এই জয় কী আত্মবিশ্বাস বাড়াবে?

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৪, ২২:২৭
এমনিতেই ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এলে কারো মনে হবে, এ যেন এক বিরানভূমি। আশেপাশে বসতি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, নেই তেমন কোনো লোকজনের হট্টগোল। এর মধ্যেও খেলাধুলা হলে লোকজন এসে এই স্টেডিয়ামকে জমিয়ে তোলেন। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার সে দর্শকদেরও অন্তত শুরুতে খোঁজ ছিল না। সঠিকভাবে তথ্য না জানার জন্য হোক বা অন্য কোনো কারণে, ম্যাচের দুই তৃতীয়াংশ সময় ধরে ফাঁকা পড়ে রইলো স্টেডিয়াম। অবশেষে লোকজন যখন আসতে শুরু করেছেন, ততোক্ষণে বাংলাদেশের তিন উইকেট পড়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ১৪২ রান তাড়া করতে গিয়ে চার উইকেটের কষ্টার্জিত এক জয় পেল বাংলাদেশ। এই অনুশীলন ম্যাচের হার-জিত এমনিতে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না। তারপরও জয়টা নিয়ে হয়তো একটু আত্মবিশ্বাসে প্রলেপ লাগাতে পারবে বাংলাদেশ দল। কিন্তু এই জয় কী আসলেই বাংলাদেশকে কোনো আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দিতে পারবে? মাত্র ১২টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আরব আমিরাত, যাদের সব খেলোয়াড়ের কাছেই ক্রিকেটটা ‘টাইম পাস’ ছাড়া কিছু নয়; তাদের বিপক্ষে এই দীনহীন পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে আদৌ কতোটা আত্মবিশ্বাসী করবে! বাংলাদেশের অধুনা খুব বড় দুশ্চিন্তা বোলিং নিয়ে। সে বোলিং যে এখন আরব আমিরাতের মতো দলকেও ভয় দিতে পারে না, তাও প্রমাণ হয়ে গেল গতকাল। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে আমিরাতের শুরুর ব্যাটসম্যানরা অন্তত জলবত্ তরল করে রান তুললেন। সবচেয়ে দুশ্চিন্তার ব্যাপার হতে পারে, ছোট দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের স্পিন যে ভয়ঙ্কর ব্যাপার ছিল; সেটা একদমই আর নেই বলে মনে হচ্ছে। গতকাল বাংলাদেশের চার জন স্পিনার বল করলেন এই ম্যাচে। এক রাজ্জাক ছাড়া প্রত্যেকে দু হাত ধরে রান দিয়েছেন। এখন দলের সেরা বোলার সাকিব ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। মাহমুদউল্লাহ ২ ওভারে দিয়েছেন ১৯ রান। আর নাসির ১ ওভার বল করে ১১ রান দিয়ে এসেছেন। রাজ্জাক তার ৩ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন বলে; কিন্তু বলে যে ত্রাস তৈরি করার ব্যাপারটা, সেটা খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। এর বাইরে পেসাররা যথারীতি খরচের ডালি খুলে বসেছিলেন। আল আমিন ৪ ওভারে ২৫ ও ফরহাদ রেজা ২ ওভারে ২৫ রান দিয়েছেন! বরং ৪ ওভারে ১৮ রান খরচ করা রুবেল হোসেনই ছিলেন ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম খরুচে বোলার। এইসব পরিসংখ্যান বড় কোনো দলের বিপক্ষে হলে টি-টোয়েন্টির জন্য ‘খুব খারাপ নয়’ বলে রায় দেয়া যেত। কিন্তু আরব আমিরাতের বিপক্ষে কী তা বলার সুযোগ আছে? শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিংয়েও চরম দীনতা প্রকাশ পেল। দলীয় ১৯ রানের মধ্যেই কোনো রান না করে এনামুল হক বিজয় এবং সাকিব আল হাসান ৯ রান করে ফিরে যান। দু জনেরই আউট হওয়ার ভঙ্গি নিয়েই যথেষ্ট আপত্তি করা যেতে পারে। এরপর উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া তামিম ৪৩ রান করে এবং মুশফিক ২৭ রান করে যেভাবে আউট হলেন, তাও বা কিভাবে মেনে নেন। এই দলে যোগ দিয়ে নাসির-মুমিনুলও আত্মহনন করে ফিরলেন। শেষ পর্যন্ত একটা ব্যাপার অন্তত প্রমাণ হল, ম্যাচের ফলাফল যাই হোক, প্রয়োজনীয় ছন্দটা কিছুতেই মাঠে অন্তত ফেরাতে পারছে না বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোর আরব আমিরাত ২০ ওভারে ১৪২/৭ (আলী আমজাদ ১৯, ফাইজান ৩১, খুররম ৪৪, স্বপ্নীল ২, সালমান ১৯, জাভেদ ৬, রোহান ৬*, বিক্রান্ত ১১; আল আমিন ১/২৫, রুবেল ১/১৮, মাহমুদউল্লাহ ১/১৯, ফরহাদ ২/২৫, সাকিব ০/২৮, নাসির ০/১১, রাজ্জাক ১/১৫)। বাংলাদেশ ১৮.৫ ওভারে ১৪৬/৬ (তামিম ৪৩, বিজয় ০, সাকিব ৯, মুশফিক ২৭, মুমিনুল ৪, নাসির ১৫, মাহমুদউল্লাহ ২৯*, ফরহাদ ১৪*; গুরুগে ২/২৫, সিলভা ০/৩০, জাভেদ ১/২৫, শাহাজাদ ১/২০, মুস্তফা ১/৩৬, খুররম ১/৯)। ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী