কামাল চৌধুরীর কবিতা

সময়ের প্রতিচিত্র

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৪, ১৭:৫৫
আর এটা ঠিক যে ক্রিয়েটিভ সাবকনশাস, কালেকটিভ সাবকনশাসের মধ্যে নিহিত ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ। ব্যক্তির ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া। ফলে এ দুইয়ের অন্বয়ে গঠিত কর্ম ও জীবন। এটাও ঠিক যে কর্ম ও জীবন এক প্রচল-ভাষায় প্রবহমান। অথবা ‘কর্ম’ শব্দের শরীর ভেঙে গড়ে নিতে পারে যে কেউ নিজস্ব বলয়। বাস্তব ও প্রতি-বাস্তব চিন্তনের মিশেলে ‘কর্ম’ শব্দের শরীরে একীভূত মন, তথা মনন, ফলে মননে সৃজন একাধারে স্থায়িত্ব লাভ করতে পারে ব্যক্তির কল্প-মানসে। আমরা সৃজন আবিষ্কারের প্রক্রিয়ায় জীবনের উপলক্ষকে সৃজনশীলতা ভাবতে পারি, যার জীবনে সৃজনের স্থায়িত্ব বেশি, তার জন্য আলাদা স্পেস ছেড়ে দিয়ে ভাবি, কর্মকে ডোমিনেটকারীর প্রভাবই বেশি। অতএব শব্দের আত্মীয়তাকে যিনি টেনে টেনে নতুন শব্দ-প্রজন্ম গড়ে তোলেন তাঁর বাক্যমালায় তিনি কবি। কবি কামাল চৌধুরী। শুচিবুদ্ধির প্রসারতায় কবিতার যে আয়োজন করেন, আমরা তা সাবকনশাস অনুভবে দেখে নিতে পারি। কেননা শুদ্ধচারী পাঠকমাত্র বিচার বিশ্লেষণগামী। কবিতার মহাযাত্রায় কবি কামাল চৌধুরী কতটা সৃজন অনুগামী, কতটা প্রথা অনুগামী—এই বিশ্লেষণ বা বিচারের লক্ষ্যে না গিয়েও কেবল দেখে নেয়া যায় তাঁর শব্দ ও বাক্য-ভ্রমণ কতদূর কাব্যিক ইল্যুশন আমাদের ইমেজাক্রান্ত করে। সরল চোখে দেখা সব বাস্তব, প্রতি-বাস্তবের টানাপোড়েনে যত চেতনার জন্ম, তা সমাজের যাবতীয় বৈষম্যের মাঝে অনুভূত হয় কী রূপে। আর সবকিছু যুক্তিবিধৌতভাবে দেখার নয় যে, এটা স্বীকার করার মতো সাহস জিইয়ে রেখে, কোনো ব্যাকরণিক সালিশের সম্মুখে না পড়ে শুধু ভালোলাগা, অনুভূতি জাগরুক পাঠকরা পড়ে নিতে পারে কবি কামাল চৌধুরীর ‘কবিতাসংগ্রহ’ গ্রন্থটি। সেটা হতে পারে আনুভূমিক পাঠ। কবিতার প্রতিচেতনার সড়কে হেঁটে, অনুগামী শব্দমালাকে ধ্বনিত উপায়ে বা ধ্বনিহীন। কবির রক্তস্রোত, মননের অভিঘাত, বুদ্ধির প্রসার, রুচির কারুকাজ, ইমেজের বাহাদুরি পাঠকের সামনে যে পর্দাটা শ্রুতির প্রলেপ টানিয়ে দিয়ে থাকে, তার একটি সরল উম্মোচন করা যেতে পারে। তবে, প্রথমেই, উত্সর্গপত্রের কবিতায় বোধগম্য পঙিক্ত পাঠ করে নিই––‘এখন বৃষ্টি, অন্ধকার গভীর রাত, চতুর্দিকে বৃষ্টির শব্দ/ বৃষ্টির ভেতর অশ্রুর শব্দ, অশ্রুর ভেতর কান্নার শব্দ/ বাতাস দোলনা দিচ্ছে। পাতা নড়ে উঠছে, আর সব অস্পষ্ট’ তবে পাঠক কিন্তু স্পষ্ট, কবিতাই বহমান কবির রক্তের মিথোস ও লোগোস-এর অপূর্ব অন্বয়ে। শব্দ-ভাষায় যে নতুন শ্রুতির দ্যোতনা দিচ্ছে, তাতে দর্শন ও চিন্তার জোগানের কমতি নেই, পাঠকের মনোবিশ্বে কবিতাকে ভালো লাগার যোগ তৈরি হয়েছে অবলীলায়। তবে বলা যাবে যে আধুনিক পাঠকমাত্র উপনিবেশিক রুচি তথা ইউরোপীয় আধুনিকতার পায়ের তলে মাথা দিয়ে আছে অনেকটা। কলোনির স্বাভাবিক পতনের পর জ্ঞানের মোড়কে আমাদের চোখ ঝলসে যাচ্ছে নতুন নতুন জ্ঞানতত্ত্ব, ডিসকোর্স বা ছদ্মবেশী প্যারাডক্সে। ফলে আপন সংস্কৃতিকে রক্ষার তাগিদ উপেক্ষা করে সুকৌশলে লেখকও আধুনিকতার নামে আত্মবির্সজন দিয়ে চলেছে, দিতে প্রস্তুত। মাইকেল মধুসূদন দত্তের সময় হয়ে তিরিশের অনেকের মতো; (পঞ্চপাণ্ডব)। তাই সীমিত কবিতার পাঠকের সামনে লেখক তার ঔপনিবেশিক মগজস্থ বুদ্ধিবৃত্তি হাজির করে থাকে। তবে কবি কামাল চৌধুরীকে পাঠে দেশজ কৃষ্টিধারী বলেই মনে হয়েছে। জনকালচারের অনুধ্যান তাঁর কবিতার বিভিন্ন স্তরে পরিলক্ষিত, বলা চলে বাস্তব অথচ নীরব, সচল। সামাজিক জীবনের যে ডাইলেক্ট তা বাস্তব নীরব চলনের ভেতর কবি-জীবনের প্রথম থেকেই লক্ষণীয়। সেই মধ্য-সত্তরের অস্থির সময় থেকে আজ অবধি তা চলমান। তবে সত্তর দশকের স্লোগানধর্মিতার যে বেড়াজাল তা থেকে কামাল চৌধুরী মুক্ত না-হলেও স্বতন্ত্র একটি ধী-কাব্যশৈলী আয়ত্ত করেছেন। কাব্যভাষা বা ভাষার আইডেনটিটি কবিকে চেনায়, যদিও তাঁর ব্যাপক আলোচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘মিছিলের সমান বয়সী’। যা স্লোগানধর্মিতার দায়মুক্ত নয়, হয়তো সেটা সময়ের দাবি হিসেবে এসে গিয়েছে, তবে তাঁর কাব্যাকর্ষণ মোটের ওপর স্লোগানকে উপজীব্য করে না, বরং বলা যায় ধ্যানী বকের মতো মগ্নচৈতন্যের ‘রেখা-ছবি’ কবিতাকে আচ্ছন্ন করেছে। ‘কবিতাসমগ্র’র প্রথম কবিতাটির নাম ‘জন্মের প্রার্থনা’। তাতে দেখি স্লোগান নয় দর্শনগত ইমেজ কবিতাকে কোমল অনুভূতির সুতায় বুনে যাচ্ছে। ‘কবরের প্রতীক্ষায় থাকা একজন বৃদ্ধ যদি/ আমাকে আশীর্বাদ করে কাঁপা কাঁপা হাতে/ খনি আর তাঁতকল ফেরা একজন শ্রমিক যদি/ ভাই বলে ডাকে/ যদি ভালোবেসে বুকে নেয় কালিঝুলি মাখা হাতে’ সময়-সমাজ-রাষ্ট্র-নাগরিক-জাগরণের মহাসড়কের চৌরাস্তায় বসে কেবল সমসাময়িক কবিদের মতো চিত্কার-চেঁচামেচি নয়, বোধের অতলান্তে ডুব মেরে ঝিনুক কুড়ানোর মতো মেটাফর, পিকটোগ্রাফ বিনির্মাণ যেন কামাল চৌধুরীর কবিতার আভীষ্ট লক্ষ্য। পাশাপাশি স্ট্রাকচারাল ফরমালিজম চর্যাও করে চলেছেন। একাধারে কবিতার স্তরে, স্তবকে স্তবকে। ফলে মিছিলে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি মিছিলের শেষে নীরবতার কুঁড়েঘরে বসে ধ্যান যেন কবি-মানসে বদ্ধমূল। তা ‘মিছিলের সমান বয়সী’র কবিতাগুলো পাঠে অনুধাবন করা যায়। যেমন—‘পদচিহ’, ‘পাখিদের স্বভাব’, ‘রক্তাক্ত পঙিক্তমালা’ তারই প্রমাণ বহন করে। কবিতার চরিত্র বিশ্লেষণ করেই জোরালোভাবে বলা যায়, কবির চরিত্রে সত্তরের রাজনৈতিক স্পিরিট, আশির ধী-চৈতন্য নির্মাণ বা ডিসিপ্লিন সমান্তরালভাবে ঢুকে গেছে। একদিকে জাতির দায়বদ্ধতা, তথা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক বন্ধ্যাত্ব, অন্যদিকে নিজস্ব ভাব-ভাবনায় কাব্যিক রূপবন্ধন গঠন প্রচেষ্টা। ‘মহান মানব ছিলে—দেবতা তো কখনো ছিলে না/ দেবতা বানিয়ে যারা পদধূলি নিয়েছে তোমার/ জনসভা সেমিনারে বহুবার জীবন দিয়েছে/ তোমার মৃত্যুর পর/ তারা কেউ আমাদের সাথে নেই আজ’ (টুঙ্গীপাড়া গ্রাম থেকে, মিছিলের সমান বয়সী ১৯৮১) ওই সময়ে বিপ্রতীপ বোধের স্তরে বি-স্তরে মানসিক টানাপোড়েন মাড়িয়ে একজন কবিতাকর্মীর এগিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। হয়তো তাই কবিতাসংগ্রহের সূচি ঘেঁটে দেখি, প্রথম কাব্যগ্রন্থ ১৯৮১ সালে প্রকাশের দীর্ঘ দশ বছর পর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থের প্রকাশ। দীর্ঘ সময়ের কাব্য-নীরবতায় কি কোনো পালাবদল ঘটেছিল কবির মানসপটে, কিংবা কোনো কাব্য টানাপোড়েন? হ্যাঁ, দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘টানাপোড়েনের দিন’। সত্যিই কবি কামাল চৌধুরী মুক্তি ও বিপ্লব-এর কবিতা’র ভেতর দিয়ে দ্বৈত-সত্তার কনশাস ও সাবকনশাসের মধ্যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যে পাবলিক ফিলোসফির জাগৃতি, তাঁকে আলোড়িত করেছে অনায়াসে। পরবর্তী সময়ে প্রিয়বন্ধু ‘রুদ্র, কোথায় খুঁজবো আমি’র ভেতর হারানো ক্যাম্পাস, ডাকসু, মধুর ক্যান্টিন, উন্মাত্তাল সময়ের স্থিরচিত্র, চালচিত্রের উপস্থিতি আপ্লুত করেছে কাব্যপ্রেষণা। এই বহতা সময়ের গায়ে টুকরো স্মৃতির পালক দিয়ে তৈরি হলো অনেক কবিতার কোমল শরীর। ‘কোথায় খুঁজবো আমি–– মংলায় না কি কোনো/ নিঃসঙ্গ বন্দরে/ শুঁড়িখানায় বেহেড মাতালের পাশে/ রাত্রি গভীর হলে শূন্য গ্লাস ছুড়ে ফেলে/ কোন দিকে যাও/ কোথায় লুকাও শেষে দগ্ধ হূদয়?/ ‘দু’জনে ছিলাম ভ্রূণে, জড়সড় হয়ে মাতৃগর্ভে/ অবচেতনের রহস্যপুরীতে কেটে গেছে বেলা/ রক্তচোষা সন্তান আমরা, মাতৃরক্ত চুষে চুষে/ পেয়েছি আকার’ (––যমজ) বন্ধুকে খুঁজতে খুঁজতে পাওয়া কাব্য-ডিসকোর্স, অতিমাত্রায় ভাবাবেগ অনুভূতির মোচড়ে মোহগ্রস্ত পাঠককে সঙ্গী করে এগিয়ে গেছেন কবিতা বিরচনে––‘হাম খোদ মঈনুস সুলতান/ শালা, হামকো আওর এক গ্লাস দো/ ব’লেই লাফিয়ে উঠল সে/ শুঁড়িখানায় গম্গম্ মাতালের ভেতর’ (––আওর এক গ্লাস) উল্লেখ্য যে, মধ্য সত্তরে মইনুল আহসান সাবের, মোহন রায়হান, মঈনুস সুলতান, মুনির মোরশেদ, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আলী রীয়াজ মতাদর্শের ভিন্ন অবস্থানে থাকলেও সমসাময়িক এই তুর্কীরা সামাজিক বৈষম্য, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। তাঁরা সাহিত্যিক হলেও ছিলেন প্রবল রাজনীতিমনস্ক, তাই সময়ের বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে লেখালেখির পাশাপাশি করেছেন স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত। তার অংশ হিসেবে কামাল চৌধুরী ডাকসুতে সাহিত্য সম্পাদক প্রার্থী হন। এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন এই কবি বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মূল সঙ্গীত রচনা করেন। বহুরৈখিক জন্ম রহস্যের আবহ বজায় রেখে নিজস্ব পথের সন্ধানে জড়সড়ো মাতৃগর্ভে গিয়ে থামে কবির দীপ্ত কলম। কখনো বা বোধগত এক জগত্ উপস্থাপন করেন কল্পনায়, শব্দ, শব্দবন্ধ ও চিত্রকল্পের ব্যবহার পাঠকালীন অভিজ্ঞতায় বুঝে নেয়া যায়, নিজস্ব কাব্য দর্শনের জোরালো দাবি, তা পূরণ হয়ে যায় কামাল চৌধুরীর সরল রৈখিক কাব্যভাষায়। আর কনটেন্ট নির্বাচনে তাঁর ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতায় অনন্য। এই ইনক্সট্রিকেবল হোল জানার জন্য আমরা কবির নিজস্ব বাচন বারবার পড়ে দেখতে পারি। কবি পারেন কবিতার মহাযান চালিয়ে কখনো হাজার বছর পূর্বে গুহার প্রহরে, কখনো ভবিষ্যতের নতুন কোনো নক্ষত্রের কল্পলোকে চলে যেতে। প্রবল মানবিক ঘোরদর্শন, মতাদর্শ, বিষয়বৈচিত্র্যের জাল বুনে যান কামাল চৌধুরী তাঁর অপরাপর কবিতায়। অবরুদ্ধ জানালাগুলো শব্দের চালুনি দিয়ে ছেঁকে বাক্য এগিয়ে নেন সমকালীনতা অতীতকালীনতায়। মিথ ও সমকালীনতার ধারণা উন্মোচন ঘটিয়ে ঘটিয়ে রচনা করেন, ‘এই পথ এই কোলাহল’, ‘এনেছি নিজের ভোর’, ‘এই মেঘ বিদ্যুতেরা’, ‘ধূলি ও সাগর দৃশ্য’, ‘রোদবৃষ্টি অন্তমিল’, ‘হে মাটি পৃথিবীপুত্র’ নামের কাব্যগ্রন্থ। মোট আটটি কাব্যগ্রন্থে যে পরিমাণ কবিতা আছে তাতে প্রতিচেতনার স্বর, ভাষা নিজস্বতার আপন স্বরটি ধরা দেয় তাঁকে। সময়জ্ঞান ও ইতিহাসচেতন দ্যোতনাও স্বরকে পরিবেষ্টিত রাখে। কবিতা ও পাঠকের মধ্যে যে সেতু, তা সফলভাবে অনেক ক্ষেত্রে তৈরি না-হলেও কনটেন্ট, কনসেপ্ট বিবেচনায় ইতিহাস (Time) প্রবলভাবে পরিলক্ষিত, এই ক্ষেত্রে কবি জীবনানন্দ দাশ বলেন––‘কবিতার অস্থির ভিতরে থাকবে ইতিহাসচেতনা/ ও মর্মে থাকবে পরিচ্ছন্ন কালজ্ঞান’ এই বিবেচনায় কামাল চৌধুরীর কবিতা শিল্প প্রকীর্ণ ও অভিনিবেশিত নির্ধারিত পাঠককূলে। কেননা কবিতার স্থির আইডিয়া সময়কে (Present) নিয়ে যেতে পারে আদিম ধারাপাতে, তার বেদ-পুরাণের উপলব্ধ ভাব ও ভঙ্গি সমসাময়িক টুলসের মাধ্যমে কবিতায় ব্যবহার করে শ্রুতিগ্রাহ্য এক মায়া তৈরি করতে পেরেছে বলেই মনে হয়। ‘শরীরে জমেছে এক জনমের দাহ/ আগুনের কাছে যাপিত জীবন, প্রভু/ আমাকে নেভাও, আমাকে নেভাও তুমি’ (–– দহন) ‘জনারণ্যে দেখি রোদ্দুরের খেলা/ তোমাকে দেখি না তাতে/ চোখ দিয়ে আমি আজ হয়েছি হোমার’ (–– দূরত্ব) তো কিভাবে গড়ে ওঠে কবিতা, ফলে কিভাবে তৈরি হয় কবিতা, নানামুনির নানা মত। কোন দৃশ্য, শব্দ, চেতন, অবচেতন, অধিচেতনের কোন নদীতে ফেলতে হবে জাল, স্বভাবতই খাঁটি জেলের মতো কামাল চৌধুরীর কলমের টানে উঠে আসে কাব্যমাছ, আসবে। মডার্ন, পোস্ট মডার্ন, প্রি-মডার্ন, হাইপার মডার্ন, কলোনিয়াল, পোস্ট কলোনিয়াল যে পরিভাষার চোখেই কবিতাকে দেখতে চাই না কেন, কবি কামাল চৌধুরী নিজস্ব শক্তিতেই তা প্রবলভাবে উতরে যান প্রতিবার। কেউ ভেতরে, কেউ বাইরে, কেউ স্ট্রাকচার, কেউ সুপার স্ট্রাকচার না কপচিয়ে হার্মফুলি যে কেউ নেহাত আবেগ দিয়ে লিখে ফেলতে পারে হূদয়গ্রাহী কোনো কবিতা। কামাল চৌধুরীও কেবলমাত্র দর্শন বিমূর্ত দুর্বোধ্যতায় আবদ্ধ না হয়ে কাব্যদৃশ্য তৈরি করেন। আমাদের সামনে যার প্রমাণ খুলে যাচ্ছে বারবার। যারা কবিতাকে কেবল, কেবলমাত্র টেক্সট তৈরি করার প্রয়াসে দুর্বোধ্য করে তোলে, তাদের দলে তিনি সামিল নন। তাঁর কবিতা মূলত রক্ত-মাংসে গড়া সময় সমাজ কাল কালাকালের বিমিশ্রণে রাজনৈতিক প্ররোচন, যা মানবিক প্রকাশে সুন্দর ও সৌন্দর্যকে উত্কর্ষতা এনে দেয় প্রতিনিয়ত।