দলীয় কোন্দলের মুখে বিজেপি

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৪
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার জোর সম্ভাবনা রয়েছে প্রধান বিরোধীদল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি)। কিন্তু নির্বাচনের আগেই তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মুখে পড়েছে দলটি। এল কে আদভানি ও মুরালি মনোহর যোশীর মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা দলের নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ে অখুশি। এ কারণে বিজেপির অভিভাবক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) বলছে, প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর মাধ্যমে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের ক্ষমতায় আসার সুবর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দলে আরো শৃঙ্খলা আনতে হবে। এদিকে, বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবজ্ঞা না করার জন্য বলেছেন। তবে দলের স্বার্থকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয়ার জন্যও আহবান জানিয়েছেন বলে বিজেপি সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যে ও বৃিবতিতে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিজেপি। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এল কে আদভানি দলীয় বৈঠকে বলেছেন, বিজেপি এখন এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলে পরিণত হচ্ছে। আর মোদীর জন্য উত্তরের প্রদেশের বারানাসি আসন ছেড়ে দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন মনোহর যোশী। লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা সুষমা স্বরাজ সম্প্রতি কর্নাটকের এক নেতার দুর্নীতির সমালোচনা করেছেন। কিছু বড় বড় রাজ্য থেকেও সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিজেপিকে। মহারাষ্ট্র রাজ্য বিজেপি এখন বলা চলে দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোপীনাথ মুন্দে আর অপরপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সভাপতি নিতীন গড়করি। মুন্দে উপ-মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় মন্ত্রিসভার বৈঠকে একবার গড়করির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। আর এখন লোকসভার আসনে নিজেদের প্রার্থীদের দলের মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে দুই জন বিবাদে জড়িয়েছেন। কর্নাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পার সঙ্গে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক আনন্ত কুমারের সঙ্গে বিবাদ ১০ বছরের পুরানো। বিহারে লোক জনশক্তি পার্টির রাম বিলাস পাসওয়ানের সঙ্গে বিজেপি জোট করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিহার বিজেপি বলা যায় বিদ্রোহ করেছে। আগামী ১৩ মার্চ কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটির বৈঠকে লোকসভার বাকি আসনগুলোতে বিজেপির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এ তালিকায় উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্য প্রদেশ ও রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।