বগুড়ার আদমদীঘিতে সোনালী ব্যাংকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে টাকা লুটের ঘটনায় আটক ১৪ জনের মধ্যে ৮ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করে রিমাণ্ডের আবেদন জানানো হলে আদালত প্রত্যেকের ৫ দিনের পুলিশ রিমাণ্ড মঞ্জুর করে। বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আহম্মেদ শাহরিয়ার তারিক আসামিদের রিমাণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রিমাণ্ডে নেয়া আসামিদের মধ্যে ওই ব্যাংকের ৪ জন নিরাপত্তা প্রহরী, ব্যাংকের পার্শ্ববর্তী “বিপ্লব ফার্নিচার মার্ট”-এর স্বত্বাধিকারী, তার ছোটভাই ও দোকানের ২ কর্মচারী রয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদমদীঘি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জহুরুল হক জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের সোমবার দুপুরে বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ অধিকতর জিঞ্জাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে বেলা পৌনে ৩টার দিকে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বলেন, ইতিমধ্যে মামলার অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে । অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতার এবং পুরো মামলার রহস্য উন্মোচনসহ লুট হওয়া টাকা উদ্ধার সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মর্তুজ আলীকে প্রধান করে গঠিত ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করলেও এব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন কমিটি প্রধান মর্তুজ আলী। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক, কোষাধ্যক্ষ, ও চার নিরাপত্তা প্রহরীসহ ১৪ জনকে আটক করে। রবিবার ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিম্মায় শাখা ব্যবস্থাপক ও কোষাধ্যক্ষকে ছেড়ে দেয়া হয়। আটক থাকা অন্য ১২ জনের মধ্যে ৮ জনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার আদালতে হাজির করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সামসুদ্দিন শরীফ ও ক্যাশিয়ার আজাহারুল ইসলামকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের বগুড়া অঞ্চলের এজিএম তৈয়মুর রহমান সোমবার সন্ধ্যায় আদমদীঘি শাখার ঐ দু’কর্মকর্তাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ শাখায় ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে সোনাতলা শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে। সোমবার সকাল থেকেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
