন্বিত করতে সেল ফোন কোম্পানির মাধ্যমে কর্পোরেট প্রচারণা যেমন চলছে, ঠিক একইভাবে একই ভঙ্গিতে হয়তো কোনো এক আনকোরা শিল্পীও নিজেদের মতো করে ফেসবুক বা বিভিন্ন মিডিয়ায় ঘোষণা দিচ্ছেন ‘কে কে আমার কম্পোজিশনে টি-টুয়েন্টি গানে সামিল হতে চাও?’ ফলে তৈরি হচ্ছে বহুমুখী বিভ্রান্তি। আর এ নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীরা একাকার হয়ে সময় আর এই মহোত্সবকে ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন। কণ্ঠশিল্পী শহীদ তার নিজস্ব প্রোডাকশন দুরবিন থেকে রিলিজ করেছেন একটি গোটা অ্যালবাম। যে অ্যালবামে একাধিক শিল্পী ও ব্যান্ড আর্টিস্টরাও অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া কণা, এলিটা, তাহসান, বালাম থেকে শুরু করে সিনিয়র একাধিক শিল্পীরাও ‘থিম সং’ নামে ক্রিকেট নিয়ে গান বেঁধেছেন। অন্যান্য শিল্পীরাও নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন থিম সং। সঠিক হিসেবে মতে শতাধিক থিম সং তৈরি হয়েছে বিভিন্ন কম্পোজিশনে। তবে নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপের লোগো সম্বলিত কোনো প্রচারণা প্রচারযন্ত্রে ব্যবহারের একটা নীতিমালা প্রয়োজন পড়ে। সেদিক দিয়ে কেউ বিসিবির অনুমতি নিয়ে কাজটি করছেন কি না শোনা যায়নি। আর যেহেতু বিষয়টি একেবারেই দেশমাতৃকার সবচেয়ে বড় গৌরবের জায়গা নিয়ে মাতামাতি, তাই সকল ধরনের শিল্পীদের এই ‘থিম সং’ সম্বলিত প্রচারণা অন্যভাবেই সবার মনে আন্দোলিত হচ্ছে। তবে প্রত্যেক শিল্পীই নিজেদের ভালোবাসা থেকে তৈরিকৃত গানগুলো স্ব-স্ব অবস্থানে টি-টুয়েন্টি থিম সং বলেই প্রচার করছেন! এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন অর্থাত্ ১৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিসিবি সেলিব্রেশন কনসার্ট এ আর রহমান ও আকন লাইভে বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, কুমার বিশ্বজিত্, মমতাজ, এলআরবি, মাইলস এবং অর্ণব। এর বাইরে এ আর রহমানের আগমন উপলক্ষে তার ইনস্টিটিউটের ছাত্র কম্পোজার ইমন সাহা আবার গান বেঁধেছেন এ আর রহমানকে নিয়ে। এটিও ইমন সাহার আনঅফিসিয়াল উদ্যোগ। তবে দেশমাতৃকা ও ক্রিকেটকে ভালোবেসে অধিকাংশ স্টুডিওতে এখন তৈরি হচ্ছে শুধুই ক্রিকেটকে নিয়ে গান।