গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড.খন্দকার শওকত হোসেনকে নিয়ম লঙ্ঘন করে প্লট বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল হকসহ দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অপর কর্মকর্তা হলেন রাজউকের তত্কালীন বোর্ড সভার সদস্য নাসির উদ্দিন। বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদক উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর আগে একই অভিযোগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নূরুল হুদাকে দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর গত ৫ মার্চ প্লট গ্রহীতা সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব (বর্তমানে প্রবাসীকল্যাণ সচিব) ড. খন্দকার শওকত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেনের নামে বরাদ্দকৃত উত্তরা আবাসিক এলাকায় তিন কাঠার প্লটের আকার পরির্বতন করে পাঁচ কাঠায় বর্ধিত করায় রাজউক বোর্ডের ছয় সদস্যকে দুদকে তলব করা হয়েছিল। তত্কালীন বোর্ড সভার সদস্য নাসির উদ্দিন দুদকে হাজির হন। দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে নোটিস পেয়েও দুদকের ডাকে সাড়া দেননি রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান (২০০৫ সালের চেয়ারম্যান) শহীদ আলম এবং তত্কালীন সদস্য আজিজুল হক, এ কে এম হারুন, আখতার হোসেন, নাজমুল হাই এবং রেজাউল করিম তরফদার।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগে জানা যায়, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব (বর্তমানে প্রবাসীকল্যাণ সচিব) ড. খোন্দকার শওকত হোসেন ২০০১ সালে নিজের নামে সমপ্রসারিত উত্তরা প্রকল্পে ৩ কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়ে ৫ কাঠায় উন্নীতকরণ করেন। সেখান থেকে পরে ২ কাঠা বিক্রি এবং পরে ডেভেলপমেন্টের জন্য পুরো ৫ কাঠার আমমোক্তার প্রদান, ২০০৪ সালে পূর্বাচল প্রকল্পে তার স্ত্রী ড. আয়েশা খানমের নামে সাড়ে ৭ কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়ে প্রথমে ১০ কাঠা এবং পরে সাড়ে ১২ কাঠায় উন্নীত করেন। রাজউকের উত্তরা আবাসিক প্রকল্পে অভিনব কায়দায় মায়ের নামে নিয়েছেন ৩ কাঠার প্লট। একই পন্থায় ৩ কাঠার প্লটকে ৫ কাঠায় উন্নীত করার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, প্রভাব খাটিয়ে সচিব উত্তরা আবাসিক প্রকল্পের ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রাস্তায় ১০৬ নম্বর প্লটটি প্রথমে তার বন্ধু আবু হানিফ মাহমুদের নামে বরাদ্দ নেন। ১৯৯৫ সালের ১২ মার্চ হানিফের কাছ থেকে সাফ-কবলা ক্রয় দেখান তার মা জাকিয়া আমজাদের নামে। তার মাকে দিয়েই ৩ কাঠার প্লট ৫ কাঠায় উন্নীত করার আবেদন দেন।
