আন্না হাজারের ওপর চটেছেন মমতা!

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৪, ২২:৫১
ভারতের দুর্নীতিবিরোধী সমাজকর্মী আন্না হাজারের ওপর বেজায় চটেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। দিল্লির রামলীলা ময়দানের সমাবেশ দারুণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় এবং সমাবেশে যোগ না দেয়ায় মমতার এই চটার কারণ বলে জানা গেছে। তার রাগের বহি:প্রকাশ হিসেবে তিনি তার দলের কার্যালয় থেকে আন্নার সব পোস্টার সরিয়ে ফেলেছেন। ছবি সরিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি আন্নার সঙ্গে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল সেটিও বাতিল করেছেন তিনি। এদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, আন্না হাজারে বলেছেন, তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তবে আনন্দবাজার জানিয়েছে, গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে আন্না মমতার প্রশংসা করেছেন এবং সমাবেশে না যাওয়ার জন্য তার এক সহকর্মীর ওপর দোষ চাপিয়েছেন। দিল্লী জয়ে ব্যর্থ হয়ে মমতা ব্যানার্জি এখন পশ্চিমবঙ্গেই লোকসভা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। রাজ্যের তিনি প্রতিটি জেলা তিনি সফর করবেন। এমন কি যে আসনগুলো নিয়ে সন্দেহ রয়েছে সেই সব এলাকায়ও সফরে যাবেন তিনি যাবেন। অবশ্য বিভিন্ন নির্বাচনী জরিপে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মমতার তৃণমূল গত নির্বাচনের থেকে আরোও বেশি আসন পাবে এবং কংগ্রেস এবং সিপিআই (এম)-এর আসন কমে যাবে। গতকাল দিল্লী থেকে কলকাতা ফিরে যাওয়ার আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়কে মমতা নির্দেশ দেন, ১৮১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তৃণমূলের দফতরের বাইরে আন্নার যত ছবি-পোস্টার রয়েছে, সব সরিয়ে ফেলতে হবে। নির্দেশ অনুযায়ী রাতের মধ্যেই ‘আন্না মুক্ত’ করা হয় তৃণমূল দফতর। এই দফতরেই এসে গত মাসেই তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আন্না। তৃণমূল নেত্রী আন্না হাজারের বিরুদ্ধে বা দোষারোপ করে কিছু বলেন নাই ।তবে তিনি বলেছেন, আমি আন্না হাজারেকে চিনতাম না। তিনি প্রবীণ মানুষ। আমাদের সাহায্য চাইতে তিনি নিজে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, আন্নার কোনও রাজনৈতিক দল নেই। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। আমরা তাঁকে সমর্থন করছি। মা-মাটি-মানুষের স্বার্থে আমাদের আন্দোলনকেও তিনি সমর্থন করছেন। গত কালের ঘটনার পরে আন্নার সঙ্গে আর যোগাযোগও করেননি মমতা। আগামী ২০ মার্চ গুজরাটের আহমদাবাদে আন্নাকে সঙ্গে নিয়ে মমতার যে বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল, আপাতত তা বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আন্নার সঙ্গে মমতার বৈঠকের সম্ভাবনাও কম। আনন্দবাজার জানায়, রামলীলা ময়দানের সভা কার্যত ভণ্ডুল হওয়ার পর গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করলেন আন্না হজারে। পাশাপাশি সভা ভন্ডুল হওয়ার যাবতীয় দায় তাঁরই ঘনিষ্ঠ সহযোগী সন্তোষ ভারতীর উপর চাপিয়ে তাঁকে বিশ্বাসঘাতক বলেছেন এই প্রবীন সমাজ কর্মী। তবে মমতাকে সমর্থন করলেও তিনি যে তৃণমূলকে কোনও ভাবেই সমর্থন করছেন না তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন গান্ধীবাদী এই প্রবীণ নেতা। সহযোগীর প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে এবং মমতাকে ভুল বুঝিয়েছেন সন্তোষ ভারতী। আমাকে বলা হয়েছিল এটা মমতার সভা, অন্য দিকে মমতাকে বলা হয়েছিল এটা আমার সভা। রামলীলা ময়দানে মাত্র হাজার দু’য়েক মানুষের ভিড় দেখেই আমার সন্দেহ হয়। আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি।