কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে পাকিস্তান:মঈন

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৪, ২২:২৪
এমনিতেই পাকিস্তানের পরিচয় ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দল হিসাবে। কোন ম্যাচে পাকিস্তানিরা জ্বলবেন আর কোন ম্যাচে সমর্থকদের হতাশ করবেন সেটা বোঝা কঠিন। আর খেলাটি যখন টি-টোয়েন্টি তখন তো অনিশ্চয়তা আরো বেশি। পাকিস্তান কোচ মঈন খান তাই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তাকে শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে মানতে নারাজ। শিরোপা পুনরুদ্ধারের জন্য পাকিস্তানের সামনে কঠিন এক চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন তিনি। বুধবার একটি বার্তা সংস্থাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে মঈন বলেন, ‘পাকিস্তানের শিরোপা পুনরুদ্ধারের ভাল সম্ভাবনা আছে। তবে তার আগে সুপার এইটের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ী হতে হবে।’ আর এই পরাশক্তিদের হারাতে হলে, সবার আগে প্রয়োজন হবে দ্রুত বাংলাদেশের পরিবেশের সাথে নিজেদের মানিয়ে নেয়া। এরপর যদি খেলোয়াড়রা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মাঠের খেলায় ভূমিকা রাখতে পারেন তাহলে কিছুই অসম্ভব নয় জানিয়ে মঈন বলেন, ‘অতীতে এবং বর্তমান সময়ে আমরা দেখেছি সুপার টেন পর্বে নিজেদের দিনে যে কোন দল একে অপরকে হারাতে সক্ষম। সুতরাং খেলোয়াড়দের তাদের শত ভাগ দিতে হবে। তবে খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতা খেলাটির জয়-পরাজয়ে সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ ক্রিকেটের অন্য দুটি সংস্করণের চাইতে টি-টোয়েন্টিতে অনেক বেশি ধারাবাহিক পাকিস্তান। টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ২০০৭ সালে ফাইনালে ওঠে দলটি। এরপর ২০০৯ সালে ইউনিস খানের নেতৃত্বে শিরোপা জয় করে তারা। ফাইনালে ওঠার সুযোগ ছিল পরবর্তী আসরেও। তবে সেমিফাইনালে মাইক হাসির দুর্দান্ত এক ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার মানতে হয় তাদের। আর শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ আসরেও সেমিফাইনাল খেলে পাকিস্তান। তিন বিভাগের মধ্যে যদি যথাযথ সমন্বয় করা যায়, তাহলে এবারও দলটি সমর্থকদের হতাশ করবে না বলেই মঈনের দাবি। সাবেক এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বলেন, ‘ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং কোন ক্ষেত্রেই কোন প্রকার ঘাটতি রাখা যাবে না এবং ইতিবাচক ফল পেতে সব খেলোয়াড়কে পুুরোপুরি ফিট থাকতে হবে।’ দলটির প্রধান কোচ বলেন, দলের ড্যাশিং অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন এবং বিশ্বকাপে খেলবেন। তিনি বলেন, টি-২০ বিশ্বকাপে শোয়েব মালিক, কামরান আকমল, সোহেল তানভির এবং জুুলফিকার বাবরকে দলে পাচ্ছে পাকিস্তান। জুলফিকার প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে খেললেও মালিক, কামরান এবং তানভির ইতোপূর্বে চারটি আসরেই খেলেছেন। মঈন বলেন, ‘তিনজনের (মালিক, কামরান, তানভির) বিশাল অভিজ্ঞতার কারণে পাকিস্তান তাদের কাছ থেকে বড় কিছু আশা করছে।’ শ্রীলঙ্কার কাছে এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব হারাতে হলেও টুর্নামেন্টে নিজেদের পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে জানিয়ে মঈন বলেন, ‘এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছানোটা ছিল বড় উদ্দীপনার ব্যাপার। তবে জিততে না পারাটা ছিল হতাশার। বোলিং ও ফিল্ডিংটা আমাদের প্রত্যাশা মত হয়নি, কোন সন্দেহ নেই এটা ঠিকমতো হলে ফলাফলটা অন্য রকম হতে পারতো।’ ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি সাবেক অধিনায়ক সুযোগ দেখছেন, বোলিং বিভাগেও আরো উন্নতি করার। উমর গুল, আফ্রিদি, সাঈদ আজমলদের মতো বোলার থাকলেও এশিয়া কাপে একমাত্র আফগানিস্তান বাদে অন্য কোন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই নিজেদের বোলিং সক্ষমতা দেখাতে পারেনি পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘বোলিংটা আমাদের মানের হয়নি এবং একটা ম্যাচেও বোলাররা ম্যাচ সেরা হতে পারেনি। যা থেকে অনেক কিছুই বোঝা যায়।’ স্ট্রাইক বোলার উমর গুল তার যাদু দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন উল্লে¬খ করে তিনি বলেন, ‘তার সুইয়িং এবং ইয়র্কার আমরা পাইনি।’ বোলারদের ব্যর্থতায় ব্যাটসম্যানরাই দলকে ফাইনালে তুলতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানান মঈন। মঈন বলেন, ‘ব্যাটসম্যানদের অসাধারণ পারফরমেন্সই দলকে ফাইনালে উঠিয়েছে বলেন তিনি। পাশাপাশি প্রায় তিন বছর পর দলে ফেরা ফাওয়াদ আলমের ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ফাওয়াদের ব্যাটিং পাকিস্তানের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।