কুমিল্লায় ট্রেন থামিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মাদক পাচার

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৪, ২১:৪৯
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন ট্রেন রাতে কুমিল্লার নির্ধারিত স্টেশনের বাইরে থামিয়ে পাচার করা হচ্ছে মাদক ও সীমান্তের ওপার থেকে আনা পণ্যসামগ্রী। মাদক পাচার রোধে ও যেখানে সেখানে ট্রেন থামানো বন্ধে দুই বছর আগে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনে একটি অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। অবশ্য পরে তা তুলে নেয়া হয়। এর ফলে চোরাকারবারীরা আরো অবাধে ট্রেন থামিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক পাচার করছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। স্টেশন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শশীদল রেলস্টেশনটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় চোরাকারবারীরা এই স্টেশনকে মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচারের জন্য নিরাপদ মনে করে থাকে। চোরাকারবারীরা এ রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন আন্ত:নগর ট্রেন থামিয়ে গাঁজা, ফেনসিডিল, বিয়ার, মদ, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, শাড়ি, প্রসাধনী সামগ্রী ও মসলাসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাচার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রেনের চালকসহ অসাধু পুলিশ সদস্যদের সাথে চোরাকারবারীদের যোগসাজশ রয়েছে। এ সুযোগে ট্রেন থামিয়ে বিভিন্ন অবৈধ পণ্য ট্রেনে ওঠানো হয়। সূত্র জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে চোরাচালানের অভিযোগ আসায় দুই বছর আগে আন্ত:নগর ট্রেন থামানো বন্ধ করতে শশীদল স্টেশনে একটি অস্থায়ী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছিল। এতে কিছুটা সুফল দেখা গেলেও পরে অজ্ঞাতকারণে ওই পুলিশ ফাঁড়ি তুলে নেয়া হয়। বর্তমানে পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় চোরাকারবারীদের জন্য পোয়াবারো হলেও চোরাচালান রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। আগের মতোই অবৈধভাবে ট্রেন থামিয়ে পাচার হচ্ছে মাদক ও চোরাচালানের মালামাল। শশীদল রেলস্টেশনের একাধিক সূত্র জানায়, মহানগর গোধূলী, তূর্ণা নিশিথা, উপকূল এক্সপ্রেস, উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকা মেইলসহ রাতে চলাচলকারী ট্রেনগুলোকে চোরাকারবারীরা অবৈধ পণ্য পাচারের বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে। মাঝে মধ্যে র্যাব-বিজিবি এসব স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদক ও চোরাচালান মালামাল উদ্ধার করে থাকে। সম্প্রতি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হলেও অবস্থা আগের মতোই রয়ে গেছে। সীমান্তবর্তী শশীদল ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা আরো তত্পর হলে চোরাচালান অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’