বেছে চলার দিনে

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৪, ১৮:৩১
একজন অভিনয়শিল্পী যখন জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, তখন কাজের প্রতি তার সচেতনতা বেড়ে যায়। নওশীনের বেলায়ও একইরকম ঘটেছে। এখন তিনি কাজ করছেন আগের চেয়ে বেছে বেছে। অভিনয়ের তৃপ্তির খোঁজে সর্বদা ছুটে চলা এই অভিনেত্রী বর্তমানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ নিয়ে। তাকে নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু ‘আমি অভিনয়শিল্পী হিসেবে আজ যে অবস্থানে রয়েছি, তার জন্য আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। হুট করেই আমার জীবনে কিছু আসেনি। অভিনয়টা শুরু করেছিলাম শখের বশে। এখন পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। কোনো নাটকের প্রস্তাব এলে শুরুতে দেখি স্ক্রিপ্ট আর চরিত্র। এখন অভিনয়ের মাঝেই আমি আনন্দ খুঁজে পাই’, কথাগুলো বললেন এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নওশীন। তিনি আজ নিজেকে টিভি অভিনেত্রীদের মধ্যে যে অবস্থানে নিয়ে এসেছেন, সেজন্য তাকে অনেক সংগ্রামের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘অভিনেত্রী হিসেবে আমার টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে অমিতাভ রেজার নাটক ‘ইজ ইক্যুয়াল টু’। এই নাটকে কাজ করে আমি ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছিলাম। নাটকটি ঈদে প্রচারিত হয়েছিল। আর ঈদের পর একটি পত্রিকার নিউজে ঈদের সেরা কাজ নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে তারিন, অপি করিম ও জয়া আপুর নামের পাশে আমার নামও ছিল। এটা আমার জন্য একটি বড় পাওয়া। তো একটি কথা আছে না যে, এনকারেজমেন্ট ইজ দ্য ইন্সপিরেশন অব ইউর ফিউচার ওয়ার্ক। আমার ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে। আমার সিনিয়ররা যখন আমার কোনো কাজের প্রশংসা করেছেন, তখন মনে হয়েছে, আমি বোধহয় অভিনয় পারব। এভাবে কাজ করতে করতেই আমার এগিয়ে যাওয়া।’ অভিনেত্রী, আরজে, মডেল, উপস্থাপিকা—নানান পরিচয়ের ভিড়ে নওশীন মাঝে মাঝেই ফিরে তাকান অতীতের দিকে। এবং নির্দ্বিধায় স্বীকারও করেন তার আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে বড় একটি ভূমিকা রেখেছে রেডিও টুডে’র আরজে হওয়াটা। সেখানে কাজ করতে করতেই টিভি উপস্থাপনায় নাম লেখান তিনি ‘জেগে আছো কি’ অনুষ্ঠানে। মূলত আরটিভির সাপ্তাহিক এই অনুষ্ঠানটিতে নওশীনের শুধু কণ্ঠ নয়, মুগ্ধ অবয়বও দৃষ্টিগোচর হয় অসংখ্য দর্শকের। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এর কিছুদিন পর রাজিব আহমেদের নির্দেশনায় ‘নিয়তি নিয়তি নিতান্তই’ নাটকে পার্থ বড়ুয়া ও তিন্নির সাথে অভিনয়ের মাধ্যমে টিভি পর্দায় অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রথমবারের মতো উপস্থাপন করেন নওশীন। এরপর অসংখ্য ধারাবাহিক, একঘণ্টা, টেলিফিল্ম ও খণ্ডনাটকে অভিনয় করার পাশাপাশি মডেলিং দুনিয়াতেও ঝড় তুলেছেন তিনি। নওশীন অভিনীত আলোচিত অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘টক শো’, ‘ভাষা পেলো ভালোবাসা’, ‘জয়িতার জন্য’, ‘শাপলা স্টুডিও’, ‘নিউইয়র্ক’, ‘আপদ’, ‘হঠাত্ দেখা’, ‘ছায়া আবৃতা’, ‘ক্ষণিকালয়’, ‘রেড লাইন’, ‘ঘুড়ি উড়ে’, ‘শেষ রাতের বৃষ্টি’, ‘নোনতা চা’, ‘একাকী গাঙচিল’, ‘অনুক্ষণে অনুভবে’, ‘পলাতক’ প্রভৃতি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে জয়া আহসানকে নিজের আইডল মনে করেন নওশীন। তার যেকোনো নাটকের পারফর্মেন্স দেখলে নওশীন যেন থমকে যান। আর এ কারণে এই অভিনেত্রী সবসময় নওশীনের ভাবনায় কড়া নাড়েন। তার ভাষ্যে, ‘উপস্থাপনার সময় আমি কিন্তু কাউকে ফলো করি না। তবে অভিনয়ের বেলায় আমি কিছু কিছু মানুষকে অনুসরণ করতে চাই। যেমন জয়া আপুর অভিনয় আমার কাছে অসাধারণ লাগে। অপি করিমের কান্নার জায়গাগুলো আমি দারুণ উপভোগ করি। তার কিছু কিছু এক্সপ্রেশন দেখলে আমার মনে হয়, আমি যখন অভিনয় করব, তখন এ ধরনের এক্সপ্রেশন ব্যবহার করব। তাদের কাছ থেকে আমি আসলে অভিনয় শিখি। এবার আমেরিকায় গিয়ে আমি তারিন আপুর সাথে একটি নাটকে কাজ করেছি। আর এ সুবাদেই তার সাথে মেশার সুযোগ আমার হয়েছে। তিনি অসম্ভব ভালো একজন মানুষ। জুনিয়রদের তিনি অনেক আদর করেন। তারিন আপু নিজের কাজের ব্যাপারে অনেক সিনসিয়ার, অনেক গোছানো। আমি তার কাছ থেকে এই বিষয়গুলো শিখেছি।’ কিছুদিন আগে আমিন খানের বিপরীতে ‘দুদু মিয়া’ সিনেমার মাধ্যমে নওশীনের প্রত্যাবর্তন হয়েছে। এটা তার অভিনীত তৃতীয় চলচ্চিত্র। এরই মধ্যে ডায়েল রহমানের পরিচালনায় সিলেটের জাফলংয়ে চলচ্চিত্রটির দুটি গানের শুটিং শেষ হয়েছে। ‘দূর আকাশের ওই তারা’ এবং ‘তুমি আমার’ শিরোনামের গান দুটির কণ্ঠশিল্পী ছিলেন কণা, রাজিব, আরিফ এবং বাবু। এ চলচ্চিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে নওশীন বলেন, ‘ব্রিটিশবিরোধী ফরায়েজী আন্দোলন ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত। এই আন্দোলনের কাহিনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ডিজিটাল চলচ্চিত্র ‘দুদু মিয়া’। ছবির গল্পটি চমত্কার। এতে দেখা যাবে, ‘বিপ্লবী নেতা দুদু মিয়া গ্রামের সবার প্রিয় একজন মানুষ। তার বাবা হাজী শরীয়তউল্লাহ মারা যাওয়ার পর বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে একটা লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন দুদু মিয়া। সব অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে গ্রামের অত্যাচারী জমিদারকে করেন খুন। একই গ্রামের মেয়ে মোনা, চঞ্চল প্রকৃতির হওয়ায় গ্রামের কেউ তাকে সহ্য করতে পারে না। এমন সময় তার পাশে এসে দাঁড়ায় দুদু মিয়া। এরপর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা।’ ছটকু আহমেদের কাহিনী বিন্যাসে দুদু মিয়া নাম চরিত্রে অভিনয় করছেন আমিন খান এবং মোনা চরিত্রে নওশীন। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করছেন সুজাতা, আহমেদ শরীফ, শ্যামল জাকারিয়া প্রমুখ। এ ছাড়া ‘সঙসূত্র’ নামের একটি ধারাবাহিক নাটকেও অভিনয় করছেন নওশীন। হাসিবুর রেজা কল্লোলের লেখা ‘সঙসূত্র’ নামের নাটকটি পরিচালনা করেছেন সুজন বড়ুয়া। এতে তিনি অভিনয় করেছেন একজন জনপ্রিয় সিনেমা নায়িকার চরিত্রে। নওশীন অভিনীত ‘সোয়াচাঁন পাখি’ ও ‘হ্যালো অমিত’ নামের ছবি দুটি বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় আছে। প্রথম ছবিতে তার বিপরীতে রয়েছে আনিসুর রহমান মিলন, দ্বিতীয়টিতে তার সহশিল্পী হলো হিল্লোল। বর্তমানে নওশীন অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘নির্বিকার মানুষ’ ও ‘আগুন খেলা’ দুটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। টিভি নাটকে নওশীনকে নিয়মিত দেখা গেলেও বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে নওশীনকে খুব কমই দেখা গেছে। তবে যে ক’টি বিজ্ঞাপনে তিনি মডেল হিসেবে কাজ করেছেন প্রতিটি দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এক সময়ের জনপ্রিয় এই আর জে আবারও নতুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। আবু রায়হান জুয়েলের নির্দেশনায় ‘বিজয় রাকিন সিটি’র বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। সম্প্রতি ঢাকার উত্তরায় বিজ্ঞাপনচিত্রটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। নওশীন বলেন , ‘বিজ্ঞাপনটিতে আমার উপস্থিতিটা প্রয়োজনের বাইরে নয়। জুয়েল ভাই অনেক গুছিয়ে কাজ করেন। নতুন বিজ্ঞাপনটি আমার অনেক ভালো লেগেছে। দর্শকেরও ভালো লাগবে আশা করি।’ নওশীনকে প্রথম বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজ করতে দেখা যায় বাংলা লিংকের বিজ্ঞাপনে। এরপর ‘প্রাণ গুঁড়া মসলা’, ‘ফ্রেশ মিল্ক’সহ আরও বেশ ক’টি বিজ্ঞাপনে তাকে দেখা যায়। নওশীনের নতুন এই বিজ্ঞাপনটি আগামী মাস থেকে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে। এ ক ন জ রে নওশীন নাহরীন মৌ ডাক নাম :মৌ জন্ম :১৫ আগস্ট খুলনায় নানা বাড়িতে প্রিয় পোশাক :শাড়ি প্রিয় অভিনেতা :হুমায়ুন ফরীদি প্রিয় অভিনেত্রী :সুবর্ণা মুস্তাফা প্রিয় সিনেমা :ছুটির ঘণ্টা অবসরে :গান শোনা ও বন্ধুদের সাথে আড্ডা রাশি :সিংহ ক্যারিয়ার শুরু :রেডিও টুডের আরজে হিসেবে প্রিয় নাটক :‘ইজ ইক্যুয়াল টু’ (পরিচালনা অমিতাভ রেজা) সাফল্যের সংজ্ঞা :সততার সাথে কাজকে ভালোবেসে এগিয়ে গেলে সফলতা আসবেই।