সমৃদ্ধ জাতি গঠনে আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয়

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৪, ২১:৪২
তারুণ্যকে যদি সুন্দর করে গড়ে দেয়া যায় তাহলে পুরো জাতিকে সুন্দর করা হয়। একটি বড় দেশ আর বড় জাতি হিসেবে নির্মাণকে অর্থবহ করতে চাই আলোকিত মানুষ। সেইসব মানুষ—যারা উচ্চ মূল্যবোধসম্পন্ন, আলোকিত, উদার, শক্তিমান ও কার্যকর। যারা জাতির জীবনের বিভিন্ন অঙ্গনে শক্তিমান নেতৃত্ব দিয়ে এই জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারবে। সেই কাজটি আমরা হাতে নিয়েছি। একদিন এই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রটি সারা বাংলাদেশ হবে। কথাগুলো বলছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। শুক্রবার সকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৩৫ বছরপূর্তি উত্সব ও নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শতাধিক বেলুন উড়িয়ে উত্সব ও ভবনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলী খান, হোসেন জিল্লুর রহমান, স্থপতি মাহবুব জামিল, স্থপতি জামিলুর রেজা চৌধুরী, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাংবাদিক আবেদ খান, নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, আব্দুন নুর তুষার, খায়রুল আলম সবুজ, কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক, এফবিবিসিআই এর সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, মাহমুদুজ্জামান বাবু প্রমুখ। নবনির্মিত ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৩৫ বছর পূর্তি উত্সব পালন করে দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব, কেন্দ্রের বিভিন্ন সময়ের শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পীরা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ইন্দিরা রোডের একটি ছোট্ট বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আজ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা অব্যাহত থাকুক। এ ক্ষেত্রে সকলের সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার মানুষ গড়ার কারিগর। স্বপ্ন ও ভবিষ্যত্ দেখার ক্ষমতা তার আছে। এজন্য তাকে অভিনন্দন। তার প্রতিষ্ঠিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আজ দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর তীর্থস্থানে পরিনত হয়েছে। প্রফেসার এমিরেটারস আনিসুজ্জামান বলেন, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। এজন্য শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদের সকলকে অভিনন্দন জানান তিনি। নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মেধা ও মনন বিকাশের উত্কৃষ্ট একটি স্থান। ৩৫ বছর ধরে অত্যন্ত সফলভাবে প্রতিষ্ঠানটি তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। উল্লেখ্য, দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক আলোকিত উচ্চমূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে জন্ম হয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের। ‘আলোকিত মানুষ চাই’ শ্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে আলোকিত মানুষ গড়ার জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ৩৫ বছর আগে ১৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির সদস্যসংখ্যা বর্তমানে ১৫ লাখ।