আফগানিস্তানে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বানচালের হুমকি দিয়েছে সেখানকার তালেবান জঙ্গিরা। এজন্য তারা নির্বাচনে ভোটদানে বিরত থাকার জন্য সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছে। তারা বলেছে, ভোটদানে বাধা দিতে তারা সব ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করবে। সোমবার তালেবানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
তালেবানের দাবি, আগামী ৫ এপ্রিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন আমেরিকা নিজ স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই বিজয়ী প্রার্থী নির্ধারণ করে রেখেছে। আর এ কারণে ‘ভাওতাবাজির’ এ নির্বাচনে যারা অংশ নেবে তাদের ওপর ‘পূর্ণ শক্তি’ নিয়ে হামলা চালাবে তালেবান। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে মারা গেছে একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এবং দুই প্রচারাভিযান কর্মী। তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব যোদ্ধাকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে এই ভাওতাবাজির নির্বাচন বানচাল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হামলা করতে বলা হয়েছে নির্বাচন কর্মী, স্বেচ্ছাসেবীসহ নির্বাচনে নিরাপত্তাদানকারী সবার ওপর। কেউ এ নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের খারাপ পরিণতির জন্য তারা নিজেরই দায়ী থাকবে। তালেবানের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রতিটি ধাপেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় চলছে নির্বাচন প্রক্রিয়া। জনগণের বোঝা উচিত যে, এ নির্বাচন কোনো ফল বয়ে আনবে না। কারণ, আসল নির্বাচন করে ফেলেছেন সিআইএ এবং পেন্টাগন কর্মকর্তারা। তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে তারা এরই মধ্যে নির্বাচন করে ফেলেছেন। এর আগে ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তালেবান হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় ফেরেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। এবার তৃতীয় মেয়াদে তার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।
