সেদিন গর্জন করে উঠেছিল শৃঙ্খলিত বৈশাখের মেঘ—
ফুঁসে উঠেছিল বঙ্গোপসাগর;
ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ছুটে এসেছিল
শঙ্খ আর বাইগার বিশাল মিছিল;
কতো যে বিচিত্র নাম— মুখচ্ছবি— ভাষাও আলাদা;
গন্তব্য অভিন্ন তবু— একটাই দাবি।
সেই মন্ত্র পৌঁছে গিয়েছিল ঘাসে, বৃক্ষে, লতাগুল্মে—
দোয়েলের নীড়ে আর কুম্ভকর্ণ মাটির হূদয়ে।
তখন জালালাবাদ, মহাস্থানগড় কথা বলে উঠেছিল;
তখন সোনারগাঁর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে
ডানা মেলেছিল সুবিশাল এক স্বপ্ন;
তখন পদ্মার রুক্ষ বক্ষ ফুঁড়ে— আম্রকাননের অস্তমিত সবুজের
বিবর্ণ ললাট জুড়ে উঁকি দিয়েছিল স্বনির্মিত এক সূর্য।
তখন মুহূর্তে সব রঙ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল;
সব কণ্ঠ এক হয়ে উড়ে গেল বজ্রের ডানায়।
কালিদাসের মেঘেরা এসে ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে নিয়েছে তাকে।
