দায়িত্বে অবহেলা করলেই শাস্তি

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৪, ২৩:১৪
জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৮ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ইসি সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়; চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এই বৈঠকে উপজেলা নির্বাচনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা কোন কাজে অবহেলা করলেই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন। বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, নির্বাচনে কোনো সরকারি কর্মকর্তা কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে। কোনো অনিয়মে জড়িয়ে পড়লে তাকে প্রত্যাহারসহ তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিং-এ দায়িত্বপ্রাপ্ত সিইসি বলেন, আগামী শনিবার অনুষ্ঠেয় তৃতীয় ধাপের নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে সজাগ দৃষ্টি রাখছে কমিশন। কারণ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা সচেষ্ট। সেটা সম্ভবও হবে। যে কোনো অভিযোগের ভিত্তি পেলে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনে কোন অনিয়ম পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দুই প্রার্থী আফিল ও মনিরুলের গেজেট স্থগিত রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এমনকি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে নোয়াখালী সদর ও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারকের সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো. শাহ নেওয়াজসহ ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগামীতে উপজেলা নির্বাচনগুলো যাতে নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে শেষ করা যায় তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ভোটার যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারে সে ব্যবস্থাই করছি। তবে, ভোট দেয়া ভোটারদের ইচ্ছাধীন ব্যাপার। কেউ চাইলে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন। আবার না চাইলে ইসির করার কিছুই নেই। কারণ ইসির কাজ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা। সেটাই করছে ইসি। অস্ট্রেলিয়ায় ভোটারদের ভোটার হওয়া ও ভোটদান বাধ্যতামূলক। এটার ব্যত্যয় হলে শাস্তির বিধান রয়েছে ওই দেশের আইনে। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যার যা ইচ্ছা বলছেন, কারো মুখে লাগাম নেই। এসব ব্যাপারে জবাব দেয়া সবসময় ইসির জন্য সমীচীন নয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে আমরা অনিয়মের যেসব তথ্য পাচ্ছি যাচাই করে সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রথম দুই ধাপের মতো আগামী তিনটি ধাপের উপজেলা নির্বাচন এবং টাঙ্গাইলের উপ-নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে এসময় আশা প্রকাশ করেন তিনি। আগের মতোই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ। তিনি জানান, বৈঠকে উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য শওকত মোমেন শাহজাহান গত ২০ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করলে ২২ জানুয়ারি আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ মার্চ এ আসনে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।