উদ্ধার তত্পরতা নিয়ে নানা প্রশ্ন

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৪, ২৩:১১
বিমান নিখোঁজের ৫ দিন কেটে গেছে। উদ্ধার তত্পরতায় নিয়োজিত আছে প্রভাশালী দেশগুলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিমানের কোনো হদিস পায়নি কেউ। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কেবল যে জানে না তাই নয়, বিমানটির ভাগ্যে কী ঘটেছে বা ঘটতে পারে তাও বলতে পারছে না। ফলে উদ্ধার তত্পরতা নিয়ে নানা সন্দেহ এবং অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে মানুষের মাঝে। সবার মাঝে এখন সন্দেহের মেঘই ঘনীভুত হচ্ছে। খবর সিএনএন’র গতকাল বুধবার উদ্ধার তত্পরতায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা উদ্ধার তত্পরতার সীমানা আরো বাড়িয়েছেন। আওতা বাড়িয়ে ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটার করা হয়েছে। এখন দক্ষিণ এশিয়ায়ও উদ্ধার অভিযান চলতে পারে। অভিযান চলবে আন্দামানেও। এদিকে ভিয়েতনাম গতকাল থেকে অভিযানে অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছে। ভিয়েতনাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা মালয়েশিয় এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ বিমান অনুসন্ধানে বিমান তল্লাশি স্থগিত করেছে। তবে সমুদ্রে তল্লাশি অব্যাহত রাখবে। একইসঙ্গে তারা বিভিন্ন দেশের অনুসন্ধানের সম্ভাব্য নতুন দিক সম্পর্কে মালয়েশিয়ার ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবহন বিষয়ক উপমন্ত্রী ফ্যাম কুই তায়িউ বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান অনুসন্ধানে তল্লাশি অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে নতুন করে অনুসন্ধান কাজ শুরু করতে মালয়েশিয়ার তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছি। তবে তিনি জানান, সীমিত আকারে নৌযানের সাহায্যে ওই এলাকায় অনুসন্ধান তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে। ভিয়েতনামের উপ-পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমানটি সম্পর্কে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত তথ্য দিতে পারেনি। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরো তথ্যের অপেক্ষায় আছি। তবে মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন তার সরকারের তরফ থেকে অভিযান সঠিকভাবে চালাতে কোনো ধরনের অবহেলা করা হচ্ছে না। বিমানের গন্তব্য স্থান নিয়েও সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারছে না কেউ। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার বিমান বাহিনীর এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, এয়ার ট্রাফিকের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটি মালাক্কা প্রণালীর দিকে গিয়েছিল। কিন্ত সেই তথ্যও সঠিক নয় বলে মনে হচ্ছে। এতথ্য পাওয়ার পর অভিযানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়। এর মাধ্যমে ভয়ানক কিছু ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করেন। অনেক বিশেষজ্ঞই এনিয়ে তাদের মতামত দিতে থাকেন এবং বলেন, এটা হলে হয়তো বিমানটিকে কেউ ভিন্ন দিকে নিয়ে গেছে। নিউইয়র্ক টাইমস মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অফিসের মুখপাত্র তেংকু শরিফউদ্দিন তেংকু আহমেদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, তেংকু আহমেদ সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু কেউ বিমানটির গতিপথ পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। অভিযানে ১২টি দেশের ৪২টি জাহাজ, ৩৯ টি বিমান অংশ নিয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর এবং মালাক্কা প্রণালীর পানির মধ্যে ছাড়াও ভূমিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু বিমানের কোনো রহস্যই উদঘাটন করতে পারেনি কেউ। বিমানের এক টুকরো ধ্বংসাবশেষও পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত।