কমলগঞ্জের লাঘাটা নদীর তীরবর্তী আবাদি কৃষিজমি খুঁড়ে অবাধে মাটি উত্তোলন চলছে। সামান্য লাভের জন্য কৃষিজমির এই যথেচ্ছ অপব্যবহারে পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। অব্যাহতভাবে মাটি খোঁড়ার ফলে এসব জমিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ফসল উত্পাদনও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বসতবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট তৈরি, শিল্পের প্রসার, নগরায়ন, ইটভাটা তৈরিসহ নানা কারণে প্রতিনিয়ত দেশে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি উত্পাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় প্রতিনিয়ত আবাদি কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকেও দ্রুতহারে এভাবে কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। বিভিন্ন ছড়া ও নদী নালা থেকে অবৈধভাবে অব্যাহতহারে বালি মাটি উত্তোলন চলছে। কৃষি অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলার যুগিবিল গ্রামে গত একমাস যাবত্ লাঘাটা নদীর পাশে প্রায় দুই একর আবাদি জমি থেকে অব্যাহতভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, যুগিবিল গ্রামের সজ্জাত আলীসহ কয়েকজন ব্যক্তির ধানী জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে বড় বড় গর্ত করে বালি মাটি তুলে মোটা লাভে বিক্রি করছেন স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। লাঘাটা নদীর প্রায় ১শ’ গজ দূরেই পরিবেশ বিনাশী এই কাজটি করে চলেছেন তারা। মাটি উত্তোলনকারী কয়েকজন শ্রমিক জানান, ওই এলাকার ইউপি সদস্য আক্কাস আলীসহ কয়েকজন বালি মাটি ক্রয়-বিক্রয় করছেন। তারা ১শ’ ফুট বালি ৭শ’ টাকা দরে বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করছেন। আর শ্রমিকরা পান ট্রাক প্রতি ৩শ’ টাকা।
স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানা যায়, জমির উপরিভাগে জমে থাকা কিছু বালি কিনে নেয়ার কথা বলে কৃষিজমির উর্বর বেলে মাটি দেদারসে বিক্রি করে চলেছে প্রভাবশালী ওই মহল। ঝকঝকে ও সুন্দর বেলে মাটির প্রচুর চাহিদা থাকায় কৃষিজমির প্রায় সাড়ে ৩ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সেখানকার কৃষিজমিতে তৈরি হয়েছে খণ্ড খণ্ড পুকুর। কৃষকরা বলেন, এভাবে গর্ত হওয়া জমিতে চাষাবাদ মোটেই সম্ভব নয়। গ্রামের যুবক আলমগীর ও বুরহান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এসব জমিতে তারা ফুটবল খেলতো। এখন বড় বড় গর্তের কারণে আর খেলতে পারছে না। অভিযোগ সম্পর্কে ইউপি সদস্য আক্কাস আলী বলেন, তিনি বেলে মাটি কিনে বিক্রি করছেন না। হয়তো জমির মালিকরা বিক্রয় করতে পারেন। তবে এভাবে গর্ত সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষিজমির ক্ষতি করে বেলে মাটি উত্তোলনের বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নদীর পার ঘেঁষে বালু উত্তোলন হলে অবশ্যই ক্ষতি হবে। ভাঙ্গনে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তবে নিজস্ব কৃষিজমি থেকে কেউ মাটি বিক্রি করলে সেখানে তাদের কিছু করার নেই। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, তিনি এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
