সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৪, ২৩:১৬
সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তালিকা করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। যাতে নিরীহ কোন ব্যক্তি এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়। এছাড়া মাদক প্রতিরোধে শিগগিরই বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জান খান কামাল। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় তিনি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন ও প্রয়োজনীয় নির্দশনা প্রদান করেন। সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাসমূহকে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধে আরো অধিক মনোযোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে জোরালো সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য তিনি পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক সমস্যা থাকবেই। জনগণের সমর্থন আমাদের আছে। আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সুষ্ঠুভাবে ও দক্ষতার সাথে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে যে কোন সরকারের জন্য দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভূমিকাই পূর্বশর্ত। তিনি বলেন, আমরা ২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে পরিণত করতে চাই। সেজন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, মাদক, নারী ও শিশু পাচার বন্ধে আরো সক্রিয় হতে হবে। যেহেতু এটা একার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রমসহ যে কোন ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার বিগত মেয়াদের সরকার কঠোর হস্তে এসব পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মত দেশ অনেক সময় মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ে আক্রান্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অনেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এসব বিপর্যয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। তিনি বলেন, সরকারের ভিতর থেকেই এসব সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে তারা দেশের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। কিন্তু আমাদের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে দেশের অগ্রগতির জন্য এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রচেষ্টা ও ত্যাগ স্বীকারের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করে দেন। প্রসঙ্গত, কাজের গতি বৃদ্ধি করতে প্রধানমন্ত্রী ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে মন্ত্রণালয়ে নেয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বন্ধ রাখা হয় সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ। সকাল সাড়ে দশটার দিকে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক করেন সোয়া ১২টা পর্যন্ত। এরপর নিজ দফতরে অবস্থান করেন সোয়া ২টা পর্যন্ত। এদিকে গতকাল বিকালে বৈঠক সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশের আবাসন, কোস্টগার্ড ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের জনবল সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা, বিজিবির টহল সুবিধার জন্য সীমান্তের বিওপিগুলোর মধ্যে রিং রোড নির্মাণ, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ইত্যাাদি।