কুষ্টিয়ায় আবাদী মাঠে গড়ে উঠা ৩০টি ড্রাম চিমনির ইট ভাটাতে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। অবৈধ ভাটা বন্ধে জেলা প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ না থাকায় সেখানে চলছে কাঠ পোড়ানোর মহোত্সব।
জেলায় আবাদী কৃষি জমি সংলগ্ন মাঠে গড়ে উঠেছে ৩২টি ড্রাম চিমনীর অবৈধ ইটভাটা। এসব ইটভাটায় সর্বোচ্চ ২৫/৩০ ফুট উচ্চতার টিনের ব্যারেলের তৈরি ড্রাম চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ভাটাগুলোর জন্য জেলায় কৃষি জমি ও আবাদী ফসলের ক্ষতিসহ উজাড় হচ্ছে মূল্যবান বন সম্পদ। এদিকে বেআইনী ইটভাটা বন্ধে এ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে কাঠ পোড়ানো বন্ধে ভাটায় কদাচিত্ অভিযান পরিচালনা করে যত্সামান্য জরিমানা আদায় করা হয়।
এদিকে ১শ’২০ ফুট উচ্চতার পাকা চিমনির ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানান, লাইসেন্সবিহীন ড্রাম চিমনীর ইটভাটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনী।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় মোট ১৩১টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ১শ’২০ উচ্চতার পাকা ফিক্সড্ চিমনীর ৮৭টি, জিগ-জ্যাগ কিলন ১৮টি ও ২৬টি ড্রাম চিমনীর ইটভাটা। তবে সরেজমিন ৩২টি ড্রাম চিমনীর ভাটা পাওয়া যায়। এসব ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। অবৈধ ইটভাটার নির্গত ধোঁয়া ও ছাই থেকে আবাদী জমির ফসল, পরিবেশ ও জন-জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ড্রাম চিমনী ইটভাটা মালিক ইয়াসিন ও শওকত আলী বলেন, ড্রাম চিমনীর ইটভাটা অবৈধ। আইনের ফাঁক ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ভাটা চালাচ্ছেন বলে তারা জানান।
কুষ্টিয়ার সৈয়দ বেলাল হোসেন জানান, হাইকোর্টে ইটভাটা সংক্রান্ত মামলায় স্থগিতাদেশ থাকায় বেআইনী ইটভাটা চিহ্নিত ও ওই ভাটাগুলো বন্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে কাঠ পোড়ানো বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।
