ক্রেতার অভাবে বড়পুকুরিয়ায় বাড়ছে উত্তোলিত কয়লার স্তূপ

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৪, ২২:৩৭
দফায় দফায় দাম কমানো হলেও জেলার ফুলবাড়ির পাশে বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনির কয়লার ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে খনি চত্বরে দিন দিন বাড়ছে কয়লার স্তূপ। বিক্রি না হওয়ায় বর্তমান কয়লা মজুদের পরিমাণ ৫ লাখ টনেরও বেশি দাঁড়িয়েছে। এতে করে যেকোন সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খনি কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়লা বিক্রি কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খনির এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন স্তূপ আকারে কয়লা পড়ে থাকলে সেখান থেকে আগুন লাগতে পারে। আগেও খনিতে আগুন লেগেছিল। তবে কোনপ্রকার অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত যেন না ঘটে সেজন্য কয়লা স্তূপে সার্বক্ষণিকভাবে পানি ছিটানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে পড়ে থাকা কয়লার স্তূপে মাঝে-মধ্যেই আগুনের ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছে। এতে করে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কায় স্থানীয়দের আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে। স্থানীয় ইটভাটা মালিকদের অভিযোগ, মৌসুমে ইটভাটার মালিকদের কয়লার চাহিদা থাকলেও রহস্যজনক কারণে খনি কর্তৃপক্ষ কয়লা বিক্রি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে ওই কয়লা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে অধিক দাম দিয়ে কিনতে হয়। যার কারণে ইটভাটা মালিকরা বাধ্য হয়ে বড়পুকুরিয়ার কয়লার আশায় না থেকে সিলেট থেকে চাহিদানুযায়ী ভারতীয় কয়লা এনে ইট পোড়াচ্ছেন। এ কারণেই খনি কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় দাম কমিয়ে ক্রেতা পাচ্ছেন না। খনির উপ-মহাব্যবস্থাপক-ডিজিএম (বিক্রয়) গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, কয়লা বিক্রি মৌসুমে গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ইটভাটার মালিকরা চাহিদানুযায়ী কয়লা কিনতে পারেননি বলেই মজুদ বেড়ে গেছে। একইভাবে বর্তমানে উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেও কয়লার মজুদ আগের চেয়ে বেড়ে যাচ্ছে। আগে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার টন কয়লা বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪শ থেকে ৫শ টন। কয়লা বিক্রির মৌসুম না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় দাম কমালেও বিক্রি বাড়ানো যাচ্ছে না।