একাত্তরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কামনা করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও সৈয়দ হায়দার আলী। তুরিন আফরোজ বলেন, অপরাধের ধরন অনুযায়ী নিজামীর সর্বোচ্চ শাস্তিই কেবল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
তুরিন আফরোজ বলেন, নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বুদ্ধিজীবী হত্যা ও হিন্দুদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ অপরাধ গণহত্যার মধ্যে পড়ে। তিনি বলেন, পাকিস্তান ছাত্রসংঘের সভাপতি হিসেবে নিজামী একাত্তরে তরুণ সমাজকে স্বজাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উস্কানি দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক আইনে উস্কানি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। একজন ব্যক্তি জনগণকে প্রভাবিত করে, হুমকি দিয়ে বা পরামর্শ দিয়ে উস্কানি দিতে পারে। ১৯৭১ সালে নিজামীর দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যও ছিল উস্কানিমূলক। তিনি বলেন, একাত্তরে নিখিল পাকিস্তান ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন নিজামী। যার নির্দেশেই ছাত্রসংঘকে প্যারা মিলিশিয়া আল বদর বাহিনীতে পরিণত করা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ গত বছরের ১৩ নভেম্বর নিজামীর মামলার কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন। ঐ সময়ও যুক্তিতর্কের শেষে নিজামীর সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের চাকরির বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ায় তিনি গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর অবসর নেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এই মামলায় নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন। ১০ মার্চ থেকে নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ।
