লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি পুরুষদের তিনগুণ এবং মহিলাদের দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কানাডিয়ান ক্যান্সার সোসাইটি। তাতে বলা হয়েছে ৭০ বছরের কম বয়সী আক্রান্তদের ক্যান্সারে মৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে। রিপোর্টে সোসাইটি বেশি গুরুত্ব দিয়েছে লিভার ক্যান্সারকে। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ৫ জন লিভার ক্যান্সারের রোগীদের ৪ জনই আক্রান্ত হবার ৫ বছরের মধ্যে মৃত্যুবরণ করে।
কানাডিয়ান লিভার ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং টরেন্টো জেনারেল হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ ড. মরিস শেরম্যান উল্লে¬খ করেছেন একমাত্র লিভার ক্যান্সারে মৃত্যু হার বাড়ছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যটি তুলে ধরেছেন টরেন্টো ইউনিভার্সিটি হেলথ নেটওয়ার্কের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. সিয়ান ক্লেরে। তার মতে, লিভার ক্যান্সারের বিপজ্জনক দিক হচ্ছে রোগটি শেষ পর্যায়ে অর্থাত্ অ্যাডভান্সড স্টেজে না গেলে রোগের কোন উপসর্গই দেখা দেয় না। আর এপর্যায়ে সত্যিই কথা বলতে চিকিত্সকদের তেমন কিছু করার থাকে না।
গবেষকদের মতে, লিভার ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান শত্রু হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাস। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কার্যকর ভ্যাকসিন থাকলেও সি ভাইরাসের কোন ভ্যাকসিন নেই। প্রতিরোধই একমাত্র ভরসা। বিশেষজ্ঞগণ লিভার ক্যান্সারের অন্য যেসব কারণ উল্লে¬খ করেছেন তা হচ্ছে, অতিমাত্রায় মদ্যপান, ডায়াবেটিস এবং ধূমপান। লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি বা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল প্রত্যেককে অন্তত: একবার হেপাটাইটিস সি পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি মদ্যপান, ধূমপান ও ডায়াবেটিসের ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যারা জীবনকে ভাল বাসেন এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে চান তাদের হেপাটাইটিস বি ও সি নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান বর্জন করা উচিত। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে এইডস এর ভাইরাস যেভাবে সংক্রমিত হয় সেভাবেই ছড়ায় হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস।
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
