‘আমার কোন ক্ষোভ নাই’— বলে দিলেও আসলে সবটাই ছলনা। কণ্ঠ আর প্রতিটি শব্দ উচ্চারণের সাথে সাথে স্পষ্ট হয়ে উঠছিলো ভিতরে ভিতরে কতটা অভিমান বয়ে আব্দুর রাজ্জাক; কিন্তু কেবল অভিমান দিয়েই পার পেয়ে যাওয়ার মানুষ তো রাজ নন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়েই আবারও স্বরূপে ফেরার ঘোষণাই দিয়ে দিলেন বাঁহাতি এই অফ স্পিনার।
এশিয়া কাপের সাদামাটা পারফরম্যান্সের পর অভিযোগের তীরটা আব্দুর রাজ্জাকের দিকেই বেশি ধেয়ে আসছে। আর সমালোচনার জবাব দেয়ার জন্য মাঠকেই আদর্শ জায়গা বলে মানছেন এই তারকা, ‘আমাদের তো বলার একটাই জায়গা। মাঠে ভাল খেললেই বলা হয়ে যায়। ’
কেন এই অভিমান— এমন এক প্রশ্নের জবাবে রাজ্জাক প্রথমে ব্যাপারটাকে কিছুটা পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করেন, ‘না অভিমানের কিছু না। অভিমান দিয়ে আসলে জীবন চলে না। পেশাদার জীবনে আসলে অভিমানের কোন জায়গা নেই। আপনারা, আমরা সবাই পেশাদার। এখানে অভিমান করে কোন লাভ নেই।’
কিন্তু অন্য এক প্রশ্নোত্তরেই স্পষ্ট হয়ে উঠলো রাজের অভিমানের কারণ, ‘আমি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেও প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৫-৬ ওভার, দ্বিতীয় পাওয়ার প্লেতে তিন ওভার আর ৪৬ ওভারের দিকে এসে ১-২ ওভার বল করতাম। তখন কেউ আমাকে উল্লেখ করে কথা বলতো না। এখন বলা হচ্ছে। এটা একদিক থেকে ভাল যে, এখন আমি বুঝতে পারছি যে বোলিংয়ে কিছুটা উন্নতি করা দরকার। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষের দিকে একটা ওভার নিয়ে বেশ কথা হচ্ছে। আগেও দেখা যেত যে, ওই সময়ে বল করে আমি ৫-৬ কিংবা সাত রান দিয়ে চলে আসতাম। কারও কি তখন মনে হতো, ওই ওভারটার জন্যই আমরা ম্যাচে জিতেছি? মনে হলে তখন একটা লাইন হলেও আসতো।’
নিজের বোলিংয়ে সমস্যা দেখছেন না রাজ্জাক। যেদিন সমস্যা মনে করবেন সেদিন নিজেই ক্রিকেট ছেড়ে দিবেন বলে জানালেন, ‘আমার মনে হয় না এমন কিছু হচ্ছে। যেদিন এরকম কিছু মনে হবে সেদিনই ক্রিকেট ছেড়ে দিবো। যেহেতু আমি নিজেই মনে করছি না, তাহলে কে কি মনে করছে, সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না।’
রাজ যাই বলুন না কেন, সত্যি কথা হল গত কদিন ধরেই নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছেন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী এই বোলার। ইনজুরির কারণে চট্টগ্রাম টেস্টে দলে থেকেও বল করার সুযোগ পাওয়া হয়নি। শ্রীলঙ্কা সিরিজের বাকিটা সময়ই ছিলেন দলের বাইরে। ফর্মহীনতার কারণে ওই ইনজুরিকেই দায়ী করলেন রাজ্জাক, ‘কোন অজুহাত দেখাতে চাই না। তারপরও বলতে হয়, আমি ইনজুরি থেকে এসেই এশিয়া কাপে খেলেছি। আর এশিয়া কাপ আমাদের জন্য অনেক বড় একটা টুর্নামেন্ট। খুব একটা যে উল্টা পাল্টা হয়েছে তা না; কিন্তু, সময়টা আমার অনুকূলে ছিল না। অনেক সময় ভাগ্য সহায় হয় না। আমার ক্ষেত্রেও তেমনটা হয়েছে। আমি বোলিং নিয়ে যে খুব সমস্যায় আছি তেমন নয়।’
এশিয়া কাপের তিন ম্যাচ খেলে মাত্র দুইটি উইকেট। আর স্লগ ওভারে অনেক রান দিয়ে আসায় রাজ্জাকের বোলিং নিয়ে বেশ একটা দুশ্চিন্তাতেই আছে বাংলাদেশ দল; কিন্তু বিশ্বকাপের সব ঠিক ঠাক করে ফেলবেন বলে জানালেন রাজ্জাক, ‘দল আমার কাছ থেকে যখন যেটা চাইবে সেটা দেয়ার চেষ্টা করবো। হতে পারে সেটা রান দিয়ে, হতে পারে সেটা উইকেট নিয়ে। যখন যেটা দরকার সেটা দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। খুব দ্রুতই সব ঠিক হয়ে যাবে।’
এখন সব ঠিক হয়ে গেলেই হয়!
