১৩ ফেব্রুয়ারি। রাত ১০টা। ফকিরাপুলে জমায়েত হল শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণোচ্ছল ১৩ জন শিক্ষার্থী। উদ্দেশ্য ডিউক অব এডিনবার্গস অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামের সিলভার লেবেলের অ্যাডভেঞ্চার চ্যুর। অভিযানের নেতৃত্ব ও তদারকির ভার পড়ল আমাদের প্রিয় প্রশান্ত দাদার কাঁধে। রাত ১১টায় বিআরটিসির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে করে আমরা রওনা দেই গন্তব্যস্থলে। বাস ছাড়তেই আমরা সমস্বরে হুল্লোড় দিলাম। দু’একজন ঘুমানোর চেষ্টা করলেও আমাদের নিশীথ আড্ডা আর দুর্বার কল-কাকলিতে ঘুম তো পালালোই, বরং বাইরের কেউ কেউ মুগ্ধ দর্শক এবং শ্রোতা। শেষ রাতের দিকে যেই চোখে ঘুম আসি আসি করছে অমনি আমাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল যখন আমরা দেখলাম যে, আমাদের বাস এগিয়ে চলছে বড় বড় পাহাড়ি খাদের পাশ দিয়ে।
পাহাড়ি উঁচু নিচু রাস্তায় বাসের দুলনি আমাদের আর ঘুমাতে দেয়নি। ভোর সাতটায় খাগড়াছড়ি শহরের গাইরিং হোটেলে পৌঁছালাম। অতঃপর যার যার রুম বন্টন। চোখে-মুখে এবার রাজ্যের ক্লান্তি, ঘুম ছাড়া কথা নেই। ঘন্টাখানেক পরেই প্রশান্ত দাদা’র রুমে রুমে এসে টোকা। নাস্তা সেরেই হাইকিং এ যেতে হবে। হাইকিং এ যাওয়ার পথিমধ্যে সবুজ পাহাড়ের মাঝখানে শুরু হল ছবি তোলার ঝড়। যে যেভাবে পারে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পরে। হাইকিং এ প্রায় ১৫০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় আমরা খুঁজে পেলাম দেবতা পুকুর। হোটেলে ফেরার পথে আমরা আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, ঝুলন্ত সেতু ও রিছাং ঝর্ণা দেখলাম। আলুটিলা রহস্যময় গুহা অতিক্রম করার সময় আমরা ছিলাম প্রচণ্ড শিহরিত। সন্ধ্যায় আমরা যংড বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধদের ধর্মাচারের সাথে পরিচিত হলাম। দ্বিতীয় দিন আমরা দিঘীনালা উপজেলার একটি ফলের বাগান ও আদিবাসী পল্লী ঘুরে বেড়ালাম।
সবুজ পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে আমরা যখন হেঁটে যাচ্ছিলাম তখন নিজেদের মনে হচ্ছিল এক একটি পাহাড়ের মালিক। আশপাশের সহজ সরল মানুষের অবাক দৃষ্টি যেন তাই বলছিল। ঐদিন রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে পরদিন ভোরবেলা আমরা ঢাকায় পৌঁছালাম অনন্য এক অভিজ্ঞতার ঝুলি সাথে নিয়ে। যা আমাদের রোমাঞ্ছিত করবে আজীবন।
