ওয়াহিদুল হক ছিলেন ষাটের দশকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সময়ের অন্যতম কাণ্ডারি। ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তন শুরু হয়েছিল তাঁর প্রচণ্ড ইচ্ছা ও জেদের বশেই। সেই ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তন আজ বাংলাদেশের এক সম্ভ্রান্ত সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্র। ওয়াহিদুল হকের জন্মদিন উপলক্ষে ছায়ানট তাই আয়োজন করেছে ওয়াহিদুল হক স্মারক দেশঘরের গান। চারুকলার বকুলতলায় দুদিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু করেছে গতকাল। গতকাল শুক্রবার বিকালে ছায়ানটের বার্ষিক এ লোকগান সম্মিলনে দেশের জয়পুরহাট ও খুলনা অঞ্চলের লোকগান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এর আগে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন সঙ্গীতগুণী ও সংস্কৃতিসেবী তরণীকান্ত রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল। জয়পুরহাটের আসাদ আলী মণ্ডল ও তার দল পরিবেশন করে কিচ্ছাপালা ‘কলাবতী কন্যা’। এরপর খুলনার শিল্পী মনীন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও তার দল পরিবেশন করে কীর্তনঃ নৌকা বিলাস। আজ শনিবার নোয়াখালী, বগুড়া, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের লোকগানের দলের পরিবেশনা।
আবৃত্তি সংগঠন কণ্ঠশীলন আয়োজন করেছে দুদিনব্যাপী ‘ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোত্সব’। ‘বাঙালির নিজের সংস্কৃতির লালন করাও যে আন্দোলনেরই পথ—তা চিনিয়েছিলেন ওয়াহিদুল হক। বাঙালিয়ানাকে হূদয়ে ধারণ করে, সংস্কৃতির চর্চা করার মধ্যদিয়ে শুদ্ধ মানুষ হয়ে গড়ে উঠবার চেষ্টাই তিনি সারাজীবন ধরে করেছেন। শুধু নিজে নয়, সবাইকে নিয়েই ছিল তার এই যাত্রা।’ গতকাল কণ্ঠশীলন আয়োজিত ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোত্সবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। শুক্রবার তার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কণ্ঠশীলন আয়োজন করেছে দুইদিনের ‘ওয়াহিদুল হক মিলনোত্সব’। যাতে কণ্ঠশীলনের প্রথম থেকে আশিতম আর্বতনের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর’-শিরোনামে শুক্রবার সকালে সুফিয়া কামাল কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে দুইদিনের এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক শওকত আলী। সংগঠনের সভাপতি শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ, কণ্ঠশীলনের প্রশিক্ষক এনায়েত কাজল, উত্সব উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব গোলাম সারোয়ার প্রমুখ। উদ্বোধনকালে শওকত আলী বলেন, ‘যেসব অনুষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলা শব্দটি আসে তখনই ভেতরে এক ধরনের চেতনা কাজ করে। যে চেতনা মানুষকে দেশের প্রতি ভালোবাসায় আবদ্ধ করে। প্রতিনিয়ত নিজেকে আবিষ্কার করি নতুন করে।’
ছায়ানটের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত ও সম্মেলক গান দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্বোধনী আবৃত্তি পরিবেশন করেন কণ্ঠশীলনের বাকশিল্পীরা। এরপর বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। যা কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার থেকে টিএসসি হয়ে ঘুরে আসে। দুপুরের পর্বে কণ্ঠশীলন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ ও কথনপর্বের পরে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের শিল্পীরা। বিকেলে স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন নাট্যজন আলী যাকের। সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সমবেত সংগীতের পর ওয়াহিদুল হকের স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধায় আবৃত্তি পরিবেশন করেন কাজী মদিনা, ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর একক আবৃত্তি নিয়ে আসেন বাকশিল্পী বেলায়েত হোসেন, পারভেজ চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, ইকবাল খোরশেদ, মাসুদুজ্জামান, রবিশঙ্কর মৈত্রী, রেজীনা ওয়ালী লীনা, ফয়জুল আলম পাপপু ও মজুমদার বিপ্লব। সবশেষে ব্রতচারীর মনোমুগ্ধকর অভিপ্রদর্শনীর পর জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে প্রথমদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আজ শনিবার দ্বিতীয়দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল সাড়ে চারটায়।
ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের চতুর্থ বর্ষপূর্তি
ভারতীয় দূতাবাসের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হলো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কমেডি নাটক ‘শেষরক্ষা’। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণে মঞ্চে প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী এবং নাট্যজন আলী যাকের। নাটকের দল ‘নাট্যজন’ এটি মঞ্চস্থ করে।
ঢাকা ড্রামার ৩৭ বছর পূর্তি নাট্যোত্সব
শুক্রবার শুরু হলো ঢাকা ড্রামার ৩৭ বছর পূর্তি নাট্যোত্সব। বিকেলে শিল্পকলা একাডেমীর পরীক্ষণ থিয়েটার হলে চারদিনের এ উত্সবের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী এনামূল হক প্রমুখ। মঞ্চস্থ হয় ঢাকা ড্রামা প্রযোজিত তানভীর আহমেদ সিডনীর রচনা ও শাহদাত্ হোসেন নিপুর নির্দেশনায় নাটক ‘ছায়াবৃক্ষ’। আজ দ্বিতীয় দিনে সুবচন নাট্য সংসদের ‘মহাজনের নাও’, তৃতীয় দিনে আরণ্যক নাট্যদলের নাটক ‘কবর’ এবং শেষ দিন সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ‘শেষ সংলাপ’ মঞ্চস্থ হবে।
আউটসাইডার নাটকের কারিগরি মঞ্চায়ন
মঞ্চে এলো ঐতিহ্যবাহী নাট্যদল ঢাকা থিয়েটারের নতুন নাটক আউটসাইডার। শুক্রবার ছুটির সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটারে প্রযোজনাটির কারিগরি মঞ্চায়ন হয়। নোবেলজয়ী ফরাসি লেখক আলব্যের ক্যামুর বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য আউটসাইডার’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে নাটকটি। রুবাইয়াত্ আহমেদের বাংলা নাট্যরূপ থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে রূপ দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম, মিলু চৌধুরী, এশা ইউসুফ, জয়শ্রী মজুমদার লতা, সাজ্জাদুর সাজ, তরিকুল ইসলাম লিটন, তসলিমা চুমকি, হাসনাত মিথুন, মোস্তফা রতন, শাহজাদা সম্রাট, মাহমুদুর রাহমান, সউদ চৌধুরী ও সাজ্জাদ রাজীব।
