শুধু ছাপা অক্ষরে নয়, কবিকণ্ঠে কবিতা শোনার অভিজ্ঞতাটাও খুব উত্তেজনাকর। কিন্তু কবিতা পাঠের আসর তেমন আয়োজন হয় কোথায়। মাসিক পত্রিকা কালি ও কলম গতকাল যখন কবিদের নিয়ে কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করে তখন শ্রোতাদের উপস্থিতিতে ভরে ওঠে মিলনায়তন। আধুনিক কবিদের কবিতার নতুন পংক্তিমালা শ্রোতাদের আনন্দ দিয়েছে। তাদের মনে ছড়িয়ে দিয়েছে নতুন প্রশ্ন, নতুন ভাবনা। এই ব্যস্ত পৃথিবীতে আজও তরুণ কবিদের কবিতা থেকে হারিয়ে যায়নি প্রেম। বিরহ বেদনায় কাতরতা উঠে আসে তাদের পংক্তিতে। কবি পিয়াস মজিদ তার ‘কবি’ কবিতায় উচ্চারণ করলেন, ‘যুক্তাক্ষরময় পৃথিবীতে তুমিই একমাত্র সোজাসাপ্টা ব্যথা।’ তোমার গিলোটিনে কবিতায় বললেন, ‘তারপর বনভূমির সবুজ মোহর/ এবং কালো কোয়েলিয়া সাথে নিয়ে/ আমি যাব তোমার গিলোটিনে/ হব বসন্তবলি।’
কবি টোকন ঠাকুর তার ‘উত্তরের হাওয়া’ কবিতায় উচ্চারণ করলেন, ‘বন থেকে প্রকাশিত দৈনিক ঝরাপাতা — কারা তাতে লেখে আর কারাই বা পাঠক পাঠিকা? কার কাছে বলা যায় — উত্তরের হাওয়া আসে গুপ্তচর হয়ে?’ এক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেন কবি। শ্রোতা বুঁদ হয়ে সেই ভাবনায় বুঁদ হয়। সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক মাসিক পত্রিকা কালি ও কলমের দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে ‘কবিতা কথনে’র আয়োজন করেছিল। এটি ছিল কবিতা পাঠের ধারাবাহিক এ আয়োজনের সপ্তম আসর। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালি ও কলম পত্রিকার সম্পাদক কবি আবুল হাসনাত।
গতকালের এ অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি আসাদ চৌধুরী, মিনার মনসুর, হায়াত্ সাইফ, এম আজিজুর রহমান, ফারুক আলমগীর, বায়তুল্লাহ কাদেরী, ফরিদ আহমেদ দুলাল, কাজী রোজী, শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, পিয়াস মজিদ, টোকন ঠাকুর, জাহিদ হায়দার, বুলবুল মহলানবীশ এবং শামসুল আরেফিনসহ দেশের স্বনামধন্য কবিগণ।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় দুইদিনের ‘ওয়াহিদুল হক স্মারক দেশঘরের গান’ উত্সবের সমাপনী ছিল শনিবার। এদিন দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানমালার প্রথম অংশে ছিল আঞ্চলিক গানের পরিবেশনা। শুরুতেই নোয়াখালী জেলার গান পরিবেশন করেন বেলাল হোসেন। তার গানের রেশ কাটতে না কাটতেই বগুড়া জেলার গান কণ্ঠে ধারণ করেন জয়নব তাবাস্সুম বানু ( সোনালী)। তার গানের পর মঞ্চে আসেন বরিশালের শহিদুজ্জামান মামুন। আঞ্চলিক গানের পরিবেশনা শেষ হয় পরেশচন্দ্র মন্ডলের কণ্ঠে পটুয়াখালী জেলার গান দিয়ে। সবশেষে ময়মনসিংহ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশন করে পালাগান ‘মহুয়া সুন্দরী’। ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি, বাজাও আপন সুর’ — স্লোগান নিয়ে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোত্সব শেষ হলো গতকাল। জনতা ব্যাংকের সহযোগিতায় উত্সবের শেষ দিন বিকালে কল্যাণপরম্পরার সমবেত সঙ্গীত দিয়ে শুরু হয়। এরপর কল্পরেখার শিশুদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। ওয়াহিদুল হকের স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধায় আবৃত্তি পরিবেশন করেন কবি রফিক আজাদ, আবৃত্তি শিল্পী আশরাফুল আলম ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। এরপর নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসেন নৃত্য নন্দন পরিচালনায় শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্সবের বিশেষ পরিবেশনা কণ্ঠশীলন সদস্যরা ওয়াহিদুল হকের কণ্ঠশীলন নিয়ে ভাবনা, তার কাজ নিয়ে কথন, স্মৃতিচারণ ও আবৃত্তি করেন মীর বরকত, গোলাম সারোয়ার, এনায়েত কাজল, জহিরুল হক খান, রইস উল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, বিলকিস আহমদ, নমিতা খান, নরোত্তম হালদার ও ইলা রহমান। একক আবৃত্তির পর্বে আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ, ডালিয়া আহমেদ, এনামুল হক বাবু, শিমুল মুস্তাফা, মাশকুর-এ সাত্তার কল্লোল, মাহিদুল ইসলাম, সামসুদ্দোহা, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি, ফয়জুল্লাহ সাঈদ এবং তামান্না তিথি। সবশেষে বাবুল বাউল এর পরিচালনায় অচিন পাখি বাউল সমিতি, বাউল সঙ্গীত নিয়ে মঞ্চে আসেন। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোত্সবের এই মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে।
মুক্তিযুদ্ধের কবিতা পাঠের আসর : রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের এ এফ মাহমুদ হলে শনিবার বসেছিল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পূর্তি ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করে ঘাসফুল। আসরে স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন বেলাল চৌধুরী, অরুনাভ সরকার, মুহম্মদ নুরুল হুদা, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, খায়রুল আলম সবুজ, মাসুক চৌধুরী, ফারুক মাহমুদ, হাসান হাফিজ, লিলি হক, আবু হাসান শাহরিয়ার, মঞ্জুর রহমান, মারুফ রায়হান, আলম তালুকদার, জুনান নাশিত, পারভীন, ফরিদ আহমেদ দুলাল প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় কবি শামসুর রাহমানের ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ কবিতাটি নাজমুল আহসানে কণ্ঠে আবৃত্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আসরের সভাপতি অধ্যাপক ড. হায়াত্ মামুদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঘাসফুলের পক্ষে রওনক সুলতানা। ‘মুক্তিযুদ্ধে কবিতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন কথাশিল্পী আতা সরকার।
‘খনা’র ৪২ তম মঞ্চায়ন : শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে শনিবার মঞ্চস্থ হয় বটতলা প্রযোজনা-৩ ‘খনা’। নাটকটি রচনা করেছেন সামিনা লুত্ফা নিত্রা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার। অভিনয় করেন —ইমরান খান মুন্না, তৌফিক হাসান, আব্দুস সালাম, মিজানুর রহমান, আব্দুল কাদের, সামিনা লুত্ফা নিত্রা, খালিদ হাসান রুমী, চন্দন পাল, হুমায়রা আক্তার, ব্রাত্য আমীন, শারমিন ইতি, জিয়াউল আবেদীন রাখাল, বাকিরুল ইসলাম, ইভান রিয়াজ, সেউতি শাহগুফতা, সৌরভ আসলাম, পঙ্কজ মজুমদার, সৌম্য সরকার ও কাজী রোকসানা রুমা।
