হিন্দু ধর্মাবলম্বীর মেয়ে। বিয়ে করেছিলেন মুসলমানকে। দুই পরিবারের বাধার মুখে কপালে জুটল না স্বামী-সংসার। আগে স্বামী পরে নিজেও আত্মহত্যা করে ছাড়লেন পৃথিবী। কিন্তু শেষ হলো না দ্বন্দ্ব। সেই দ্বন্দ্বের কারণেই থেমে গেল মেয়েটির লাশের সত্কার। এই ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায়। বিষয়টি গড়িয়েছে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের খামার বমুনিয়া গ্রামের অক্ষয় কুমারের মেয়ে লিপি রানী রায়, একই উপজেলার বোয়াগাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বোড়াগাড়ী গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন ইসলামকে বিয়ে করেন। তিনি নাম পরিবর্তন করে রেখেছিলেন হোসনে আরা ইসলাম। এই ঘটনায় এখনো মামলা চলছে। এই অবস্থায় তার স্বামী হুমায়ুন গত ১৫ জানুয়ারি আত্মহত্যা করেন। পরে গত ১০ মার্চ দুপুরে পিতার বাড়িতেই আত্মহত্যা করে মেয়েটি। বর্তমানে তার লাশ সত্কার নিয়ে সংকট শুরু হয়েছে। মেয়েটির শ্বশুরের দাবি, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তাই তাকে কবর দিতে হবে। অন্যদিকে মেয়েটির বাবার দাবি, লিপি রানী ধর্ম পরিবর্তন করেননি। ছেলেপক্ষের কাগজপত্র ভুয়া। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়। সন্ধ্যায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামলা দুটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান জানান, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের আদেশে মেয়েটির লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
