সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার নিভৃত পল্লী জেয়ালা গ্রামটি একটি আদর্শ দুধ গ্রাম হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই গ্রামের ঘোষপাড়ার ১৬০টি পরিবার গাভী পালন ও দুধ উত্পাদনের সাথে জড়িত। এখানে প্রতিদিন দুধ উত্পাদন হয় প্রায় ১০ হাজার লিটার। উত্পাদিত এই দুধ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে মিল্ক ভিটা, ব্র্যাক, প্রাণ ও আড়ংসহ বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়। খামারিরা ডেইরি ফার্মের পাশাপাশি গো খাদ্যের জন্য ২৫ একর জমিতে নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষও শুরু করেছেন। এছাড়া ফার্মের গোবরকে কেন্দ্র করে ১৫টি বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি করা হয়েছে। গ্রামের সব কয়টি পরিবারই এখন সচ্ছল। গরুর খামার ও বায়োগ্যাস প্ল¬ান্টে কাজ করে এই এলাকার অনেক বেকার তরুণ-তরুণী এখন সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছে।
স্থানীয়রা জানান, তালা উপজেলার জেয়ালা আদর্শ দুধ পল্ল¬ীতে বর্তমানে ১৩০টি ডেইরি ফার্ম রয়েছে। যেখানে ১১৪০টি উন্নত জাতের গাভী, ১১২টি দেশি গাভী, প্রায় ৫০০টি শংকর জাতের গরুর বাচ্চা রয়েছে। এই ডেইরি ফার্ম দেখাশুনা করার জন্য কয়েক হাজার লোক দিনরাত পরিশ্রম করছেন। নীরবে নিভৃতে দুধ পল্ল¬ী জেয়ালা একটি আদর্শ দুধ গ্রাম হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামের অধিকাংশ পরিবার বংশপরম্পরায় এর আগে পুরনো পদ্ধতিতে দেশি গরু পালন ও দুধ উত্পাদনের সাথে জড়িত ছিল। এই গ্রামের কালিপদ ঘোষের ছেলে প্রশান্ত ঘোষ নামের এক খামারি ১৯৮৮ সালের শেষ দিকে ঢাকার সাভারে বিদেশি জাতের গাভী পালন ও দুধ উত্পাদনের আধুনিক ব্যবস্থা দেখে গাভী পালনে আগ্রহী হন। তার দেখাদেখি অমল কৃষ্ণ ঘোষ, দিবস চন্দ্র ঘোষ ও নিমাই ঘোষসহ অনেকেই শুরু করেন খামার গড়ার কাজ। প্রথম দিকে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে প্রত্যেকেই দুটি করে বিদেশি জাতের গাভী ক্রয় করেন। তাদের দেখাদেখি জেয়ালা গ্রামে বর্তমানে ১৬০টি পরিবার আধুনিক পদ্ধতিতে এই বিদেশি গাভী পালন ও দুধ উত্পাদন করার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। কয়েক হাজার মানুষ এই ডেইরি ফার্ম ও বায়োগ্যাস প্ল¬ান্টে কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। এই নিভৃত দুধ পল্ল¬ীর খামারিদের সরকারিভাবে সাহায্য-সহযোগিতা এবং পশুসম্পদ অধিদপ্তর থেকে তাদের খামারগুলো দেখাশুনা করার জন্য সরকারের কাছে তারা দাবি জানিয়েছেন।
জেয়ালা ঘোষপাড়া দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত ঘোষ জানান, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যয় বেড়েছে খামারিদের। এছাড়া ঘনঘন হরতালে দুধ বিক্রি না হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খামারিরা দেশে দুধের চাহিদা পূরণে আরো অবদান রাখতে পারবেন বলে তারা মনে করেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শিশির কুমার বিশ্বাস জানান, সাতক্ষীরায় দিনদিন গরুর দুধ উত্পাদন বাড়ছে। এ জেলায় ২ হাজারের মত ডেইরি ফার্ম আছে। এর মধ্যে শুধু তালার জেয়ালা গ্রামে রয়েছে ১৩৭ টি ডেইরি ফার্ম।
