মহিলা ফুটবলের জন্য কাজ করেন রাঙ্গামাটির সাবেক ফুটবলার সুয়েলহা মং। জাতীয় মহিলা ফুটবলের সাথেও কাজ করেছেন এই কোচ। খেলোয়াড় গড়ার কাজে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। তার হাতে পার্বত্য অঞ্চল থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। যারা পরবর্তীতে জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে সুযোগ পেয়েছেন। নিজের আর্থিক অবস্থাটা ভালো না। খেলোয়াড় তৈরি করতে গিয়ে যতটুকু সম্বল ছিল, তা শেষ। পরে স্ত্রী তুই মনোয়াজার স্বর্ণালংকারে হাত দিয়েছেন। ভাগ্য ভালো মংয়ের। স্বামীর ফুটবল প্রীতি দেখে স্বর্ণালংকার তুলে দিয়েছেন। সেটা বিক্রি করে খেলোয়াড় তৈরির কাজে লাগিয়েছিলেন সুয়েলা মং। কারণ খেলোয়াড়দেরকে প্রশিক্ষণ দিতে ক্রীড়া সামগ্রী কিনতে হয়। সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের সন্তানের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। সুয়েলা মং নিজের অর্থে ক্রীড়া সামগ্রী কিনে দিয়ে মাঠে প্রশিক্ষণ দেন। বাফুফের মহিলা ফুটবল কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান মাফুজা আক্তার কিরণের উদ্যোগে কোকাকোলা দাঁড়িয়েছে সুয়েলা মংয়ের পাশে। মংয়ের কোচিং জীবনের কথা শুনে আগ্রহ দেখিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ ট্রফির আগমনকে কেন্দ্র করে মংকে নিয়ে কোকাকোলা ভিডিও চিত্র নির্মাণ করে সেটা প্রচার করেছে। ফুটবল বিশ্বে জানানো হয়েছে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের একজন মং।
কোচ মং তার ক্ষুদে ফুটবলারদের তৈরি করতে কোকাকোলা এক বছর প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী দিয়েছে। গতকাল বিকালে রাজধানীর একটি হলে কোকাকোলা ফারইস্ট লিমিটেড সুয়েলা মংয়ের ক্ষুদে খেলোয়াড়দের হাতে ফুটবল তুলে দিয়েছে। কোকাকোলা প্রতিষ্ঠান মংয়ের ফুটবলার তৈরির মেধা আগ্রহ এবং সরেজমিনে তার কর্মকাণ্ড দেখে সন্তুষ্ট হয়ে মহিলা ফুটবলের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব। ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়ে যত টাকাই ব্যয় হোক না কেন। একজন কারিগরের ফুটবলার তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে হাত বাড়িয়েছে কোকাকোলা। মং এখন রাঙ্গামাটি এবং ময়মনসিংহের পৃথক দু’টি স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। মংয়ের নেই কোনো ফুটবল একাডেমি, নেই কোচিং সার্টিফিকেট। তারপরও উদ্যমী এই কোচের তালিমে সুইনু প্রু, মাইনু প্রু, নুবাই চিং, সুইনু চিংয়ের মতো ফুটবলার উঠে এসেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ৯৬ সালে ঢাকায় ভিক্টোরিয়ার হয়ে খেলতে এসে চোটের কারণে ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর মং নিজেকে কোচিংয়ে নিয়ে আসেন। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের শেখাতে বেশি পছন্দ করেন তিনি। মং বলছিলেন, ছেলেরা ফাঁকি দেয়। মেয়েরা ফাঁকি দেয় না। ছেলেরা ফুটবল খেলতে আসে টাকার জন্য। সাথে সাথে টাকা চায়। টাকা না পেলে এবং ফুটবল খেলতে না পারলে অন্য পথে যায়। আনসারে কোচ হিসাবে কর্মরত সুয়েলা মং। কোকাকোলা ফারইস্টের কান্ট্রি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব বলেন, ‘মংয়ের সাথে ভবিষ্যত্ ফুটবল নিয়ে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে মহিলা ফুটবলে সাপোর্ট করতে চাই।’ মহিলা ফুটবলের পাশে থাকার জন্য মাহফুজা আক্তার কিরণ কোকাকোলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশে সুয়েলা মংয়ের মতো অনেক ফুটবল কোচ রয়েছেন। যাদেরকে একটু পৃষ্ঠপোষকতা করলে অনেক খেলোয়াড় উঠে আসতে পারে। কোকাকোলা পাশে থাকলে সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব। এর জন্য আমরা আরো সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’
