চারদিকে সাজ সাজ রব

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৪, ২১:১৩
আবারো বিশ্বকাপ ঢাকায়। টি২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ১৬ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট ২১ মার্চ থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ৬ এপ্রিল ২০১৪। বাছাই পর্বের দলগুলো আসতে শুরু করেছে। চারদিকে সাজ সাজ রব। ঢাকার বাইরে সিলেট, কক্সবাজারও সাজছে টি২০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে। যদিও সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজার ও সিলেট স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক খেলা আয়োজনের জন্য এখনো আইসিসির ছাড়পত্র পায়নি। যা হোক, মূল পর্বে খেলা শুরু হবে ২১ মার্চ থেকে। তার আগে মার্চের ১৬ তারিখ থেকে শুরু হবে বাছাই পর্ব। আইসিসি সহযোগী দেশ আফগানিস্তান, হংকং, নেপাল ও টেস্ট প্লেয়িং দেশ বাংলাদেশ (গ্রুপ-এ) এবং আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও টেস্ট প্লেয়িং দেশ জিম্বাবুয়ে (গ্রুপ-বি) দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে বাছাই পর্বের খেলায় অংশ নেবে। দুই গ্রুপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা অন্য ৮টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে টি২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। মূল পর্বে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা এবং বাছাই পর্বের গ্রুপ-বি চ্যাম্পিয়ন, গ্রুপ-১ হিসাবে এবং অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং বাছাই পর্বের গ্রুপ-এ চ্যাম্পিয়ন, গ্রুপ-২ হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। স্বাগতিক বাংলাদেশ বাছাই পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে গ্রুপ-এ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে—এই আশায় বুক বেঁধে আছে গোটা জাতি। তবে বারবার হতাশায় আচ্ছন্ন হওয়া এই জাতির জন্য আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপ অবশেষে কী নিয়ে অপেক্ষা করছে তা অবশ্য ২০ মার্চেই জানা যাবে। টি২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাকায় রাস্তাঘাট, ফুটপাত কেটেকুটে একাকার। কোথাও কোথাও ভালো কন্ডিশানের ফুটপাতগুলোও ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। টি২০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাকাকে নতুনরূপে সাজানো হচ্ছে। এটা করতে গিয়ে কত টাকা খরচ হচ্ছে তার চেয়েও বড় কথা হলো মানুষের ভোগান্তি কী পরিমাণ বাড়ছে? একে তো গাড়ির তুলনায় রাস্তার পরিমাণ অপর্যাপ্ত। তার ওপর নিত্যদিন রাস্তা কাটাকুটি করার ফলে শহরে জ্যাম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তবে আশার কথা হচ্ছে—আর মাত্র ক’দিন পরই একেবারে নতুন রূপে ধরা দেবে ঢাকা। বিশ্বকাপ জাদুতে পুরো ঢাকা যানজটমুক্ত থাকবে। ফুটপাতগুলো থাকবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। রাস্তার পাশে থাকবে না কোনো অবৈধ পার্কিং। স্ট্রিট লাইটের সবগুলো বাতি থাকবে জ্বলমান। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে নানা রঙের মরিচবাতি মিটিমিটি জ্বলতে থাকবে। লক্কর-ঝক্কর বাস-মিনিবাসগুলো উধাও হবে রাস্তা থেকে। বিআরটিসি বাসগুলোর বডি চকচক করবে। ট্রাফিক সিগনাল পয়েন্টে ফ্ল্যাগ-স্ট্যান্ড লাগানো কোনো গাড়ি ডানে-বাঁয়ে ‘কান্নি খেয়ে’ ওত পেতে থাকবে না। মোটামুটি সিগনাল ও লেন মেনে চলবে সব গাড়ি। এমনকি যে অটোরিকশা বা ছোট পিক-আপগুলো সারাজীবন দুটো গাড়ির মাঝখান দিয়ে চলে অভ্যস্ত সেগুলোও চলবে দাগের ভেতর, লেন মেনে। গাড়িগুলো চলবে সিগনাল লাইট অনুসরণ করে। ট্রাফিক পুলিশ লালবাতি জ্বলা অবস্থায় অহেতুক সামনে এগুতে বলবে না। কিংবা সিগনাল পয়েন্টে ট্রাক দেখলেই কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে(!) হাত উঁচিয়ে বাঁয়ে সাইড করতে বলবে না। ভাবতেই ভালো লাগছে এমনটাই ঘটবে টি২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে। তবে ৬ এপ্রিল ২০১৪-র পর কী হবে তা বলতে পারছি না। এই জাদুটা এর আগে আরো একবার আমরা উপভোগ করেছি, ২০১১ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলার সময়ে। কী যে ভালো লেগেছিল ঢাকার অনিন্দ্য সুন্দর সেই রূপ দেখে। আহা! এই কি সেই ঢাকা আগে যেখানে রাস্তায় বেরুলেই মানুষের কোলাহল, ঠেলা-ধাক্কা, ফুটপাতে মুত্রধারা, অবৈধ পার্কিং দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে যেতো। প্রতিদিন টেলিভিশনের কল্যাণে ঢাকার সেই অপরূপ দৃশ্য দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। আর মনে মনে হা-পিত্যেশ করেছে—আহা রে, সারা বছর কেন এমন থাকে না ঢাকা? কেন যে থাকে না, সেটা অনেকেই জানেন! আমাদের মত ‘ম্যাংগো পিপল’ হয়তো অত শত বোঝে না। তবে এটুকু বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ‘উপরঅলারা’ ইচ্ছে করলেই ঢাকার রাস্তাকে সুন্দর-পরিপাটি রাখতে পারে। তার জন্য দরকার বিশেষ ধরনের ‘জাদুর কাঠি’র ছোঁয়া। জাদুকর আবারও প্রস্তুত জাদু দেখানোর জন্যে। সবাই রেডি থাকেন। ৬ এপ্রিল ২০১৪ পর্যন্ত চলবে জাদুকরের খেল। এরপর এই অনিন্দ্য সুন্দরকে ধরে রাখার দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। ঢাকা