দেশে সম্প্রচার হওয়া বিদেশি চ্যানেলগুলো কোন কোন খাত থেকে কী পরিমাণ আয় করে এবং ওইসব অর্থ কী উপায়ে তাদের দেশে নিয়ে যায় সে বিষয়ে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে কোন তথ্য নেই। ফলে সরকার ওইসব চ্যানেলের কাছ থেকে কোন ভ্যাট পাচ্ছে না।
ওইসব টিভি চ্যানেল বা সেগুলোর সম্প্রচারকারী কর্তৃপক্ষের আয় এবং তাদের বৈধতা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজস্ব বোর্ড। অবৈধ উপায়ে অর্থ স্থানান্তরের সন্ধান পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। অভিযোগ রয়েছে, ওইসব টিভি চ্যানেল বছরের পর বছর বাংলাদেশে সম্প্রচারিত হয়ে আসলেও সরকার কোন ভ্যাট পাচ্ছে না। অথচ দেশীয় টিভি চ্যানেলের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করছে সরকার।
গতকাল বুধবার দেশীয় টিভি চ্যানেল মালিকদের (অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্স-অ্যাটকো) সঙ্গে বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। বৈঠকে টিভি চ্যানেলগুলোর কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটিতে এনবিআর ও টিভি চ্যানেল মালিকদের পক্ষ থেকে ২ জন করে সদস্য থাকবেন। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে কমিটির সুপারিশ জমা দেবে।
বৈঠকে অ্যাটকের সাধারণ সম্পাদক শাইখ সিরাজ, সহ-সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী, চ্যানেল-২৪-এর এ কে আজাদ, চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেল ৭১-এর মোজাম্মেল বাবু, বাংলাভিশনের আব্দুল হক ছাড়াও এনবিআর সদস্য সৈয়দ আমিনুল করীম ও ফিরোজ শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে এনবিআর চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশি চ্যানেলের কাছ থেকে সরকার তাদের কাছ থেকে কোন ভ্যাট পায় না। অথচ বাংলাদেশি চ্যানেল ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিচ্ছে। এখানে নানামুখী আয় তারা কী উপায়ে তাদের দেশে নিয়ে যাচ্ছে তারও কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) তদন্ত করে কোন অবৈধ উপায়ে অর্থ স্থানান্তরের (মানি লন্ডারিং) সত্যতা পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে মামলা করব। এসব চ্যানেল সম্প্রচারের অনুমোদন কী উপায়ে দেয়া যায় তাও ভাবা হচ্ছে। এছাড়া সংবাদপত্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সুবিধা চাওয়া হয়েছে।
বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশি চ্যানেল এ দেশে প্রচারের বৈধতা আছে কি না তাও জানা দরকার। তবে আমাদের উদ্বেগ হলো আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স পাচ্ছি না।
বৈঠকে অ্যাটকের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে প্রায় ৫ কোটি টিভি গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি বছরে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়। এর উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারের আদায় হওয়ার কথা। এই টাকার একটি বড় অংশ বিদেশি চ্যানেলগুলোর কাছ থেকে আসার কথা। কিন্তু সরকার তা পায় না। তারা বলেন, বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল ভারতে সম্প্রচারের সুযোগ পায় না। কিন্তু ভারতসহ অন্যান্য দেশের টিভি চ্যানেল দেদারসে বাংলাদেশে সম্প্রচার হচ্ছে। এর ফলে দেশীয় টিভি চ্যানেল তাদের হাতে মার খাচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি টিভি চ্যানেল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে টিভি চ্যানেল কোম্পানির বার্ষিক কর্পোরেট ট্যাক্স বিদ্যমান সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমানো ও সংবাদপত্রের ন্যায় সুযোগ-সুবিধা দাবি করা হয়। অ্যাটকো সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে দেশীয় টিভি চ্যানেলের কাছ থেকে সরকার প্রায় ২০ কোটি টাকা করে ভ্যাট আদায় হয়। কিন্তু বিদেশি টিভি চ্যানেলের কাছ থেকে ভ্যাট বাবদ কোন অর্থ আদায় হয় না।
ডেভেলপারদের তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির
মালিকদের কর ফাঁকি অনুসন্ধান
রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য স্থানে বাড়ির মালিকদের করের আওতায় আনতে এবার ডেভেলপারদের সহায়তা নেয়া হবে। অর্থাত্ ডেভেলপার বাড়ি উন্নয়ন বাবদ বাড়ির মালিককে কখন কত টাকা পরিশোধ করেছেন ওই তথ্যের উপর ভিত্তি করে তাদের উপর কর ধার্য করা হবে। গতকাল সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এনবিআর ১ লাখ ৩৬ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পেয়েছে যাদের কর ফাইল নেই। কর সনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেয়ার জন্য তাদের তাগাদা দেয়া হলেও এক হাজার লোকেরও আয়কর রিটার্ন পাওয়া যায়নি। এটি খুবই হতাশাজনক। বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তাদের উপর কর ধার্য করা হবে।
