সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেছে র্যাব। বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার প্রতিবেদন গ্রহণ করে বলেছেন, বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন, সেহেতু ওই তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করা হবে না। একইসঙ্গে হত্যা মামলার তিন আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বেঞ্চ সাগর-রুনি হত্যার ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন তলব করে। একইসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে র্যাবের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশ দেয়ার দিনকয়েকপর বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু বিষয়টি গত ৫ মার্চ শুনানির জন্য ধার্য থাকলেও এর জন্য কোন বেঞ্চ নির্দিষ্ট ছিল না। অন্যদিকে যে বেঞ্চের এখতিয়ার আছে সে বেঞ্চে না গিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এখতিয়ার নেই এমন একটি বেঞ্চে যান। ওই বেঞ্চ আসামিপক্ষের আইনজীবীকে উপযুক্ত বেঞ্চে জামিন আবেদন দাখিলের পরামর্শ দেন। এরপরই বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলার তিন আসামির আইনজীবী ব্যারিস্টার এসএম মাসুদ হোসেন দোলন জামিন আবেদন দাখিল করেন। একইসঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন র্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি মো. জাফরউল্লাহ। গতকাল ওই বেঞ্চে জামিন আবেদন শুনানির জন্য উত্থাপিত হয়। একইসঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে সামনে আসে। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তা প্রকাশ না করার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে আসামিদের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে তা ‘উপস্থাপিত হয়নি মর্মে’ খারিজ করে দেয়। যাদের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছে তারা হলেন বকুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম ও কামরুল হাসান। আদালতে আসামিপক্ষে এসএম মাসুদ হোসেন দোলন এবং রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট গাজী মো. মামুনুর রশীদ শুনানি করেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন ‘মাছরাঙা’ টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় পরদিন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম। ওই মামলায় বকুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম ও কামরুল হাসানকে ওই বছরের ১০ অক্টোবর গ্রেফতার দেখানো হয়। এরা আবার ডা. নিতাই হত্যা মামলার আসামি। এই তিন আসামি গত সেপ্টম্বরে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন দাখিল করেন। উল্লেখ্য এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রসঙ্গত এ মামলায় ওই তিনজনসহ মোট আট আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
