কোথায় গেল স্পিন-রহস্য

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৪, ২২:২৪
এই তো মাত্র ক’ দিন আগের কথা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার আগে হ্যাটট্রিকসহ ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়ে ফেললেন সোহাগ গাজী। শুধু কী সোহাগ গাজী? বাংলাদেশি স্পিনারদের ত্রাসে এই সে দিনও থরহরি কম্প হয়েছে বাংলাদেশে খেলতে আসা বিভিন্ন দলের ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু হঠাত্ যেন বাংলাদেশের স্পিনাররা সেই ত্রাস তৈরি করার ক্ষমতাটা হারিয়ে ফেলেছেন। হঠাত্ করেই যেন ব্যাটসম্যানদের ফিরিয়ে দেয়ার মন্ত্রটা ভুলে গেছেন তারা। আর দেশের মাটিতে বাংলাদেশের মূল এই অস্ত্ররা হঠাত্ খেই হারিয়ে ফেলায় বাংলাদেশও যেন জিততে ভুলে গেছে। কারণ কী? প্রশ্নটা শুনে সোহাগ গাজী নিজেও একটু থতোমতো খেয়ে গেলেন যেন। খানিকটা ভেবে নিয়ে বললেন, ‘আসলেই কী যেন হয়েছে। গত কয়েকটা ম্যাচ আমি নিজে খেলতে পারিনি। যাও খেলতে পেরেছি, ঠিক আগের মতো বল করতে পারিনি। কয়েক মাস আগেও তো আমাদের স্পিনাররাই অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। কিন্তু এটা সত্যি যে এই বছরের শুরু থেকে, আমরা স্পিনাররা তেমন ভালো করতে পারছি না। কেন, সেটা আমরাও বোঝার চেষ্টা করছি।’ সোহাগকে হয়তো আজই মাঠে নেমে সেটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। এশিয়া কাপে নিজের বলেই ফিল্ডিং করতে গিয়ে হাত কেটে ফেলা সোহাগ ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন; হাতের সেলাই কেটে বল করাও শুরু করেছেন। ফলে আজ শেষ বারের মতো তাকে ঝালিয়ে নেয়ার জন্য মাঠে নামিয়ে দেয়ার ভালোই সম্ভাবনা আছে। সোহাগ নিজে অবশ্য খেলা, না-খেলা নিয়ে কিছু বলতে চাইলেন না। শুধু বললেন, তিনি খেলার মতো ফিট আছেন, ‘আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ। দল চাইলে অবশ্যই মাঠে নামতে প্রস্তুত আছি। বাকীটা সময় গেলে বোঝা যাবে।’ তবে তিনি মাঠে থাকুন আর নাই থাকুন; আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষটা কী সে ব্যাপারে খুব পরিষ্কার সোহাগ। বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে এই ম্যাচেও জয় ছাড়া বাংলাদেশ কিছু ভাবছে না। তবে শুধু জয়ে তারা সন্তুষ্ট থাকতে চাইছে না। বরং জয়টা যেন আত্মবিশ্বাস চাঙ্গা করে দেয়ার মতো হয়, সেটাই আশা করেন সোহাগ, ‘জয় তো অবশ্যই দরকার আমাদের। দেখুন, টানা অনেকগুলো ম্যাচ হেরেছি আমরা। ফলে আনঅফিশিয়াল হলেও আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয়টা কিন্তু আমাদের বেশ খানিকটা উজ্জীবিত করেছে। এখন আমাদের আত্মবিশ্বাসটা আরও চাঙ্গা করার দরকার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমাদের ব্যাটসম্যানদের, বোলারদের সেরা আত্মবিশ্বাসটা পাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আশা করি আজ সেটা নিয়েই আমরা মূল বিশ্বকাপ শুরু করতে পারবো।’ কিন্তু এই আশাবাদের আগেই আমাদেরকে সেই স্পিন প্রশ্নের সমাধানটা একটু পাওয়া দরকার। গত কয়েক বছর ধরে, ভালো করে বললে সেই ২০০৫-০৬ সাল থেকে বাংলাদেশের মূল অস্ত্র হয়ে আছে স্পিন। এই স্পিন দিয়ে ঘরের মাটির নিচু বাউন্সের ধীর গতির উইকেটে বাংলাদেশ বিশ্বসেরা দলগুলোকেও ঘায়েল করেছে। কিন্তু এ বছরের শুরু থেকে চিত্রটা আমূল বদলে গেছে। এ বছর বাংলাদেশ যে ৭টি ওয়ানডে খেলেছে সেখানে ৮ জন স্পিনার ২০৮.৩ ওভার বল করে মাত্র ২২টি উইকেট পেয়েছেন; ম্যাচে কেউ ৩টি উইকেটও পাননি! আবার দুটি টি-টোয়েন্টিতে ২০ ওভার বল করে ৬ জন বোলার সাকুল্যে পেয়েছেন ৭টি উইকেট। হঠাত্ করে স্পিনাররা খেই হারিয়ে ফেলার বেশ কিছু ব্যাখ্যা বাতাসে ঘুরছে। এই সময়ে সাকিব তিনটি ম্যাচ না খেলা, সোহাগের ইনজুরি প্রভাব ফেলেছে বলা যেতে পারে। তবে একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, উইকেটটা একটা বড় ভূমিকা রেখেছে, ‘শ্রীলঙ্কা সফর ও এশিয়া কাপে উইকেটটা দেখবেন ঠিক নিচু বাউন্স, ধীর গতির ক্ল্যাসিক বাংলাদেশি উইকেট হয়নি। বরং বলা হয় অনেক ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হয়েছে। এই ধরনের উইকেটেও স্পিনাররা চাইলে সহায়তা নিতে পারেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে বাংলাদেশি স্পিনাররা এরকম উইকেটে ঠিক অভ্যস্ত নন। তাই অবস্থা বলে আমি মনে করি।’ অবশ্য সোহাগ এই প্রশ্নের এরকম উত্তর দিতে চাইলেন না। তিনি বলছেন, তারা স্পিনাররা ভালো বল করারই চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনো কারণে উইকেট পাচ্ছেন না। সোহাগ অন্তত খুবই আশাবাদী যে, সমস্যাটা দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে। তিনি আরও নির্দিষ্ট করে বললেন, আজই সে সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে, ‘আমার ধারণা আজকের ম্যাচেই স্পিনাররা অনেক ভালো করবে। আপনি দেখবেন আবার সবাই উইকেট পাচ্ছে। আর একবার উইকেট নিয়ে আত্মবিশ্বাসটা পেলে আমরা ভালো করবোই।’ টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো পাশে রেখে সোহাগের কথাতেই বরং আস্থা রাখা যাক।