অর্থমন্ত্রীর শত কোটি টাকা চাঁদার উদ্যোগে রাজনীতির অবক্ষয়ের দৃষ্টান্ত

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৪, ২২:৪২
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত অনুষ্ঠানের জন্য অর্থমন্ত্রীর ১শ’ কোটি টাকা চাঁদা উত্তোলনের সংবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। একইসঙ্গে মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী চাঁদার অর্থের উত্স, পরিমাণ এবং ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ‘চাঁদা’ তোলার ব্যাপারে গণমাধ্যমের কাছে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিক অবক্ষয়ের উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। অর্থমন্ত্রীর এই জাতীয় বক্তব্যে সচেতন দেশবাসী বিচলিত বোধ না করে পারবেন না। এটি আরো উদ্বেগজনক যে, অর্থমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তিনি ‘মাঝে মাঝেই চাঁদা টাদা’ তুলে থাকেন। একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত অর্থমন্ত্রী, যিনি তার ট্যাক্সের বিবরণী জনসমক্ষে উন্মুক্ত করেছিলেন, তার এ ধরনের বক্তব্যে টিআইবি যারপরনাই বিস্মিত। ড. জামান বলেন, নৈতিকতা বিবর্জিত এই অবস্থান ও বক্তব্যে পেশাদার চাঁদাবাজরাই শুধু উত্সাহিত হবেন না বরং এ জাতীয় চাঁদা প্রদানে বাধ্য ব্যবসায়ী মহল ক্ষমতার সাথে যোগসাজশে অধিকতর দুর্নীতিপরায়ন হয়ে উঠবেন এবং চূড়ান্ত বিবেচনায় এর বোঝা জনগণের উপর পড়বে। তিনি অনতিবিলম্বে মন্ত্রীর ইতিমধ্যে চাঁদার মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ এবং তার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশেরও আহবান জানান।