ইয়ো পপ কেশা

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৪, ১৮:৩৫
নতুন ধাঁচের মিউজিক ‘ইয়ো পপ’ গায়িকা কেশা তার ভিন্ন স্বাদের গানের জন্য বর্তমান প্রজন্মের সবার কাছে বেশ পরিচিত। ‘পিটবুল ফিচারিং কেশা’ এখন বেশ জনপ্রিয়। তার কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম কেশার শুরুটা হয়েছিল একজন গীতিকার হিসেবে। ২০০৫ সালে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করলেও কেশার পরিচিতি বাড়ে ২০০৯ সালে ফ্লোরিডার একটি সিঙ্গেল ‘রাইট রাউন্ড’-এ কণ্ঠদানের মাধ্যমে। এরপর ২০১০ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম অ্যালবাম সিঙ্গেল ‘টিকটক’ এবং প্রথম সিঙ্গেলেই বাজিমাত করেন তিনি। গানটি এত জনপ্রিয় হয় যে, দীর্ঘদিন বিলবোর্ড টপ চার্টে তা অবস্থান করে। এরপর কেশা বের করেন তার প্রথম অ্যালবাম ‘অ্যানিমেল’। অ্যালবামটি সে বছর আমেরিকায় টপ অ্যালবাম হিসেবে স্বীকৃত হয়। ২০১০ সালের শেষের দিকে তার আরেকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘ক্যানিবল’ প্রকাশিত হয় এবং আমেরিকান রেকর্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে এটি ‘গোল্ড’ অ্যালবামের স্বীকৃতি পায়। ২৬ বছর বয়সী এই গায়িকার পুরো নাম হলো কেশা রোজ সোবার্ট। কেশার মা’ও একজন গীতিকার। তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তারপরও মা চাইতেন তার মেয়েটি গান শিখুক। রেকর্ডিং স্টুডিওতে নিয়ে যেতেন মেয়েকে। স্কুল থেকে ফিরলেই মেয়েকে নিয়ে বসে যেতেন গান লেখায়। গান লেখা শেখাতেন, গাইতে অনুপ্রেরণা দিতেন। সেই মেয়েটি আজকের মার্কিন গায়িকা কেশা। ২০০৫ সালের কথা। স্কুলের ক্লাস শেষে কেশা বেলমন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেন স্নায়ুযুদ্ধের ইতিহাস ক্লাসের লেকচার শুনতে। নিজের আগ্রহ থেকেই এমনটি করতেন। একসময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় ড. লুক ও ম্যাক্স মার্টিনের। কেশা প্রায়ই গুনগুনিয়ে গান গাইতেন। সেই গান শুনে লুক ও মার্টিন তাকে সংগীত নিয়ে সিরিয়াসলি চিন্তা করতে বলেন। কথা রাখেন কেশা। অবশ্য এ জন্য তাকে নানা সময় নানা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কখনও করতেন হোটেল পরিচারিকার কাজ, কখনোবা টেলিমার্কেটিং। গানের জন্য মনের ভেতর গোপন ভালোবাসা পুষে রেখে এভাবেই এগোচ্ছিলেন, গান গাওয়া ও গানের অ্যালবাম বের করার সুযোগ খুঁজছিলেন। এরই মাঝে প্যারিস হিলটনের গান ‘নাথিং ইন দিজ ওয়ার্ল্ড’-এর ব্যাকগ্রাউন্ডে গাওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। এরপর ব্রিটনি স্পিয়ার্সের ‘লেস অ্যান্ড লেদার’ গানেও কণ্ঠ দেওয়ার সুযোগ পান। ২০০৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগীতশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে সাফল্য পান ২০০৯-এর মাঝামাঝি। এই বছরের আগস্টে প্রকাশ পায় তার গান ‘টিকটক’। এই গান দিয়েই বিলবোর্ড দখল করে নেন তিনি। ১১টি দেশের মিউজিক চার্টে শীর্ষস্থান দখল করে তার এই গান। এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হয় তার এই গান। ভেঙে দেন আগের রেকর্ড। এই সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে তিনি প্রথম অ্যালবাম ‘অ্যানিমাল’-এর মুক্তি দেন ২০১০ সালের পয়লা জানুয়ারি। ৫ জানুয়ারি কানাডাতেও অ্যালবামটি প্রকাশ পায়। প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের চার্টে স্থান করে নেয় অ্যালবামটি। কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের সাফল্য পায়। ‘টিকটক’ গার্ল কেশা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনপ্রিয় এ পপস্টারকে ভিন্ন স্বাদের গানের জন্য এখন তাকে সবাই এক নামে চেনেন। সেলিনা গোমেজের বন্ধু কিংবা জাস্টিন বিবারের সহশিল্পী হিসেবেও কম পরিচিত নন তিনি। সম্প্রতি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করে সমসাময়িক শিল্পীদের চমকে দিয়েছেন মার্কিন এই গায়িকা। অবশ্য কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ভারত উপমহাদেশে আমার অনেক ভক্ত আছে। তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। আমি মনে করি, ভারতীয় সংগীত শিখলে আমি তাদের কাছে যেতে পারব।’ সম্প্রতি এই শিল্পী কনসার্ট ট্যুর নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বেশকিছু ট্যুরের মধ্যে নর্থ আমেরিকা ২০১৩ এবং ওয়ারিয়র ২০১৩ ট্যুর নিয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ২০১৪-তে তার গান নিয়ে শুরু হলো আবারও মাতামাতি। এবারে কিছু ব্যতিক্রমধর্মী গান ও নাচ নিয়ে এলেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন আরেক হার্টথ্রব গায়ক পিটবুল। ‘পিটবুল ফিচারিং কেশা’ অ্যালবামটি শ্রোতাদের মাঝেও সফলতা পেয়েছে। কেশার নতুন অ্যালবাম ‘ক্রেজি কিডস’। এই অ্যালবামের একটি গান ‘ভিডিও অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার এর জন্য মনোনীতও হয়েছে। কেশার অ্যালবামগুলো অ্যানিমেল (২০১০) ক্যানিবল (২০১০) ওয়ারিয়র (২০১২) লিপসা (২০১৩) ক্রেজি কিডস (২০১৪)।