আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। এ বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষী মিশনের মাধ্যমে সেখানে একটি বিমানবন্দর অপারেশনের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি কন্টিজেন্ট। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কর্তৃক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে কঙ্গো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি নিখুঁতভাবে পরিচালনা করার কার্যক্রমে স্বয়ং জাতিসংঘ মুগ্ধ। মুগ্ধ হয়েছেন কঙ্গোবাসীও। এই বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ছয়টি হেলিকপ্টারও রয়েছে।
একের পর এক বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ইকুইপমেন্ট। ইতিপূর্বে আধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধ বিমান মিগ-২৯ ও হেলিকপ্টার এমআই-১৭১ যুক্ত হয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ বিমান।
গতকাল সোমবার বিমানবাহিনীর বার্ষিক শীতকালীন মহড়া ‘উইনটেক্স-২০১৪’ এর সমাপনী দিনে বিমান ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু ও বাশারে সরেজমিনে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে ওই সব তথ্য জানা যায়। মহড়া সচক্ষে দেখলে বোঝা যায় বিমানবাহিনীর দক্ষতা-অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক মানের। মহড়া প্রশিক্ষণে বিমান বাহিনীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পুরো চিত্র ফুটে উঠেছে।
বিমান বাহিনীর সূত্র জানায়, বাহিনীতে যদি কোন ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকে তা মহড়ায় পর্যবেক্ষণ করে সেই সব দুর্বল দিকগুলো শনাক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে এগুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া হবে। অপরদিকে আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হবে তাও মহড়ার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তা সংগ্রহ করা হবে। এবার মহড়ায় বিমানবাহিনীকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক পক্ষ গ্রিনল্যান্ড অপরপক্ষ রেডল্যান্ড। এই দুই পক্ষের সীমান্তের মাঝামাঝি স্থানে একটি দ্বীপ জেগে উঠেছে, সেই দ্বীপ এক পক্ষ দখল করে নেয়। অপর পক্ষ পাল্টা আক্রমণ করে সেটি শত্রুমুক্ত করবে। মহড়ায় এই রণচিত্রটি ফুটিয়ে তোলা হয়।
গতকাল বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু ও বাশারে গিয়ে বিমানবাহিনীর বৈমানিকদের ‘আকাশ যুদ্ধে’ বিভিন্ন রণকৌশল ও কমান্ডোদের শত্রুপক্ষের যুদ্ধ অপারেশন কমান্ডারের কার্যালয়ে হামলা করার দৃশ্য দেখা যায়। প্রতিপক্ষ যুদ্ধকালীন ইমারজেন্সি ঘন্টা বাজালে বিমানবাহিনীর সদস্যরা শত্রুপক্ষের কমান্ডোদের প্রতিহত করার দৃশ্য দেখা যায়। কমান্ডোরা হেলিকপ্টার যোগে কিভাবে ভূমিতে নেমে অপারেশন পরিচালনা করে সেই দৃশ্যটিও দেখানো হয়।
বাংলাদেশের সকল বিমান ঘাঁটিসহ সিলেট, লালমনিরহাট ও বরিশালে এক যোগে এই মহড়া শুরু হয় গত ৫ই মার্চ। এই মহড়ায় বিমানবাহিনীর সকল যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার ও রাডার স্কোয়াড্রনসহ বিমানবাহিনীর সকল সদস্য অংশ গ্রহণ করেছে। বিমানবাহিনীর বৈমানিকগণ আকাশ যুদ্ধের বিভিন্ন প্রকার রণকৌশলসহ যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার নিয়ে টাঙ্গাইলের রসুলপুরে অবস্থিত ফায়ারিং রেঞ্জে আকাশ থেকে ভূমিতে লক্ষ্যবস্তুর ওপর গোলা নিক্ষেপ করে। রসদ অবতরণ ও যুদ্ধ বিমানের মাধ্যমে নৈশকালীন আক্রমণ এবং ইন্টারসেপশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আকাশের নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর। পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ তত্পরতা কার্যক্রমে বিমানবাহিনীর ভূমিকা অন্যতম। বিমান ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুর অধিনায়ক (পরিচালন শাখা) গ্রুপ ক্যাপ্টেন শাহারুল হুদা এবং বিমান ঘাঁটি বাশারের অধিনায়ক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল মহড়ার বিভিন্ন দিক ও দৃশ্যের বিষয়ে বর্ণনা দেন। অপরাহ্নে বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু ও বাশারসহ বিভিন্ন স্থাপনা এবং কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় বিমানবাহিনীর শীতকালীন মহড়া-২০১৪। এই মহড়ার মধ্য দিয়ে সকল যুদ্ধাস্ত্র ও জনবল বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে কর্মকর্তারা জানান।
