এশিয়া কাপের চার ম্যাচে দুটিতে হার। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাজে এক সিরিজ। এর চেয়েও বড় কথা, ২০১৩ সালে ভারত খেলেছে মোটে একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তাই সব মিলিয়ে লড়াইটা যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তখন, অনেকটা ব্যাকফুটেই আছে ভারত।
সেই হতাশা কাটিয়ে নতুন করে শুরু করার জন্য মুখিয়ে আছে ভারতীয় ক্রিকেটাররা। গতকাল শনিবার ওপেন সেশনে আসা চার ক্রিকেটার সব ভুলে নতুন করে শুরু করারই ঘোষণা দিলেন।
আগামী শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নামবে ভারত। গত শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছানো ভারতীয় দল গতকাল বিকালে মিরপুরে অনুশীলন সারে। এর আগে সকালে গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন চার ক্রিকেটার। প্রত্যেকের কণ্ঠেই নতুন শুরুর তাড়না। বিরাট কোহলি বলেন, ‘আমাদের দলটা অনেক নবীন। এশিয়া কাপে আমাদের পারফরম্যান্স যে খুব খারাপ হয়েছে সেটা আমি বলবো না। আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য প্রথমতো অনুশীলন ম্যাচগুলোতে ভাল করতে হবে। একটা সুবিধা হল কন্ডিশনের ব্যাপারে আমাদের পুরোপুরি ধারণা আছে। আশা করি টুর্নামেন্টটা আমাদের জন্য রোমাঞ্চকর হবে। আমরা সব ভুলে নতুন করে শুরু করতে চাই।’
বিরাট কোহলির সাথে গলা মেলালেন দলের আরেক সদস্য রহিত শর্মা, ‘আমাদের প্রস্তুতি ম্যাচে ভাল করে নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগাতে হবে। আমরা বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য প্রস্তুত।’
বিশ্বকাপ মিশনে ভারতের সামনে প্রথম বাধা পাকিস্তান। শুরুর ম্যাচে জয় দিয়েই শুরু করতে চায় ভারত। রহিত শর্মা বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে জিতলে আমাদের মধ্যে ছন্দ ফিরে আসবে। প্রথম ম্যাচটা পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জেতাটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মানে এই নয় যে, আমরা বাকি ম্যাচগুলোকে খুব হালকাভাবে দেখছি। প্রতিপক্ষ যেই হোক, প্রত্যেকের বিপক্ষেই আমরা সমান গুরুত্ব দিয়েই খেলবো।’
প্রতিপক্ষ নয়, বরং নিজেদের শক্তিমত্তা নিয়েই বেশি কাজ করছে ভারত। এই প্রসঙ্গে আজিঙ্কা রাহানে বলেন, ‘আমাদের নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়ানোর দিকেই বেশি জোর দিচ্ছি। বিপক্ষ দলের কে আছে কে নেই সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না।’
প্রায় একই রকম কথা বলেন বিরাট কোহলিও, ‘প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন আমাদের অবশ্যই ভাল খেলেই জিততে হবে। কার বিরুদ্ধে আমাদের রেকর্ড কেমন সেটা নিয়ে ভেবে কোন লাভ নেই।’
এশিয়া কাপের বাজে পারফরম্যান্সের জের ধরে বেশ তোপের মুখেই আছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। সে কারণেই কিনা ছন্দে ফিরতে আরও কিছু সময় চাইলেন বিরাট কোহলি, ‘আমাদের দলের অভিজ্ঞতা অনেক কম। কেউ এসেই এভিডি ভিলিয়ার্স কিংবা মাইকেল ক্লার্কের মতো ব্যাটিং করতে পারবে না। সবাই শুরুতেই ফলাফলের আশা করে। কিন্তু আমি দলের হয়ে সবার কাছে কিছুটা সময় চাইবো। টি-টোয়েন্টির ধরনের কারণেই এখানে যখন-তখন সবাই ভাল করতে পারে না। এখানে থিতু হতে সময় লাগে। এটা পুরোটাই উপভোগের ব্যাপার।’
২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের প্রথম শিরোপা জিতেছিল ভারত। এবার আবারও সম্ভব কিনা? এমন এক প্রশ্নের জবাবে সে দলের সদস্য রহিত শর্মা বলেন, ‘তখন সময়টা অন্যরকম ছিল। এর মাঝে অনেক সময় কেটে গেছে। আমরাও অনেক অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছি। নিজেদের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করলে এবারও ভাল ফলাফল সম্ভব।’
