ভুয়া ডাক্তার, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৪, ২৩:১৫
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ভুয়া চিকিত্সক এবং নিম্নমানের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, প্রমাণ পাওয়া গেলে চিহ্নিতদের লাল দালানে পাঠানো হবে। কারণ ওরা খুনি। ভুল চিকিত্সায় রোগী মারা যাবে এটা মেনে নেয়া হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিশ্ব কিডনি দিবস পালন উপলক্ষে ‘বার্ধক্যে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশন ও কিডনি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রাজধানীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গতকাল বিশ্ব কিডনি দিবস পালন করা হয়। সাম্প্রতিক অভিযানে ধরা পড়া ভুয়া ক্যান্সার হাসপাতাল এবং মানহীন ক্লিনিকের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের জীবন নিয়ে যারা এ ধরনের ছিনিমিনি খেলে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। এর সাথে কোনো সরকারি কর্মচারী জড়িত থাকলে তাকেও জেলে পাঠানো হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্সের এই অভিযানে ভালো মানের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের কোনো ক্ষতি হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে গরীব রোগীদের জন্য কম খরচে বিশেষ ফি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের কোটি কোটি গরীব জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য বেসরকারি খাতের সহযোগিতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে হাসপাতাল মালিক বা কর্তৃপক্ষকে সহানুভূতির সাথে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। মন্ত্রী চিকিত্সকদেরকে গ্রামে থেকে সেবা দেয়ার জন্য পুনরায় আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গ্রামে থেকে চিকিত্সা দেয়ার অনীহা কাম্য নয়। থানা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার পাশাপাশি যানবাহন বরাদ্দের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। তবে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শাস্তি অবধারিত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেশির ভাগ সরকারি মেডিক্যালের সুইপাররা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুপারিশে চাকরি নিয়ে থাকে। কিন্তু তাদের কাজের কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না। এ কারণে হাসপাতালগুলোর টয়লেটের অবস্থা খুব খারাপ। এখন থেকে কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া কাউকে সুইপার হিসাবে নিয়োগ দেয়া হবে না। কোনো রাজনৈতিক সুপারিশও চলবে না। তিনি আরো বলেন, সরকারি হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে হাসপাতালের কর্মচারী, শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে অবৈধ দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এদের সরানোর অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. হারুন-অর-রশিদ, রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মহিবুর রহমান প্রমুখ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুপুরে রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় সেখানকার পুলিশ কর্মকর্তা ও চিকিত্সকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচন বানচালের জন্য জনগণের বিরুদ্ধে নেমে বিএনপি তাদের কৃতকর্মের শিক্ষা ইতিমধ্যে পেয়ে গেছে। তারা নিরীহ মানুষকে পোড়ানোর পাশাপাশি যেভাবে পুলিশ সদস্যদেরকে হত্যা করেছে তা আগে কখনো ঘটেনি। আগেও এদেশে অনেক গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে গত এক বছরে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত যেভাবে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের উপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে তাতে জনগণের চোখে তারা অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। এই অপরাধের বিচারের রায় জনগণ দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকারই সব সময় পুলিশ বিভাগের মর্যাদা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তার সময়ে পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। তিনি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগের কর্মতত্পরতার প্রশংসা করে বলেন, সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে দশম সংসদ নির্বাচনকালে পুলিশের ভূমিকা অভিনন্দনযোগ্য। এসময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হক, পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে চিকিত্সাধীন পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বলেন ও তাদের চিকিত্সার খোঁজ খবর নেন। সিটি স্ক্যান, এমআরআই, ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এক সপ্তাহের মধ্যে বরাদ্দ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।