অপ্রতিরোধ্য বায়ার্নের সামনে আজ আর্সেনাল

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৪, ২২:০৯
বুন্দেসলিগার ২৪তম রাউন্ড শেষে বায়ার্ন মিউনিখের গোলসংখ্যা ৭২। অর্থাত্ ম্যাচ প্রতি তিন গোল! শীতকালীন ছুটির পর গত আট লিগ ম্যাচে গোলসংখ্যা ৩০! আর যে কোন প্রতিযোগিতা মিলে সর্বশেষ ছয় ম্যাচে দলটি প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে ২১ বার! ব্যাভারিয়ানদের দুর্দান্ত ফর্ম বোঝাতে বোধহয় এই তথ্যগুলোই যথেষ্ট। আর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন দলটিকে তাদেরই মাঠে কমপক্ষে দুই গোলে হারাতে হবে আর্সেনালকে! এমনই কঠিন এক সমীকরণ সামনে নিয়ে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারা ইংলিশ জায়ান্টরা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে বায়ার্নের। তবে বায়ার্ন কোচ পেপ গার্দিওলা জানিয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলবে তার দল। রাতের অন্য ম্যাচে ঘরের মাঠে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ খেলবে এসি মিলানের বিরুদ্ধে। গত বছরের ডিসেম্বরে ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে ৩-২ গোলে হারের পর বায়ার্ন অপরাজিত সর্বশেষ ১৬ ম্যাচ ধরে। শুধু অপরাজিত থাকার এই রেকর্ড নয়, এ মৌসুমে বায়ার্ন বেশি করে নজর কাড়ছে তাদের দারুণ আক্রমণাত্মক মানসিকতার জন্যও। বার্সেলোনার সাবেক কোচ গার্দিওলা বলছেন, আজও মাঠে একই ধরনের আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার লক্ষ্য নিয়েই নামবে তার দল। ‘আক্রমণই সবচেয়ে ভালো রক্ষণ’—এই ধারণায় বিশ্বাসী হয়ে শিষ্যদের শুরু থেকেই বলের দখল রাখতে নির্দেশনাও দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আর্সেনালকে বল রাখতে দেই তাহলে সেটা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কৌশলগত দিক থেকে তাদের প্রতিটি খেলোয়াড় বল পায়ে বিস্ময়কর ক্ষমতাসম্পন্ন, তাদের মান নিয়েও কোন সন্দেহ নেই। তাদের (সান্তি) কাজোলরা, (মেসুত) ওজিল, (টমাস) রসিস্কি, (মাইকেল) আর্টেটার মতো খেলোয়াড় আছে। সুতরাং আমরা আক্রমণাত্মক খেলি বা না খেলি তাদের বল পায়ে রাখতে কোন সমস্যা হবে না। সুতরাং, এটা এড়ানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে বল নিজেদের দখলে রাখা। আর অবশ্যই আমাদের আক্রমণাত্মক খেলতে হবে। কারণ, এই দলটি (বায়ার্ন) সম্পর্কে আমার উপলব্ধি হচ্ছে, যখন আমরা আক্রমণাত্মক খেলি তখনই কেবল নিজেদের সেরাটা বেরিয়ে আসে।’ খেলোয়াড়ি এবং কোচিং জীবনের পূর্ব অভিজ্ঞতায় আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের কোচিং ক্ষমতা সম্পর্কে তিনি পূর্ণ ওয়াকিবহাল জানিয়ে গার্দিওলা আরো বলেন, ‘আমরা যদি ভাবতে শুরু করি লন্ডনে (প্রথম লেগে) আমাদের কি ভুল ছিল। তাহলেই তারা আমাদের পেয়ে বসবে এবং তাদের জেতার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। আমি আর্সেনালকে খুব ভালোভাবে চিনি। তাদের কোচ সম্পর্কেও আমার পরিষ্কার ধারণা আছে। বার্সেলোনার হয়ে দু’বার তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাকে। যদি বলের দখল আমাদের কাছে থাকে তাহলে আমরাই কোয়ার্টার ফাইনালে যাচ্ছি। আর সেটা যদি তারা করতে পারে, তাহলে তারা যাচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালে।’ আক্রমণাত্মক খেলার কথা গার্দিওলা কেন বারবার বলছেন, সেটা বোঝা যাবে টুর্নামেন্টের গত আসরের দিকে একটু নজর দিলেই। প্রথম লেগে আর্সেনালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফুরফুরে মেজাজে থাকা জার্মান ক্লাবটি দ্বিতীয় লেগে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় হেরে যায় ২-০ গোলে। অতীতের সেই ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে কারণেই হয়তো গার্দিওলার এই বাড়তি সতর্কতা। এদিকে প্রথম লেগে দিয়েগো কস্তার একমাত্র গোলে মিলানকে হারানো অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ আজ মাঠে নামবে স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন নিয়ে। বার্সেলোনার চাইতে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে লা লিগা পয়েন্ট টেবিলে রিয়াল মাদ্রিদের ঠিক পেছনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটি ডেভিড ভিয়ার গোলে সর্বশেষ লিগ ম্যাচেও জয় পেয়েছে ২-০ গোলে। অন্যদিকে, সিরিএতে সর্বশেষ ম্যাচে উদিনেজের মাঠে ১-০ গোলে হেরে আসা মিলান অবশ্য তবুও আত্মবিশ্বাসী থাকছে। ম্যাসিমিলানো অ্যালিগ্রির বদলে মিলানের দায়িত্ব নেয়া ক্লারেন্স সিডর্ফ ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন তেমনই, ‘আমাদের কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে এই বিশ্বাস থাকতে হবে যে, আমরা সঠিক পথেই আছি। ইতিবাচক এবং আশাবাদী হবার কোন বিকল্প নেই। আশা করছি মাঠেই সবকিছুর জবাব দেবো আমরা।’