এক সময়ের উত্তাল কালাবদর নদী এখন সরু চ্যানেল হয়ে গেছে। আর তেঁতুলিয়া নদীর সিংহভাগ স্থানে চর পড়ে ভরাট হওয়ার পর যে চ্যানেলটি দিয়ে নৌ-যান যাতায়াত করতো সেখানে বাঁধ তৈরি করায় নদীর এখন মরণদশা। বাঁধের কারণে নৌ-যানগুলো দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে বরিশাল-ভোলা কিংবা লাহারহাট-ভেদুরিয়া হয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। এই পথটি ছাড়া নৌ বা সড়ক কোন পথেই বরিশাল-ভোলা যাতায়াতের উপায় নেই। দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে সময় ও জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ায় নৌ-যান মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীরা ক্ষুব্ধ। নদীর মাঝে প্রভাবশালীরা বাঁধ তৈরি করায় তা অপসারণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউ। বাঁধ তৈরির ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঐ চ্যানেলটিসহ প্রায় সব ক’টি চ্যানেল নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। বর্ষার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় বরিশাল-ভোলা নৌ-রুট চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানান নৌ-যান চালকরা। তারা বলেন, এভাবে নাব্যতা কমতে থাকলে যে কোন সময় এ রুটে নৌ-যান চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।
বরিশাল থেকে ভোলার দূরত্ব মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌ-পথ। এক যুগ আগে বরিশাল-ভোলা সড়ক চালু করা হলেও কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদী পার হওয়ার জন্য ফেরি পার হতে হয়। আগে এই ফেরি পার হতে সোয়া এক ঘন্টা সময় লাগতো। সব মিলিয়ে সড়ক পথে বরিশাল-ভোলা যাতায়াতে সময় লাগত সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টা। আর সরাসরি লঞ্চে সময় লাগত তিন ঘন্টা। এখন ঘুরপথে এক ঘন্টা সময় বেশি লাগছে। এর আগে দ্রুত যাতায়াতের স্বার্থে বিকল্প পথ বেছে নিতো যাত্রীরা। তারা সড়ক পথে বরিশাল থেকে লাহারহাট পর্যন্ত গিয়ে ফেরির পরিবর্তে স্প্রিডবোট অথবা ট্রলারযোগে পার হয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে যেতেন।
মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিয়া জানান, লাহারহাট-ভোলা-ভেদুরিয়া-লক্ষ্মীপুর ও ইলিশা রুটে যাতায়াতের একমাত্র সহজ মাধ্যম হচ্ছে স্প্রিডবোট। জনপ্রিয় এ নৌযানটির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। এরই অংশ হিসাবে আলিমাবাদ চ্যানেলে বাঁধ দেয়া হয়েছে।
লাহারহাট ফেরিঘাটের যাত্রীরা জানান, শুধু স্প্রিডবোট নয়, লঞ্চ, ট্রলার কোন কিছুই ঐ চ্যানেল দিয়ে এখন যাতায়াত করতে পারে না। ফেরির মত সকল ছোট বড় নৌ-যানকে দুই কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। নদীর মাঝে বাঁধ তৈরি করাকে অবৈধ দাবি করে স্প্রিডবোট ও ট্রলার মালিকরা জানান, এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অভিযোগ করা হলেও তারা কর্ণপাত করছে না।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলা হয়েছে, আমরা এই বাঁধ অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি। তবে জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল আলম জানান, আমাকে কোন চিঠি দেয়া হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে আলীমাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ছেলে রুবেল কাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শ্রীপুর বাজারসহ আলীমাবাদের অধিকাংশ এলাকাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কয়েক বছর আগে পার্শ্ববর্তী এলাকায় চর জেগে ওঠার পর মাঝখানে এ সরু চ্যানেলটি তৈরি হয়েছে। এখান দিয়ে নৌ-যান চলাচল করলে আবার নদী ভাঙ্গনের উপদ্রব হতে পারে তাই বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঐ চ্যানেলে নাব্যতা নেই। তাই ফেরিসহ ভারি নৌ-যান এমনিতেই চলাচল করে না। ছোট্ট নৌ-যানগুলো অন্য চ্যানেলে চলাচল করলে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে গ্রামবাসী রক্ষা পাবে।
