পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অন্যদের দোষারোপ করার আগে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ, দেশ আমাদের, সমস্যাও আমাদের। তাই সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে। এ জন্য প্রথমেই প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক কর্মপরিকল্পনা। এরপর বিদেশের কাছে সাহায্য বা ক্ষতিপূরণের কথা ভাবতে হবে। অন্যথায়, পরিকল্পনা ছাড়া বিদেশি সাহায্যও ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।’ আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘টুওয়ার্ড বাইন্ডিং ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেশন রিজিম:অ্যা প্রপোসড ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের জন্য শুধু অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের ডালা মেলে লাভ নেই। নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে সমস্যা সমাধানের উপায় বের করতে হবে। যে নিজেকে নিজে সাহায্য করতে পারে না, সে অন্যদেরও কোনো সাহায্যে আসতে পারে না—আমি এই মতাদর্শে বিশ্বাসী। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এখন আমরা বিশ্বের অনেক দেশের নাম ধরে-ধরে অভিযুক্ত করছি, বলছি—তোমাদের অমুক শিল্প বন্ধ করো। কিন্তু যদি নিজেরা নিজেদের কাজটি না করি, তাহলে একসময় হয়তো ওই বিদেশিরাই বিপরীত কথা আমাদের বলবে।’
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর বিদেশিদের সাথে আমাদের কথা ছিল—তোমরা আমাদের কাঁচামাল নাও, সেগুলো দিয়ে পণ্য বানিয়ে আমাদেরও দাও, নিজেরাও ব্যবসা করো। শর্ত ছিল—তোমাদের জিডিপির একাংশ আমাদের দিতে হবে। কিন্তু সেখানে নিজেরা নিজেদের কাজ করতে পারিনি বলেই শেষ পর্যন্ত আমাদের ক্ষুদ্র-ঋণ ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। নিজেদের পুঁজি গড়তে পারিনি বলেই তো এটা হয়েছে। কাজেই পরিবেশ রক্ষায় আগে আমাদের ঠিক করতে হবে—আমরা কি করতে চাই।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এ জন্য আমি আমার মন্ত্রণালয়কেও বলেছি আগে বাস্তবমুখী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে। অন্যদের বোঝাতে সক্ষম হতে হবে যে, আমি নিজের দায়িত্বটি পালন করেছি। না হলে শুধু সাহায্যের দিকে তাকিয়ে থেকে কোনো ফল হবে না।’
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অপচয়ের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটা রোধে সবারই করণীয় আছে। যেমন হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পের দূষণ থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায় অর্থ উপার্যনের পাশাপাশি পরিবেশের কথা অবশ্যই ভাবতে হবে। ট্যানারি শিল্পের মালিকদের নিজেদেরই উদ্যোগী হয়ে দ্রুত এটা অন্যত্র সরানোর তাগিদ অনুভব করতে হবে। অন্যথায় দেশের ও মানুষের স্বার্থেই পরিবেশ মন্ত্রণালয় নিজের করণীয় ঠিক করবে। একই কথা ইটভাটার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, জুনের পর তাদের আধুনিক প্রযুক্তিতে ইট পোড়াতে হবে।’
নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মিজান রহমান রচিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর আ ন ম মেশকাত উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আমিন সরকার এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আইনুন নিশাত প্রমুখ।
