মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের কোনো ক্লু উদ্ধার করতে পারেননি উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। অথচ কেটে গেছে ৬ দিন। মাঝে মাঝে কিছু ইতিবাচক খবর আসে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সেটা প্রত্যাখান করা হয়। এই ধরনের ভাল-মন্দ খবরের মাঝেই বুকফাটা আর্তনাদে দিন কাটাচ্ছেন ২৩৯ যাত্রীর স্বজনরা। প্রচুর পরস্পর বিরোধী সূত্র সামনে আসছে। ২৩৯ যাত্রীর সবার বিরুদ্ধে চলছে তদন্ত। তবে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পাইলটের ক্ষেত্রে। উদ্ধার অভিযান চলবে এখন ভারত মহাসাগরেও। খবর বিবিসি, সিএনএন, এনডিটিভি ও এএফপি’র।
চীন জানিয়েছিল, তাদের উপগ্রহে বিমানের ধ্বংসস্তূপ ধরা পড়েছে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে চীনা স্যাটেলাইটে ধরা পড়া যে ছবিকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ বিমানটির ধ্বংসাবশেষ বলে বলা হচ্ছিল তা আসলে সঠিক নয়। কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী হিশামুদ্দিন হুসেন সাংবাদিকদের জানান, চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে সাগরে তিনটি ভাসমান বস্তুর যে ছবি তারা প্রকাশ করেছিল, তা ভুল করে করা হয়েছে। শনিবার বিমান নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে বিমানটির শেষ যোগাযোগের পরেও নিখোঁজ বিমানটির ইঞ্জিন তথ্য পাঠানো অব্যাহত রেখেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। বেইজিংগামী মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের মধ্যে চীনা নাগরিক ছিলেন দেড়শো জনেরও বেশি। ফলে এদের ভাগ্যে আসলে ঠিক কী ঘটেছে তা জানার জন্য চীনা সরকারও উদগ্রীব, যেমন উদগ্রীব নিখোঁজ যাত্রীদের আত্মীয়স্বজনেরা। বিষয়টা বেইজিং কর্তৃপক্ষকে এতটাই ভাবিয়ে তুলেছে যে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেচিয়াং গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এসব যাত্রীকে খুঁজে বের করা না পর্যন্ত চীন সরকার থামবে না। চীন সরকার এক সর্বাত্মক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে। বর্তমানে আটটি চীনা জাহাজ ওই এলাকায় কাজ করছে। ১০টি স্যাটেলাইট দিয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে। গতকালই আমি একটি চীনা জাহাজের ক্যাপ্টেনের সাথে কথা বলেছি এবং আমরা সব ধরনের সাক্ষ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখেছি। এটি একটি আন্তর্জাতিক অভিযান যেটিতে বহু দেশ জড়িত রয়েছে। চীনা সরকার বলছে সমন্বিতভাবে অভিযানটি পরিচালনা করতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
মালয়েশিয়া গতকাল তাদের নিখোঁজ বিমানটি রাডারের আওতার বাইরে যাবার পরও চার ঘন্টা ধরে আকাশে উড়ার খবর প্রত্যাখান করেছে। গতকাল ওয়ালস্ট্রীট জার্নালের এক খবরে বলা হয়েছিল, মার্কিন তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ বিমানটি সর্বশেষ নিশ্চিত যোগাযোগের পরও চার ঘন্টা আকাশে উড়ছিল এবং সম্ভবত এরপর এটি অজানা অবস্থানে চলে যায়।
সিঙ্গাপুরের রোলস রয়েসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংস্থা চলমান তদন্ত সম্পর্কে মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করে। বিমানের ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি সিঙ্গাপুর থেকে এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং মালয়েশিয়ার এয়ারলাইন্সকে আমাদের সহায়তা দিচ্ছি। মালয়েশিয়ার তদন্তকারীরা স্পষ্ট করে বলেছে, তার তাদের তদন্তে বিমানটি ছিনতাই হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রেখেছে। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, দক্ষিণ চীন সাগরে যে ব্যাপক অনুসন্ধান চলছে তাতে মোট ৪৩টি জাহাজ এবং ৪০টি বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিমানটি যদি মালাক্কা প্রণালীতে হারিয়ে গিয়ে থাকে তা খুঁজে দেখার জন্য ১৮টি জাহাজ এবং ১৫টি বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযানে যোগ দিয়েছে ভারতও।
