মহাখালীর কথিত সেই ক্যান্সার হাসপাতালের মালিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেরানি লায়াল হাসান ও সরকারি ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের ওয়ার্ড বয় শেখ মাহবুবুল আলমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করে। এদিকে ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মহাখালীর ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের সামনে একটি খাবার হোটেলের ছাদে ভুয়া ক্যান্সার হাসপাতাল বসিয়ে তারা দু’জন চিকিত্সার নামে অপচিকিত্সা করে আসছিল। গত ১৫ বছরে তাদের কাছে চিকিত্সার নামে কত রোগী প্রতারিত হয়েছে তার তালিকা জানা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কিভাবে তারা এতদিন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাহলে কি স্বাস্থ্য প্রশাসন সব জানত?
একই সঙ্গে তারা বলেন, ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা ও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ সকল স্তরের চিকিত্সকরা এই অবৈধ ক্যান্সার হাসপাতালের সামনে দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেছে। বিষয়টি কিভাবে তাদেরও নজর এড়ালো?
কয়েকজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এই অবৈধ ক্যান্সার হাসপাতালের বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তথ্য পেয়েছেন। অবৈধ এই ক্যান্সার হাসপাতালের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্তারিত বিষয় তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একজন উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে অধ্যাপক পদমর্যাদার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ওই অবৈধ হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত থাকায় ব্যবস্থা গ্রহণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, গঠিত কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়। এ রিপোর্ট পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট গত বুধবার মহাখালীর ওই ১৮ বেডের অবৈধ ক্যান্সার হাসপাতালে অভিযান চালায়। অভিযানকালে ভুয়া নার্স বিউটি বেগম কবির নামে এক রোগীকে ক্যামো-ইনজেকশন পুশ করতে দেখতে পায় মোবাইল কোর্ট। বিউটি বেগমকে ওই সময় সহযোগিতা করছিলেন শাহাদাত নামে আরেক ভুয়া নার্স। তাদের নার্সিং বিষয়ে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ নেই। তারা অষ্টম কি নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। বিউটি বেগম ও শাহাদাত হোসেন প্রত্যেককে দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে তিনমাসের জেল দিয়ে তাদেরকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অবৈধ ক্যান্সার হাসপাতালকে সিলগালা করে দেয় মোবাইল কোর্ট।
