জয়ের ক্ষুধাই মুশফিকদের অনুপ্রেরণা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৪, ২২:২৪
‘আমাদের দলটি এখন আরো আক্রমণাত্মক ও ক্ষুধার্ত হয়ে আছে জয়ের জন্য। আমাদের সে অর্থে এখন শূন্য থেকে লড়াই শুরু করতে হচ্ছে। এর চেয়ে বড় মোটিভেশন আর কী হতে পারে!’ অনুশীলনের শুরু গা গরম করে নিতে ফুটবল নিয়ে একটু কসরত করাটা ক্রিকেটের এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকালও সেটা হল—নিয়মটা হল পা দিয়ে নয়, মাথা দিয়ে লক্ষ্যে বল পাঠাতে হবে। সাকিবের কাছে বল আসতেই একেবারে জিনেদিন জিদানের মতো লাফ দিয়ে উঠে মাথা ঝাঁকি দিয়ে বল পাঠিয়ে দিলেন রুবেলের কাছে। বাকী সতীর্থরা এমনভাবে উল্লাস করে উঠলেন, মনে হল আবার কিছু একটা জিতে গেছে বাংলাদেশ। নিশ্চয়ই আজ সত্যি সত্যি জয়ের পর সাকিবদের কাছ থেকে এমন উল্লাস আশা করবে পুরো বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, বাংলাদেশের সমর্থকরা যেমন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাত বছর পর আরেকটা জয় দেখতে মুখিয়ে আছেন; তেমনই জয়ের জন্য তীব্র ক্ষুধা নিয়েই অপেক্ষা করছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। মুশফিক পরিষ্কার করে বললেন, ‘গত তিন মাস ধরে আপনারা দেখেছেন, আমরা অনেক পরিশ্রম করছি, কিন্তু জয় পাচ্ছি না। আমাদের দলটি এখন আরো আক্রমণাত্মক ও ক্ষুধার্ত হয়ে আছে জয়ের জন্য। আমাদের সে অর্থে এখন শূন্য থেকে লড়াই শুরু করতে হচ্ছে। এর চেয়ে বড় মোটিভেশন আর কী হতে পারে!’ এই ক্ষুধার নিবৃত্তি ঘটাতে চাইলে প্রথমেই আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষেই জয়টা পেতে হবে, তাতে সন্দেহ নেই। আফগানিস্তান অধিনায়ক নিজে অবশ্য বলে গেলেন, তার দল অন্য ফরম্যাটের চেয়েও টি-টোয়েন্টিতে ভালো বলে তারা আশাবাদী। মুশফিক এই কথায় খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইলেন না। শুষ্ক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এরকম কথায় ‘হ্যাঁ’ বলার চেয়ে মুশফিক বরং বললেন, এই ফরম্যাটে আসলে সবার জন্য সুযোগটা সমান থাকে, তাই তারা আফগানিস্তানের বিপক্ষে বেশী সতর্ক। আফগানদের শক্তি-দুর্বলতা দুটোই তাদের এখন জানা হয়ে গেছে উল্লেখ করে মুশফিক বললেন, ‘আফগানিস্তানই গ্রুপের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ, তা তো নয়। এটা টি-২০ ফরম্যাট। আফগানিস্তান কেন, আমার তো মনে হয় হংকংও অনেক শক্ত দল। নির্দিষ্ট দিনে এই শর্টার ভার্সনে এক-দু’জন ভালো খেললেই যে কোনো দল ম্যাচ বের করে আনতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় বিশ্বাস আছে আমাদের দলের উপর। আমরা জানি ওরা কেমন খেলে, আমরাও জানি ওদের দুর্বল দিক কী। ফলে ওদের নিয়ে বাড়তি চিন্তায় নেই আমরা।’ সাধারণত এসব ম্যাচের আগে সৌজন্য করে সবাই প্রতিপক্ষকে এগিয়ে রাখা কথাবার্তা বলে। মুশফিক সৌজন্য করলেন অনেক। তবে যখন দু’দলের তুলনার প্রশ্ন এলো, খুব রাখঢাক না করেই বলে দিলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটীয় দিক থেকে বেশ এগিয়ে। আফগানিস্তানের রেকর্ড ভালো, এটার জবাব দিতে গিয়েই বললেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আগে থেকে ফেবারিট হিসাব করা কঠিন। হ্যাঁ, তারা ভাবতে পারে, রেকর্ডের কারণে তারা এগিয়ে আছে। ওরা আমাদের চেয়ে হয়তো বেশি টি- টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের কথা যদি বলেন ওদের চেয়ে সেটা সামলানোর আমাদের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। ক্রিকেটীয় স্কিলেও বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে।’ আর এসব কথাবার্তা, এই জয়ের জন্য ক্ষুধার্থ হয়ে থাকা; এসব কিছুরই কাঙ্ক্ষিত পরিণতি একটাই—জয়। দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এমন সুযোগ হয়তো অনেকদিনের মধ্যে আর আসবে না। তাই এই জয়ের জন্য সবাই মুখিয়ে আছে। আর এই মুখিয়ে থাকাটা বাড়তি চাপ হয়ে যাওয়ার ভয়ও থাকে। মুশফিক অবশ্য বাড়তি চাপের ব্যাপারটা উড়িয়ে দিতে চাইলেন। বরং সাপের চেয়ে এই প্রত্যাশাটা সমর্থন হয়ে তাদের উপকৃত করবে বলেই বিশ্বাস তার, ‘আমার তো মনে হয় না খুব বেশি চাপ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আপনি যখনই খেলবেন চাপ তো থাকবেই। আর চাপের কথাটা আসছে কারণ, বাংলাদেশ শেষ দুই বছর ভালো খেলে এই সম্মানটা অর্জন করেছে। তাই আমার মনে হয়, প্রত্যাশা থেকে যে চাপটা এসেছে সেটা থাকবেই। আমরা ওইভাবে চেষ্টা করছি যেন ওই প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা পারফর্ম করতে পারি। চাপের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হোম গ্রাউন্ড, আমাদের সাপোর্টও অন্যরকম থাকবে। এবং আশা করছি এই সাপোর্টটা নিয়ে আমরা যেন কালকে জয় দিয়ে শুরু করতে পারি।’ সেই আশা পুরো বাংলাদেশের।