দারুণ লড়াইয়ের পরও কেনসিংটন ওভালে গত বৃহস্পতিবার রাতে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ রানে হেরে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলায় ম্যাচটি সিরিজের সার্বিক ফলাফলে কোন প্রভাব ফেলেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সর্বশেষ সিরিজে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ওটিস গিবসন বলেছেন, এই সিরিজের পারফরম্যান্স ক্যারিবীয়দের বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে জ্বালানি হিসাবে কাজ করবে।
বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে এই সিরিজটাকে দেখা হচ্ছিল নিজেদের পরখ করে নেয়ার সুযোগ হিসাবে। ড্যারেন স্যামি-মারলন স্যামুয়েলসদের পারফরম্যান্সকে যথেষ্টই আশাব্যঞ্জক হিসাবে মনে করছেন গিবসন। ইংল্যান্ড দলে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের সহকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করা গিবসন বলেন, ‘দল হিসাবে আমরা কোথায় আছি সেটা বোঝার জন্য এই ম্যাচ তিনটি আমাদের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সব মিলে সিরিজটা আমাদের জন্য দারুণ ছিল। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, শিরোপা ধরে রাখতে হলে কঠিন এক পথই পাড়ি দিতে হবে আমাদের। তবে এটাও সত্যি, আমরা সবদিক থেকেই নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছি। আমরা জানি শিরোপা ধরে রাখতে কি করতে হবে। মূল কাজটা হচ্ছে প্রাথমিক নিয়মগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। আর আমাদের যে দল সেটা এই কাজের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। তাছাড়া আমাদের ব্যাটসম্যানরা দারুণ ফর্মে আছেন। টি-টোয়েন্টিতে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
শেষ ম্যাচে হেরে গেলেও সিরিজে দলের পারফরম্যান্সে নিজের সন্তোষের কথাও জানালেন গিবসন, ‘আমরা তিনটি ম্যাচ জেতার জন্যই মাঠে নেমেছিলাম। সর্বশেষ টানা তিনটি ম্যাচে আমাদের জয় এসেছে তাও অনেক দিন হলো। তবে প্রথম দশ ওভারে ১০০’র বেশি রান তুলে নিয়ে ইংল্যান্ড বেশ শক্তভাবেই ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল। তবে বল হাতে শেষ দশ ওভারে আমরা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরি। ষাট রানের মধ্যে তাদের আটকে দেই। শেষ পর্যন্ত যদিও আমাদের ম্যাচ হারতে হয়েছে। তবে ক্রিস গেইলের মতো খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রেখে এমন পারফরম্যান্সও যথেষ্টই আশাব্যঞ্জক।’
তৃতীয় ম্যাচে লেন্ডল সিমন্স বাদে টপ অর্ডারের আর কেউ জ্বলে উঠতে না পারলেও, বিশ্বকাপে তারা ঠিকই সেরা ফর্মে দেখা দেবেন বলেও আশাবাদী গিবসন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভাল ফর্মে আছে। তাছাড়া, তাদের উদ্দীপনারও কোন কমতি নেই। ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার ম্যাচে অনুশীলন ম্যাচে তারা জ্বলে উঠবেন বলে আশাবাদী আমি।’
এদিকে মাইকেল লাম্ব (৬৩) এবং এ্যালেঙ্ হেলস (৩৮) উদ্বোধনী জুটিতে ৯৮ রান তোলার পরও মাত্র ৪০ রানের ব্যাবধানে ৬ উইকেট পড়ে যায় ইংল্যান্ডের। তবে বার্বাডোজে জন্মগ্রহণ করা অলরাউন্ডার জর্ডান শেষ ওভারে ডোয়াইন ব্রাভোকে চারটি ছক্কা মেরে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে ১৬৫ রানের সংগ্রহ এনে দেন।
এরপর বল হাতে ৩৯ রানে তিন উইকেট শিকার ছাড়াও বাউন্ডারি লাইনে ডোয়াইন ব্রাভোর একটি দর্শনীয় ক্যাচ নেয়ার স্বীকৃতি হিসাবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান জর্ডান।
নিজের পারফরমেন্স সম্পর্কে জর্ডান বলেন, ‘পাওয়া সুযোগের সর্বোচ্চটা ব্যবহার করতে পেরে খুশি আমি। আমার চেষ্টা ছিল কেবল খেলা এবং দলের হয়ে অবদান রাখা। ব্যাট হাতে ভূমিকা রাখার পর বল হাতেও সফল হয়েছি।’
জয়ের জন্য ১৬৬ রানের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে ৬৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর লেন্ডল সিমনস (৬৯) এবং দিনেশ রামদিনের (৩৩) সময়োপযোগী দুটি ইনিংস পথে ফেরায় স্বাগতিকদের। এরপর শেষ ওভারে ছয় মেরে আগের ম্যাচের মতোই দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিলেন ড্যারেন স্যামি। শেষ পর্যন্ত স্যামি ১৫ রানে অপরাজিত থাকলেও ১৬০ রানেই নির্ধারিত ওভার শেষ হয়ে যায়।
সামি বলেন, ‘ম্যাচটিকে শেষ ওভার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য ছেলেরা প্রশংসার দাবিদার। তবে কয়েক জনকে হয়তো আরো বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। আমার মনে হয় টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশে যাওয়ার আগে নির্বাচকরা এ থেকে একটি স্বচ্ছ ধারণা পেলেন।’
আগেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় হার্ড হিটার ক্রিস গেইল, স্পেশালিস্ট বোলার রবি রামপল এবং স্যামুয়েল বদ্রিকে এ ম্যাচে বিশ্রামে রাখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ইংল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ইয়োইন মরগান বলেন, ‘এটা ছিল অসাধারণ একটি ফল এবং ক্রিস জর্ডানের পারফরমেন্স প্রমাণ করেছে যে টি-২০ বিশ্বকাপে যাওয়ার মত ভাল বোলিং আমাদের রয়েছে। শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এ ম্যাচে হারাতে পেরে আমরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি।’
স্কো র কা র্ড
ইংল্যান্ড ইনিংস:
লাম্ব ক ডি জে ব্রাভো ব কট্রেল ৬৩
হেলস ক সিমন্স ব কট্রেল ৩৮
মরগান ক স্মিথ ব নারাইন ১৮
বাটলার ক সামি ব সান্টোকি ৩
বোপারা নট আউট ৬
আলী রান আউট ৩
জর্ডান নট আউট ২৭
অতিরিক্ত (ও-৭) ৭
মোট (৬ উইকেট, ২০ ওভার) ১৬৫
উইকেট পতন :
১-৯৮, ২-১১২, ৩-১২৩, ৪-১২৮, ৫-১২৮, ৬-১৩৮।
বোলিং :
সান্টোকি ৪-০-২৭-২, কট্রেল ৪-০-২৭-২ (২ও), নারাইন ৪-০-৩৪-১ (ও-১), ডি জে ব্রাভো ৩-০-৩৫-০, রাসেল ১-০-১১-০, স্মিথ ২-০-১৪-০, স্যামুয়েলস ২-০-৭-০।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ :
স্মিথ ব ডার্নবাচ ০
চার্লস ক এবং ব জর্ডান ৪
স্যামুয়েলস ব জর্ডান ১৫
সিমন্স রান আউট ৬৯
ব্রাভো ক জর্ডান ব বোপারা ১৬
রাসেল ক মরগান ব বোপারা ০
রামদিন ব জর্ডান ৩৩
সামি নট আউট ১৫
নারাইন নট আউট ০
অতিরিক্ত (বা-১, লেবা-৪, ও-৩) ৮
মোট ( ৭ উইকেট, ২০ ওভার) ১৬০
উইকেট পতন :
১-০, ২-৪, ৩-২৮, ৪-৬৬, ৫-৬৭, ৬-১৪০, ৭-১৬০।
বোলিং :
ডার্নবাচ ৪-১-৩৮-১ (ও-১), জর্ডান ৪-০-৩৯-৩ (ও-২), পেরি ৪-০-৩২-০, ট্রেডওয়েল ৪-০-১৮-০, বোপারা ৪-০-২৮-২।
ফল : ইংল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
